আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
11 views
in সালাত(Prayer) by (11 points)
আমি ইনশাল্লাহ কিছুদিন পরে সেন্ট মার্টিন বেড়াতে যাব। যেহেতু ঢাকা থেকে যাব, কিছু নামাজের সময় এমন পড়বে, আমি বাসে, কিছু সময়ে আমি জাহাজে। এই নামাজগুলো নিয়ে কি করব আমি জানতে চাই।
১। ৪০ কিঃমিঃ অতিক্রম না করলে তো কসর হবে না, চলন্ত বাসে কিভাবে নামাজ আদায় করব? (বাস চলন্ত কিন্তু তখনও ৪০ কিঃমিঃ অতিক্রম হয় নি)।
২। কছর পড়ার বিধানটা আমার ঠিক জানা নাই, যখন ৪০ কিঃমিঃ অতিক্রম হয়ে যাবে, তখন কোন ওয়াক্তের নামাজ কত রাকাত করে পড়ব?
৩। আল্লাহ চাইলে যখন সেন্ট মার্টিন পৌছে যাব, তখন স্থানীয় মসজিদে কি আমি জামায়াত পড়ব? বিধান কি?
৪। আমার পূর্ণ নিয়্যত আছে, জামায়াতেই নামাজ পড়ার, তাও বিধান জেনে নিচ্ছি, যেহেতু আমার অপিরিচিত এলাকা, সেহেতু ফজরের সময়ে কি করব, স্বাভাবিকভাবেই ফজরে মসজিদে যেতে কিছু টা ভয় কাজ করবে, তখন জামায়তের সওয়াব পাব কিভাবে?
৫। সবচেয়ে বড় যে আমার মনে সংশয় (অবশ্যই আমার না জানার কারণে), কসর এর বিধান কি আবশ্যক নাকি ঐচ্ছিক? বিস্তারিত বললে, আল্লাহ আমাকে এখনও সুস্থ রেখেছেন এবং পর্যাপ্ত সময়ও আছে, আমি জামায়াত ছাড়া নামাজ পড়তে একেবারেই চাই না। সেক্ষেত্রে আসলে বিধানটা কি? আমাকে কসরই পড়তে হবে, নাকি মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করব, নাকি যেহেতু ৪০ কিঃমিঃ অতিক্রম করেছি, আমাকে কসরই পড়তেই হবে বাধ্যতামুলকভাবে।
৬। আমার বাবা যখন আমার বাসায় বেড়াতে আসেন (৪০ কিঃমিঃ অতিক্রম হয়) অথবা আমি যখন বাবার কাছে যাই (৪০ কিঃমিঃ অতিক্রম হয়), আমি সাধারণত মসজিদেই যাই, কিন্তু বাবা যান না, তিনি কসরের নামাজ আমার বাসাতেই পরেন, উল্লেখ্য, আল্লাহ আমার বাবাকে এখনো শারিরীকভাবে সুস্থ রেখেছেন এবং সময়ও থাকে পর্যাপ্ত। এক্ষেত্রে কি করা যায়
৭। জুমার নামাজ কি কসর হয়? আমার ভ্রমণকালে জুমার নামাজও পড়বে।
………
প্রশ্ন শুনেই বুঝতে পারছেন, কসর নামাজ নিয়ে আমার জ্ঞান খুবই কম। আমি যদি কিছু মিসও করে থাকি দয়া করে আমাকে জানাবেন, বিস্তারিত জানার কোন লিখা / বই থাকলে তো আরও ভাল।

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরয়ী সফরের দূরত্ব অতিক্রম করার নিয়তে ১৫ দিনের কম দিন থাকার নিয়তে সফর করলে আপনি আপনার শহরের শেষ সীমানা অতিক্রম করার পর কসর শুরু করবেন। 

অর্থাৎ নিজের শহর বা গ্রামের শেষ সীমানা পার হওয়ার পর আপনি মুসাফির হিসেবে গণ্য হবে।
আরো জানুন- https://www.ifatwa.info/1281

ইমাম বুখারী রহঃ বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের ১৪৭ নং পৃষ্ঠায় একটি বাব কায়েম করেছেন। যার শিরোনাম হল, بَابٌ: فِي كَمْ يَقْصُرُ الصَّلاَةَতথা কতটুকু দূরত্বে কসর করা উচিত? এর অধ্যায়।

এ বাবের অধীনে ইমাম বুখারী রহঃ উল্লেখ করেনঃ

وَسَمَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَوْمًا وَلَيْلَةً سَفَرًا» وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ، وَابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ، يَقْصُرَانِ، وَيُفْطِرَانِ فِي أَرْبَعَةِ بُرُدٍ وَهِيَ سِتَّةَ عَشَرَ فَرْسَخًا

আর রাসূল সাঃ এক দিন আর এক রাতের দূরত্বকেও সফর বলেছেন। হযরত ইবনে ওমর রাঃ এবং হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ চার বারীদ সফরের সময় কসর পড়া রোযা ভাঙ্গার কথা বলেছেন। আর সেটি হল, ১৬ ফরসখ তথা ৪৮ মাইল হয়। 

সফরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবার পর যে শহরে বসবাস করছেন,বা যে গ্রামে বসবাস করছেন, সে শহর বা গ্রামের সিমানা অতিক্রম করার দ্বারাই আপনি মুসাফির বলে সাব্যস্ত হয়ে যাবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত মুসাফির বলেই গণ্য হবেন যতক্ষণ আবার স্বীয় শহর বা গ্রামের সীমানা প্রবেশ না করেন।
,
কোনো মানুষ মুসাফির হওয়ার জন্য যে কয়টি শর্ত রয়েছে,তার মধ্যে অন্যতম একটি হলোঃ
নিজ এলাকাকে অতিক্রম করা।তথা নিজের শহর বা গ্রামের শেষ সীমানা পার হওয়ার পর কেউ মুসাফির হিসেবে গণ্য হবে।
(রদ্দুল মুহতার ২/১২৮)।

قال في الدر (مع الرد، کتاب الصلاة باب صلاة المسافر: ۲/۵۹۹، ۶۰۰، ط: زکریا دیوبند): من خرج من عمارة موضع إقامتہ من جانب خروجہ وإن لم یخرج من الجانب الآخر.. قاصدًا... إھ 

সারমর্মঃ যেই দিক থেকে সে বাহির হবে,সেই দিক থেকে শহরের সীমা অতিক্রম করতে হবে,,,,

আরো জানুনঃ  

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(০১)
৪০ কিঃমিঃ অতিক্রম না করলে কসর হবে না, এ কথা সহীহ নয়।

আপনি যেহেতু সফরের দূরত্বে কোথাও ভ্রমণ করছেন, সুতরাং এক্ষেত্রে আপনার শহরের সীমানা ত্যাগ করার পর হতেই আপনি কছরের নামাজ আদায় করবেন।

যানবাহনে নামাজ আদায়ের পদ্ধতি জানুনঃ- 

(০২)
আপনার শহরের সীমানা ত্যাগ করার পর হতেই আপনি কছরের নামাজ আদায় করবেন।

এক্ষেত্রে চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজ গুলো দুই রাকাত করে আদায় করবেন। তিন রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজ ও দুই রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজ আপন অবস্থায় বহাল থাকবে। এগুলোর মধ্যে কোন কসর হবে না।

(০৩)
হ্যাঁ সেখানে আপনি স্থানীয় মসজিদে জামাতে শরিক হবেন। এক্ষেত্রে ইমাম সাহেব পূর্ণ নামাজ পড়লে আপনিও পূর্ণ নামাজই পড়বেন।

(০৪)
যদি রাস্তায নিরাপদ না হয়, সেক্ষেত্রে আপনি চাইলে হোটেলে বা বাসায় জামাত করতে পারেন।

(০৫)
মুসাফির যদি মুকিম ইমামের ইক্তেদা করে জামাতে নামাজ আদায় না করে,সেক্ষেত্রে মুসাফিরের জন্য কসর করতেই হবে,এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ- 

(০৬)
৪০ কিলোমিটার তো সফরের দূরত্ব নয়। আপনার বাবা যদি কমপক্ষে ৭৮+ কিলোমিটার অতিক্রম করে, সেক্ষেত্রে তিনি কসরের নামাজ আদায় করতে পারবেন।

(০৭)
মুসাফিরের জন্য জুম্মার নামায নেই,বরং জোহরের কসর নামায।সুতরাং আপনি জোহরের কসর আদায় করবেন।

এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

...