আসসালামু আলাইকুম।
২০২৪ সালের মে মাসে একজনের সাথে আমার বিবাহের কথাবার্তা হয় যাকে আমাদের পক্ষ থেকেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো। ছেলে প্রবাসী। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে ছেলের সাথে ভিডিও কল আবার ছেলের মা ও বোনের সাথে ভিডিও কলে কথা হয়। কিন্তু তারা পছন্দ হওয়া না হওয়া নিয়ে সরাসরি কিছু বলেনি। এভাবে অনেকদিন গেলো, ছেলের মা-বোনের সাথে প্রায়ই আমার কথা হতো, আমাদের বাসায় এসে আমাকে দেখে যেতে বলতাম। উনারা আসবো আসবোই বলতো। তারপর জুলাই মাসে আমাকে দেখে যায় ছেলের মা ও বোন। যাওয়ার সময় মা বলে যায়, এই মেয়েকে বিয়ে করাবে, ছেলে ৩ মাস পরে আসবে তখন বিয়ে ইন শা আল্লাহ। ছেলে আমাকে কথাবার্তার সময় বলেছিলো যে, বিয়ের পর সে আরো ৩/৪ বছর বিদেশে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকবে।
উল্লেখ্য যে, প্রবাসী ছেলে আমার পছন্দ ছিলো না, কারণ স্বামী-স্ত্রী এর দূরত্ব টা আমি সহ্য করতে পারিনা। বিয়েতে মত দেওয়ার আগে ইস্তেখারা করে আল্লাহর কাছে এই চেয়েছি যে, যদি তা মেনে নেওয়ার সাধ্য আমার থাকে তাহলেই যেন এখানে বিয়েটা হয়, অন্যথায় যেন থেমে যায় সব।
২-৩ মাস পার হওয়ার পর নভেম্বরের দিকে বা ডিসেম্বর ২০২৪ এ ছেলে আমাকে জানায় যে, সে ৬ মাস পর একেবারেই বিদেশ থেকে চলে আসবে। আমি তখন বলি আমার অভিভাবকদের সাথে এটা জানাতে। আরো একমাস পরে সে আমার ভাইকে জানায় যে, সে আরো ৭/৮ মাস পর একেবারেই বিদেশ থেকে চলে আসবে। দেশে এসে ব্যবসা বাণিজ্য করবে তাই গুছিয়ে কিছু টাকা নিয়ে আসতে আসতে ৭/৮ মাস লাগবে। বিষয় টাতে আমাদের ফ্যামিলি খুশি হয় যে, ছেলে একেবারেই চলে আসবে, এটাই আমরা চাচ্ছিলাম। আমাদের পক্ষ থেকে কেউ কিছু না বললেও আমি আমার বোনের মাধ্যমে আমার ভাইয়ের কাছে প্রস্তাব রাখি যেন, এখন অন্তত অনলাইনে বিয়েটা পড়িয়ে রাখে, না হয় এতে ফিতনার আশঙ্কা থাকে। আমার ভাই সে অনুযায়ী ছেলের কাছে প্রস্তাব রাখে। ছেলে সাথে সাথেই এটাতে অরাজি হয়, উনি বললেন- এতে করে আত্মীয়দের অনেক বাঁকা কথা শুনতে হবে। ছেলে বললো ভাইয়াকে, 'আপনাদের আত্মীয়স্বজনরা যদি প্যাঁচ ধরে তাহলে আমার আম্মাকে বলি আংটি পড়িয়ে রেখে আসতে।" ভাইয়া বললো, মুমিন ব্যক্তির কথা দেওয়ার থেকে আংটি পড়ানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ না। আমরা ৭/৮ মাস অপেক্ষা করবো ইন শা আল্লাহ।
এভাবে সময় যেতে যেতে ৭/৮ মাস পূর্ণ হতে যখন আর ৩ মাস আসে তখন আমাকে ছেলে জানায় যে, ছেলে ৭/৮ মাস পরে আসছে না। আমি এটা আমার পরিবারে জানালে আমার ভাই এটা বিশ্বাস করেনি, ভাবছে ফাইজলামি করছে। ৭ মাস পার হওয়ার পর আমার ভাইয়া নিজ থেকে যোগাযোগ করে জিজ্ঞেস করার চিন্তা করে যে, প্লেনের টিকেট কাটা হয়েছে কিনা! তখন ছেলে নিজেই জানায় যে, সে এখন আসতে পারবে না। দেশে এসে ব্যবসা করার টাকাটা এখনো ম্যানেজ হয়নি। পুরাটা ম্যানেজ করে আসবে। তাই এখন যেন অনলাইনে বিয়েটা পড়িয়ে দেয়। বিষয় টা নিয়ে অনেক ঝামেলা হলেও ছেলের ভিতরে অপরাধবোধ কাজ করেনি, কোনোরকম রিকুয়েষ্ট বা অনুশোচনা সে করেনি। ছেলের মা করেছে। আমি বিষয়টাতে অরাজি থাকলেও অনেককিছু চিন্তা করে অনলাইনে বিয়েতে রাজি হয়েছি, তাই পরিবারের সবাই ও রাজি হলো। ছেলে তখনও আমার ভাইকে বলেছে, এখন অনলাইনে বিয়েটা করায়ে দিলে ৭/৮ মাস পর একেবারে চলে আসবে। তবে আমি ছেলেকে আলাদা করে বলে দিয়েছি, আমি এখন অনলাইন বিয়েতে রাজি হচ্ছি তবে আমি এটাতে রাজি না যে, আপনি বিয়ের পর ৭/৮ মাস পরে দেশে আসবেন। তা শুনে ছেলের উত্তর ছিলো, আচ্ছা আচ্ছা, পরেরটা পরে দেখা যাবে।
ছেলে পক্ষের আরো কিছু ঝামেলার জন্য বিয়ের ডেইট ফিক্সড হলো সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখ। বিয়ে আলহামদুলিল্লাহ সম্পন্ন হলো। কিন্তু শুরু থেকে নিজেদের মধ্যে কিছু ঝামেলা। তার মনে হচ্ছে না সে বিয়ে করেছে, তাই আমাকে সময় দেওয়া বা আমার সাথে কথা বলা নিয়ে এই সেই ঝামেলা চলতোই। এরমধ্যে আমি তাকে দেশে আসার কথা বলি যেন তাড়াতাড়ি চলে আসে। আর হ্যাঁ, পরে জানতে পারি তার ভিসা সংক্রান্ত ঝামেলা আছে। দেশে আসলে একেবারেই চলে আসতে হবে। আর যেতে পারবে না। তার ভিসা রিনিউ হয়নি, হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
সময় যেতে লাগলো এখন ভালো তো তখন ঝামেলা এভাবেই। মানসিকভাবে আমাকে সে বিয়ের পরেও বউয়ের মতো ভালোবাসা বা বউকে গুরুত্ব দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে তার অনীহা দেখে অনেক কথা বললে সে বললো যে, 'একসাথে থাকলে এগুলো ঠিক হয়ে যাবে।' তাই তাকে আমি দুজন একসাথে যেন তাড়াতাড়িই হতে পারি সে বিষয়ে চাপ দিতে থাকি। কারণ আমার মানসিক অবস্থাও খুব খারাপ হয়ে গেছিলো, জামাইয়ের থেকে জামাইয়ের মতো আচরণ না পেয়ে। আরেকটা বিষয় হলো- তার ফিজিকাল নিড হয়। তা ফিলাপের জন্য আমাকে সে সব এঙ্গেলেই দেখতে চায় আমি তাকে দেখাই এবং মাঝে মাঝে সে আমাকে দেখে মাস্টারবেশন করে। বিষয় টা আমি মানতে পারিনা, তাকে অনেকবার বলছি যে, পাপ থেকে বাঁচার জন্য মানুষ বিয়ে করে, বিয়ের পরেও যদি ওই পাপ ই করা লাগে তাহলে ফায়দা কি? তার কথা হলো- 'বউকে দেখেই তো করেছি। এতে সমস্যা নেই।' এটাও যে গুনাহ হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্য জায়গা থেকে সেটার প্রমাণও দিলাম, তাতে তার তেমন কোনো রেসপন্স করেনি। ২দিন পর বিয়ের ৪ মাস হবে। এখন খুব কম কম করে ওই কাজটা আমাকে দেখে কারণ আমাকে সে এখন পর্যাপ্ত সময় দিতে পারে না। এখন বিষয় হচ্ছে, বিয়ের ৪ মাস পরে আবারো জানতে পারছি সে আরো ৬ মাসের ভিতরে আসতে পারবে না কারণ তাকে আরো কয়েক লাখ টাকা ইনকাম করেই আসতে হবে। বিষয় টা নিয়ে স্বামীকে অনেকভাবে বুঝিয়েছি, অনেক কান্না করেছি, রাগ করেছি, অভিমান করেছি কিন্তু তিনি তার জায়গাতেই আছেন যে, উনি উনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই কাজ করবেন। আমি তাকে সময় দিয়েছি যে, মার্চে যেন চলে আসে। সে আসবেই না। বরং তাকে আসা নিয়ে কথা বলতে বলতে এখন সে খুব রাগ হয়। তার সাথে বিয়ের কথা শুরু হওয়া থেকে তার সাথে সংসার শুরু করতে করতে প্রায় ২ বছরেরও অধিক সময় আমার চলে যাবে মনে হচ্ছে। আমি কোনোভাবেই তা আর সহ্য করতে পারছিনা। এ অবস্থায় তাকে আমি শুনিয়েছি, স্ত্রীয়ের অনুমতি ছাড়া ৪ মাসের অধিক দূরে থাকলে তুমি গুনাহগার হবে। সে বললো, ' এই হাদিস এভাবে হবে না, স্ত্রীয়ের সাথে একবার মিলিত হওয়ার পরে ৪ মাসের হিসাব।'
আমি বলেছি ৪ মাস পর যদি সে আমাকে না জানায় যে, আরো ২/৩ মাস পরে সে চলে আসবে তাহলে তার সাথে সব যোগাযোগ অফ করে দিবো।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে বিয়ের আগে আমাকে আমার পরিবারকে এতোদিন অপেক্ষা করিয়ে কথা রাখে নি, তাতে কি আমার হক নষ্ট করে নি?
আর এখন আমি কি তাকে এ কথা বলতে পারি যে, তুমি মার্চ ২০২৬ এর মধ্যে দেশে আসলে আমি তোমার সংসার করবো অন্যথায় করবো না? অর্থাৎ এই অবস্থায় ডিভোর্স চাওয়া যাবে কি? আমার উদ্দেশ্য ডিভোর্স চাওয়া বা নেওয়া নয়। আমার উদ্দেশ্য তাকে একটু চাপে ফেলা যেন সে দেশে চলে আসে।কারণ, তার প্রতি আমি ভালোবাসা দেখালেও সে আমার ভালোবাসাকে বিন্দুমাত্র গুরুত্বও দেয় নি। নিজ থেকে আমার প্রতি একটু মহব্বত দিয়ে মানাবে সেটাও কখনো চেষ্টা করেনি। আমি একটা সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্ক চেয়েছিলাম কিন্তু দূরে থাকাতে আমার প্রতি ওর কোনো ফিলিংসও আসছে না আর আমি আঘাত পাচ্ছি, হতাশা বেড়ে যাচ্ছে আমার। মানসিক চাপে থাকি। সম্পর্ক সুন্দর হওয়ার আগেই তিক্ততা বেড়ে যাচ্ছে যা পরবর্তী সময়গুলোতেও প্রভাব ফেলবে। ও শুধু টাকাটাকেই বড় করে দেখছে, বউ সংসার অন্যকিছু পরে। ওর এক কথা টাকা না থাকলে নাকি কেউ দাম দিবে না। বউ ও দাম দিবে না ইত্যাদি। আমার কথ হলো ধৈর্য তো আমি ধরেছি অনেএএএএএএকগুলো দিন। মেনে নিচ্ছি বলেই, সে বার বার শুধু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেই যাচ্ছে, যেটাকে সে অপরাধ ই মনে করছে না।
উল্লেখ্য যে, তার আর্থিক অবস্থা মা-শা আল্লাহ খুবই ভালো। সে বর্তমানে নগদ ২৫ লাখ টাকার মালিক। এছাড়াও পৈত্রিক সম্পতি শুধু তার ভাগেই আছে প্রায় ৫০ লাখেরও কাছাকাছি বা বেশি। তাও সে সংসার শুরু করাটাকে প্রাধান্য না দিয়ে টাকাটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। আমার বয়স বর্তমানে ২৬+ আর স্বামীর বয়স ৩১+।