আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
135 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (5 points)
আমার ২ স্ত্রী বর্তমান। আর্থিক সংকটের কারনে এক ফ্লাটে ভিন্ন ২রুমে তাদের রেখেছি। উভয়ের রুমের ই আলাদা প্রবেশ পথ আছে। এক ফ্লাটেও হলেও তাদের রুম উত্তর - দক্ষিন। মাঝে গেস্ট রুম,রান্নাঘর,কিচেন।
তাদের হকের ব্যাপারে আমি কখনো অবহেলা করি নি।
তারা এক ফ্লাটে অবস্থানের ব্যাপারে দ্বিমত করলেও দ্বীনের স্বার্থে,আমার বর্তমান আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় স্ত্রী সন্তানদের একসাথে নিয়ে থাকতে চেয়েছি। আমি তাদের এক সাথে থাকার ব্যাপারে অনুরোধ করি। আর্থিক স্বচ্ছলতা হলে আলাদা ফ্লাট নিব বলেও আশ্বস্ত করি।

আমার বড় স্ত্রীর আখলাকগত বা জিন যাদু সমস্যার কারনে তিনি আমার সাথে কখনো কখনো খুবই বাজে ব্যবহার করেন। যদিও ওই ঘটনার পরে তিনি এমন স্বেচ্ছায় করেননি বলে মাফ চেয়ে নেয় আমার থেকে।
যদিও তার উচ্চবাচ্চ্য আমার ছোট স্ত্রী নেগেটিভ ভাবে নেয়।
এমন পরিস্থিতিতে আমি আমার ছোট স্ত্রীকে বাড়িতে ১৫/২০ দিনের জন্য রেখে আসি। এরপর হঠাৎ সে আমার বাসায় আসবে না বলে জানায়। এর আগে ২ মাস আগেও সে তার গোপনে আমাকে না জানিয়ে আমার বাসা থেকে তার বাড়িতে চলে যায়। বারবার অনুরোধ, আল্লাহর ভয় দেখায়েও না আসায় আমি তাকে ১ তালাক দেই। এরপর আমিই তাকে বাচ্চার কথা ভেবে বাড়ি থেকে নিয়ে আসি। নতুন বাসা নেই যেখানে দুই রুমের মাঝে দূরত্ব প্রায় ৭০/৮০ ফুট এবং আলাদা প্রবেশপথ।
এবারও আমি তাকে আল্লাহর অবাধ্যতায় আমার অনুমতি ছাড়া নিজের বাড়িতে থাকার মত গুনাহের ব্যপারে সতর্ক করেছি। উল্লেখ্য তার বাড়িতে দায়িত্বশীল কোনো মাহরাম নেই।
এমতাবস্থায় আমার করনীয় কি? স্ত্রীদের দ্বারা এভাবে মানসিক আঘাতে আমি ক্লান্ত, অথচ তাদের দ্বীনের জন্য আমি দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি তাদের একটু ভালো রাখার জন্য।

1 Answer

0 votes
by (763,650 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান হলো, স্ত্রী গরিব হোক বা ধনী। অসুস্থ হোক সুস্থ। বৃদ্ধা হোক বা যুবতী,সর্বাবস্থায় স্ত্রীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব স্বামীর ওপর। এমনকি স্বামীর অনুমতিক্রমে স্ত্রী তার বাবার বাড়ি থাকলেও ভরণ-পোষণের অধিকারী হবে।

তবে স্বামীর অবাধ্য হয়ে স্ত্রী পিত্রালয়ে বা অন্য কোথাও চলে গেলে ভরণ-পোষণের অধিকারী হবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 

، اتَّقُوا اللَّهَ فِي النِّسَاءِ، فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانَةِ اللَّهِ، وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ، وَإِنَّ لَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ، أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ، فَإِنْ فَعَلْنَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ، وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ،

তোমরা নারীদের সম্পর্কে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা তাদেরকে তোমরা আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছো এবং আল্লাহর বিধান মোতাবেক তোমরা তাদের লজ্জাস্থানকে নিজেদের জন্য হালাল করেছো। তাদের উপর তোমাদের অধিকার আছে, তারা যেন তোমাদের অপছন্দনীয় ব্যক্তিকে তোমার ঘরে স্থান না দেয়। তারা এরূপ করলে তাদেরকে খুবই হালকা মারধর করো।
‘তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তোমাদের ওপর। তোমরা তা স্বাভাবিকভাবে আদায় করবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৯০৫)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য হয়ে নিজ পিত্রালয়ে বা অন্য কোথাও চলে গেলে ভরণ-পোষণের অধিকারী হবে না।

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার স্ত্রী ভরণ-পোষণের অধিকারী হবে না।

★স্ত্রী অবাধ্য হলে বাধ্য করার জন্য করনীয়ঃ-
প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে উপদেশ দেওয়া ।
খুব ভালো ভাবে নিজে বুঝানো,তাতে কাজ না হলে মুরব্বিদের মাধ্যমে বুঝানো।
স্ত্রী বাবার বাসার মুরব্বিদের মাধ্যমে বুঝানো।
তাতে কাজ না হলে দ্বিতীয় পদক্ষেপ বিছানা পরিত্যাগ করা ।
তাকে আলাদা বিছানায় থাকতে দেয়া।
প্রয়োজনে আলাদা রুমেও থাকতে পারেন।

এতে কাজ না হলে কিছুদিনের জন্য বাবার বাসায় রেখে আসতে পারেন।

তাতেও কাজ না হলে তৃতীয় পদক্ষেপ মৃদু প্রহার করা। 
,
আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, وَاضْرِبُوهُنَّ এবং তাদেরকে প্রহার করবে। 

এর তাফসীরে হাফেয ইবন কাসীর [রহ.] বলেন, যদি উপদেশ প্রদান ও আলাদা রাখার পরও কোনো কাজ না হয়, স্ত্রীগণ সংশোধনের পথে ফিরে না আসে, তবে হালকা করে তাদেরকে প্রহার করবে। 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
পরামর্শ থাকবে স্ত্রীকে বাধ্য করার জন্য ও পূর্ণ শরীয়তের উপর চালানোর জন্য উপরোক্ত পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করার।

এরপরে কাজ না হলে তাকে তালাক দিলে আপনার কোনো গুনাহ হবেনা।

বিস্তারিত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (5 points)
উস্তাদ, আমার স্ত্রী আমার আর্থিক অবস্থা জানার পরও আমার ঘরে না থেকে আমার বিনা অনুমতি তে তার বাবার বাসায় আছে এক্ষেত্রে সে কি গুনাহগার হবে না? তার জন্য আপনার পক্ষ থেকে উপদেশ দিন। 
by (763,650 points)
এক্ষেত্রে আপনার স্ত্রী অবশ্যই গুনাহগার হবে। তার জন্য উচিত আপনার আনুগত্য করা এবং আপনার আদেশ মোতাবেক দ্রুত আপনার বাসায় ফিরে আসা।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...