আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
113 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (7 points)
আসসালামু আলাইকুম,  আমার হাসবেন্ড অনেক নারির সাথে পরোকিয়া জিনার সম্পর্কে জরিত আছে, মাঝে মাঝে বন্ধুদের সাথে মদ ভিয়ার ও খায়, সে সুদের কারবারের সাথে জরিত ছিলো বিয়ের আগে আমি তা জানতাম না, বিয়ের ২ বছর পর জানতে পারি,  তখন থেকে এগুলো নিয়ে আমি কিছু বললে সে অনেক মারধর করে, ঝগড়ার সময় তার বলা কথা গুলো রেকর্ড করে না, কিন্তু আমার বলা কথা গুলো রেকর্ড করে অন্নদের কাছে সুনায়, আমাকে দোষী প্রমান করে, অনেক সময় তার মাইর এর হাত থেকে বাচতে তাকে ছাড়ানোর চেস্টায় অনেক সময় হাতের নখ লেগে গেলে তার শরীরে, সেগুলো সে ছবি তুলে সবাই কে দেখায় আমি তার গায়ে হাত তুলেছি, কিছুদিন আগে সে আমার শরীরে থাকা অরনা দিয়ে আমার গলায় এমন ভাবে পেচ দেয় যে আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়,  এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে তাকে ছাড়ানোর জন্য মুখে হাত দেই তখন গালে গলায় নখ লেগে যায় সেগুলো দেখিয়ে সে আমার নামে থানায় মামলা করে, আরেকবার সে লাঠি দিয়ে বাড়ি দিয়ে আমার কপাল কেটে ফেলে সেখানে ৬ টা সিলি লেগেছিলো, এভাবে বিভিন্ন সময় অনেক অত্যাচার জুলুম করে সে আর তার ৩ বোন, ৬ ভাগিনা ভাগনি মিলে, আমি প্রতিবাদ করতে গেলে সবার সামনে আমাকে খারাপ বানায়, মানুষের সামনে আমার নামে মিথ্যা মিথ্যা অপবাদ দেয়, যেগুলো সে করে সেগুলো আমার কাছে অনেক প্রমান থাকায় সে সেগুলোর উলটা দোষ দেয় আমার নামে, আমার চরিত্রের উপর দেয়, আমার শেলাই মেশিনে কাজ করে জমানো টাকা কে সে সুদের টাকা বলে,  এমন আরও অনেক অনেক মিথ্যা অপবাদ দেয়, আমার বিয়ের ৯ বছর চলে, ৮ বছরের একটা ছেলে, আর ৪ বছরের একটা মেয়ে আছে, আমি অদের মুখের দিকে তাকিয়ে কঠিন কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা, অপর দিকে তার দেওয়া এত্ত এত্ত মিথ্যা অপবাদ ও সহ্য করতে পারছিনা, আমি মানুষিক ভাবে খুভ ভেংগে পরেছি, আমি এখন কি করতে পারি?? এই বিষয় হাদিস কুরআন এ কি সমাধান আছে আমি একটু জানতে চাচ্ছি. আমি কি  একজন অসহায় নারী বা অসহায় মা হিসাবে আমার Iom মাদ্রাসা থেকে কোন হেল্প পেতে পারি? আমার বাবার বাড়ির আথিক অবস্থা খুভ খারাপ, সেখানেও দুই সন্তান নিয়ে অঠা সম্ভব না.  আমাকে কি কোন ভাবে হেল্প করা যায় যাতে স্বামীর থেকে আলাদা হয়ে সন্তান দেরকে নিয়ে সম্মানের সাথে হালাল কোন ইনকাম করে ভালো থাকতে পারি?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ    
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ [٢٤:٣٠] 

মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।
(সুরা নুর ৩০)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।

فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُزِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, চোখের জিনা হল [হারাম] দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, [গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক] কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহবার জিনা হল, [গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক] কথোপকথন। হাতের জিনা হল, [গায়রে মাহরামকে] ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হল, [খারাপ উদ্দেশ্যে] চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় [যদি জিনা করে] এবং মিথ্যা পরিণত করে [যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে]। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২}
  
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত স্বামীর কাজ স্পষ্ট হারাম ও জুলুম।

তিনি আপনার ওপর অনেক জুলুম করেছেন, অনেক অন্যায় করেছেন, তার এ ধরনের অন্যায় ও জুলুম ক্ষমার অযোগ্য।

এক্ষেত্রে আপনি যে ধরনের সহযোগিতা চাচ্ছেন এ ধরনের সহযোগিতা দেয়ার সুযোগ এখানে আছে কিনা,সেই বিষয়ে জানতে আপনি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

তবে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ হতে আপনার জন্য যা করণীয়, তা আমরা বলে দিতে পারি।

এক্ষেত্রে আপনার জন্য করনীয় হলোঃ 
বুদ্ধিমত্তার সাথে তাকে ধীরে ধীরে এ অন্যায় থেকে ফিরিয়ে আনবে। তাকে সন্দেহ বা দুর্ব্যবহারের চেয়ে কৌশলে ফিরিয়ে আনাই অধিক কার্যকর।

তার সাথে ভালো আচরণ করতে হবে।
স্বামী স্ত্রীর স্বাভাবিক সম্পর্কের জন্য যৌন আচরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীকে স্বামীর যৌন চাহিদার প্রতি অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। তাকে যৌন চাহিদা ও পরিতৃপ্তির উপর লক্ষ্য রাখতে হবে। 
সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে চেষ্টা করতে হবে
আপনার স্বামীকে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে হবে।
দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনতে পাঠাতে পারেন।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি ও আপনার সন্তানেরা সকলে মিলে যথাযথ ভাবে তাকে বুঝাবেন,পরকালের শাস্তির ব্যাপারে বুঝাবেন,নিজের পরিবারের মুরব্বিদের মাধ্যমে তাকে বুঝাবেন।

প্রয়োজনে তার পরিবারের মুরব্বি/এলাকার মুরব্বিদের মাধ্যমেও তাকে বুঝাতে পারেন।

সকলে মিলে তাকে অবশ্যই এই পরকিয়া থেকে হটানোর যথাযথ চেষ্টা করবেন।
পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন।

গায়রে মাহরাম মেয়েদের সাথে কথা বলা,যোগাযোগ  করার যাবতীয় রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।

স্ত্রী হিসেবে আপনার আরো অনেক করনীয় রয়েছে,সে সম্পর্কে জানুনঃ- 

আপনি তাকে পূর্ণ ভালবাসা প্রদাণ করুন।তার সাথে যথেষ্ট মায়াবী আচরন করুন।তার সামনে সু-সজ্জিত হয়ে আসুন।এবং প্রথম দিনের মত তাকে আগ্রহ ভরে দেখুন।এবং সাথে সাথে তাকে আখেরাতের ভয় প্রদর্শন করুন।বা ইসলামী বিধি-বিধান সম্পর্কে সম্মক অবগত করানোর চেষ্টা করুন।

এ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন--https://www.ifatwa.info/295
https://www.ifatwa.info/121349/

https://www.ifatwa.info/122882/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
(১) নেককার স্বামী/স্ত্রী পাওয়া এবং সুস্থ সবল সন্তানের পিতা-মাতা হওয়া, বান্দার উপর আল্লাহ তা'আলার এক বিশেষ নেয়ামত।এজন্য প্রত্যেক স্বামী/স্ত্রী এর জন্য মহান রবের শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ।এ বিশেষ নেয়ামতের অকৃতজ্ঞা প্রকাশ করার অর্থই হল নিজের জীবনকে বিপর্যয়ের দিকে ঢেলে দেয়া।

আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ﻭَﺇِﺫْ ﺗَﺄَﺫَّﻥَ ﺭَﺑُّﻜُﻢْ ﻟَﺌِﻦ ﺷَﻜَﺮْﺗُﻢْ ﻷَﺯِﻳﺪَﻧَّﻜُﻢْ ﻭَﻟَﺌِﻦ ﻛَﻔَﺮْﺗُﻢْ ﺇِﻥَّ ﻋَﺬَﺍﺑِﻲ ﻟَﺸَﺪِﻳﺪٌ
যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর। (সূরা ইবরাহিম-৭)

(২) যেহেতু আপনার স্বামী এখনো আপনার সাথে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। বিচ্ছেদের আলোচনা করছেন না বা সেদিকে অগ্রসর হচ্ছেন না।এটা প্রমাণ করে সে আপনাকে ভালবাসে।হয়তো কোনো কারণে সে পরকিয়ায় লিপ্ত রয়েছে।তাই আমি মনে করি যে, আপনি তাকে পূর্ণ ভালবাসা প্রদাণ করুন।তার সাথে যথেষ্ট মায়াবী আচরন করুন।তার সামনে সু-সজ্জিত হয়ে আসুন।এবং প্রথম দিনের মত তাকে আগ্রহ ভরে দেখুন।এবং সাথে সাথে তাকে আখেরাতের ভয় প্রদর্শন করুন।বা ইসলামী বিধি-বিধান সম্পর্কে সম্মক অবগত করানোর চেষ্টা করুন।

আরো করনীয়ঃ
(ক) আপনার স্বামীর পরকিয়া সম্পর্কে অন্য কাউকে জানাবেন না।কেননা গোনাহে গোপন রাখা ওয়াজিব।তাই গোপন রাখার চেষ্টা করুন।
(খ) পূর্ণ আগ্রহের সাথে তাকে সময় দিন।তাকে কখনো একা ছেড়ে দিবেন না।বরং সর্বদা তার সাথে লেগে থাকুন।তার সকল প্রকার পছন্দের জিনিষকে নিজের পছন্দ বানিয়ে তার সাথে সর্বদা থাকার চেষ্টা করুন।
(গ) তার হেদায়তের জন্য দু'আ করতে থাকুন।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1205
,
কোনো কিছুতেই কাজ না হলে সেক্ষেত্রে আপনি যদি আর তার সাথে ঘর সংসার করতে না চান,তাহলে তালাকের আবেদন করতে পারেন।

স্বামী তালাক না দিলে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে খোলা তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারবেন।    

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ
    
وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَن يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ [٢:٢٢٩]

আর নিজের দেয়া সম্পদ থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য জায়েয নয় তাদের কাছ থেকে।
কিন্তু যে ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই এ ব্যাপারে ভয় করে যে,তারা আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, অতঃপর যদি তোমাদের ভয় হয় যে,তারা উভয়েই আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, তাহলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি বিনিময় দিয়ে অব্যাহতি নিয়ে নেয়,তবে উভয়ের মধ্যে কারোরই কোন পাপ নেই। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা। কাজেই একে অতিক্রম করো না। বস্তুতঃ যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে,তারাই জালেম। [সূরা বাকারা-২২৯]

আরো জানুনঃ 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...