আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
60 views
in পবিত্রতা (Purity) by (14 points)
edited by

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ
আমার প্রতিমাসে ৭ দিন লাল রঙের হায়েজ হয়।এই ৭ দিনের পরে থেকে ১২তম দিন/১৪তম দিন পর্যন্ত  খুবই নগন্য পরিমাণে হালকা হলুদ রঙের স্রাব আসে।পুরোপুরি সাদা স্রাব ১৫তম দিন বা তার দুই -এক দিন আগে পরে দেখা যায়।

 

১.এমতাবস্থায় আমি যদি পূর্বের মাসের অভ্যাস অনুযায়ী ৮ দিন হায়েজ ধরে ফরজ গোসল করে আসি,এরপরে যোহর পরি,, এরপরে আবার আসরের ওয়াক্তে মেটে রঙের হায়েজ দেখি..তখন কি এই অবস্থাতেই আবার ওযু করে এসে নামাজ পড়বো?নাকি নামাজ পড়তে হবেনা??

২.এরপর আবার মাগরিবের ওয়াক্তে প্রস্রাবের রাস্তায় কোনো হায়েজ ছিল না ।তখন কি আবার গোসল ফরজ হবে?ইস্তিহাযা অবস্থায় ফরজ গোসল কয়বার করতে হয়?

৩.এই অবস্থায় সহবাস করা জায়েজ? নাকি ১০ দিন অবধি অপেক্ষা করতে হবে?

আসলে এই হায়েজ-ইস্তিহাযা বিষয় নিয়ে দিশেহারা অবস্থা! অনুগ্রহ করে সঠিকটা জানানোর অনুরোধ.. 

1 Answer

0 votes
by (804,930 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হায়েযের সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬) তথা সাদা রং ব্যতীত সকলপ্রকার রং ই হায়েযের অন্তর্ভুক্ত।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে,
فَإِنْ لَمْ يُجَاوِزْ الْعَشَرَةَ فَالطُّهْرُ وَالدَّمُ كِلَاهُمَا حَيْضٌ سَوَاءٌ كَانَتْ مُبْتَدَأَةً أَوْ مُعْتَادَةً وَإِنْ جَاوَزَ الْعَشَرَةَ فَفِي الْمُبْتَدَأَةِ حَيْضُهَا عَشَرَةُ أَيَّامٍ وَفِي الْمُعْتَادَةِ مَعْرُوفَتُهَا فِي الْحَيْضِ حَيْضٌ وَالطُّهْرُ طُهْرٌ. هَكَذَا فِي السِّرَاجِ الْوَهَّاجِ. «الفتاوى الهندية» (1/ 37)
মাঝেমধ্যে হায়েয হওয়া আবার মাঝেমধ্যে বন্ধ হওয়া, দশ দিনের ভিতর সবকিছুই হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।চায় এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন ঐ মহিলা প্রথমবার হোক বা এ ব্যাপারে অভ্যস্ত থাকুক। যদি রক্তস্রাব দশদিন অতিক্রম করে যায়, তাহলে প্রথমবার এ পরিস্থিতির সম্মুখিন মহিলার জন্য দশদিন হায়েয। আর কোনো এক সংখ্যায় আদত ওয়ালী মহিলার জন্য তার পূর্বের আদতই হায়েয় এবং বাদবাকী সময় তুহুর।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩৭, কিতাবুল-ফাতাওয়া-২/১০৮, কিতাবুন-নাওয়াযিল-৩/১৭২) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/7474


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) এমতাবস্থায় আপনি পূর্বের মাসের অভ্যাস অনুযায়ী ৮ দিন হায়েয ধরে ফরজ গোসল করে পবিত্র হয়ে যাবেন। অতঃপর  আসরের সময় মেটে রঙের দেখলে অপেক্ষা করবেন। যদি ১০ দিনের ভিতর রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সম্পূর্ণ সময়টাকেই হায়েয ধরবেন। আর ১০ দিন পেরিয়ে গেলে পূর্বের আদত যতদিনে ততদিনকে হায়েয ধরবেন। এবং অতিরিক্ত দিন সমূহকে ইস্তেহাযা গণনা করবেন।

(২) এরপর আবার মাগরিবের ওয়াক্তে রক্তস্রাব না হলে আর গোসল করতে হবে না। 

(৩) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/109381


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...