আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
69 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (13 points)
দয়া করে দ্রুত পরামর্শ দিন। আমার ডিভোর্স হয়েছে ৫ বছরের বেশি। আমি নিজেই ডিভোর্স লেটার পাঠাই। উকিল কনফার্ম করে মুসলিম আইন ও দেশীয় আইনে ডিভোর্স হয়েছে, ৩ মাস পর সাইন না করলেও ডিভোর্স কনফার্ম এমন বলেছিলেন। আমি কোনো মোহরানা বা কিচ্ছু নিইনি, দাবীও করিনি, উলটো তার দেওয়া শাড়ি গয়না ফেরত পাঠিয়েছিলাম। এরপর কয়েকবছর আমাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। প্রথম হাজব্যান্ডও যোগাযোগের চেষ্টা করেনি। আমি আমার মতো বিয়ে করে নিই প্রায় এক বছর পর। বর্তমানে হাজব্যান্ড আর এক সন্তান নিয়ে আছি।।।।।
সমস্যা হলো, এত বছর পর হুট করে আগের ভদ্রলোক আমাদের জীবনে নানা উপায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। বলছেন, তিনি এরপর বিয়ে করেননি, বেশ কিছু কারণ দেখাচ্ছেন যেকারণে এত বছর যোগাযোগ করেনি। এমনকি হুট করে বাসার ভেতর চলে এসেছিলো একদিন। যেহেতু আমার শ্বশুরবাড়ি, দাদুবাড়ি এবং সেই ভদ্রলোকের গ্রামের বাড়ি একই এলাকায়, তাই খোজ পাওয়া সহজ। তিনি এতবছর পর বলছেন,  মন থেকে তালাক দেননি আমাকে, মুখেও বলেনি, সাইনও করেনি নিজের হাতে, কাজেই যত বছরই পার হোক, তিনি আমার স্বামী, বর্তমান স্বামীর সাথে আমার অবৈধ সম্পর্ক!!তার কাছে না গেলে মা-মলা ও সম্মানহা*নির ভয় দেখাচ্ছে। মাঝেমধ্যেই বাসার নিচে এসে সিনক্রিয়েট করছে, কার্স করছে। সেসময় ৯৯৯ এ ফোন দিলে উনারা কেবল মৌখিক কিছু সাজেশন দেয়। বর্তমানে যিনি আমার স্বামী, এই ঘটনায় তিনি ভেঙে পড়েছেন, কখনও মা,,রমুখী হয়ে এক্স হাজব্যান্ডের মাথা ফা*টাতে যাচ্ছেন, বা"জেভাবে আঘাত করছেন যেকারণে আরও ডেস্পারেট হয়ে গেছে সেই লোক। এলাকায় খারাপ ইমেজ হবে এসব বুঝিয়েও মানাতে পারছিনা, ইতোমধ্যেই বাজে হয়ে যাচ্ছে পরিস্থিতি।  আবার বর্তমান হাজব্যান্ড পাগলামি করে ওয়ালে মা,,থা ঠু,,কে খারাপ অবস্থা হয়ে যাচ্ছেন। আমার নিজের রিসেন্টলি সি সেকশন হয়েছে এইসব ভায়ো*লেন্সে প্যানিক হচ্ছি বারবার। এমনিতে তিনি যথেষ্ট ভালো ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন সবসময়, অনেক সুখী ছিলাম আমরা কিন্তু পূর্বের হাজব্যান্ড তার সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে অতিষ্ট করে তুলেছে এক প্রকার। আমার এখন টেনশন হচ্ছে, তিনি আমাকে তালাক দেয়নি, আমার বর্তমান সম্পর্ক অবৈধ! এর কী হবে তাহলে? আর তিনি এটা এতদিন পরেই বা কেন বললেন!! সেই ভদ্রলোকের সাথে আমি নিজে কথা বলে বুঝিয়ে তালাক নিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বললেও বর্তমান হাজব্যান্ড ক্ষেপে যাচ্ছেন। আমি ভাবছি, উনি মুখ দিয়ে তালাক বললে হয়তো জিনিসটা সলভ হবে!  কিন্তু হাজব্যান্ড এগুলো বললেই তেড়ে মা,,রতে আসছে আর বলছে, আমাদের বিয়ে অলরেডি সঠিক, বৈধ। এক্স ইচ্ছে করে ঝামেলার জন্য উল্টাপাল্টা বলছে। আমি যেন কোনোভাবে কথা বলার চেষ্টাও না করি, এগুলা না ভাবি। আর যদি যাওয়ার কথা ভাবি, ওর কাছে একটাই পথ, আমাকে খু#ন করা। এমনকি বাইরেও যাচ্ছেনা, অফিস থেকে ছুটি নিয়েছে, এক্স হুট করে বাসায় চলে আসে, সেজন্য। আমি উনাকে অফিসে যেতে বললেও ভায়ো*লেন্ট হচ্ছেন। কিন্তু এভাবে জব কতদিন থাকে?  আর এ সম্পর্কটা যদি অবৈধ হয়, তাহলে কীভাবে সমাধান করব? দুয়েকজন হুজুরের সাথে শেয়ার করায় বলেছে, পূর্বের স্বামীর কথা ঠিকই বলছে, তালাক হয়নি। কিন্তু বর্তমানে আমার হাজব্যান্ড এগুলো শুনতে নারাজ আর এ বিষয়টা নিয়ে কোনোভাবেই পূর্বের ভদ্রলোকের সাথে আলোচনা করতে দেবেনা। এক্স বাসায় এসে কনফিডেন্টলি বলে গেছেন, তালাক হয়নি আমাদের, মা,,মলা করলেও বর্তমান হাজব্যান্ডের জব, ক্যারিয়ার সবকিছু হারাবে। সে প্রভাবশালী ও পয়সাওয়ালা মানুষ। এদিকে বর্তমান হাজব্যান্ডের ক্যারিয়ার কেবল শুরুর দিকে। এসব নিয়ে আরও দুশ্চিন্তায় আছি। বিভিন্ন ফতওয়া গ্রুপে পেয়েছে, পূর্বের স্বামী সত্যি বললে, তালাক হয়নি। তাহলে এর সমাধান কি? উনার সাথে আমি যোগাযোগ ব্যতীত সেইফ অপশন আছে? ডিভোর্সের আইনি কনফার্মেশন পাওয়ার এক বছর পর মেয়েরা আরেকটা বিয়ে করলেও কী অবৈধ হতে পারে? আমার স্বামী সেই লোককে আঘাত করার ইস্যু নিয়ে কোন আইনী ঝামেলা করতে পারবে? হাজব্যান্ডের জব এদিকে আর নিজেদের ফ্ল্যাট হওয়ায় বাসা ছাড়ার চিন্তা করতে পারছিনা আপাতত।

1 Answer

0 votes
by (770,280 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

তালাক হচ্ছে স্বামীর অধিকার। স্বামী তালাক দিলেই তালাক সংঘটিত হবে। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ مُوسَى بْنِ أَيُّوبَ الْغَافِقِيِّ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ سَيِّدِي زَوَّجَنِي أَمَتَهُ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنِي وَبَيْنَهَا قَالَ فَصَعِدَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَا بَالُ أَحَدِكُمْ يُزَوِّجُ عَبْدَهُ أَمَتَهُ ثُمَّ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَهُمَا إِنَّمَا الطَّلَاقُ لِمَنْ أَخَذَ بِالسَّاقِ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার মনিব তার বাঁদীকে আমার সাথে বিবাহ দিয়েছে। এখন সে আমার ও আমার স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করলেন, অতঃপর বলেনঃ হে লোকসকল! তোমাদের কারো এরূপ আচরণ কেন যে, সে তার গোলামের সাথে তার বাঁদীর বিবাহ দেয়, অতঃপর তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়? নারীর ঊরু স্পর্শ করা যার জন্য বৈধ, তালাকের অধিকার তার।
(সুনানে ইবনে মাজাহ ২০৮১.বায়হাকী ৯/১৫৭, ইরওয়াহ ২০৪১।)

★শরীয়তের বিধান অনুযায়ী  মহিলা নিজের উপর কেবল তখনি তালাক পতিত করতে পারবে, যদি স্বামী তাকে তালাক দেবার অধিকার দিয়ে থাকে।
এটি নিকাহ নামার ১৮ নং ধারাতে হ্যাঁ লেখার মাধ্যমেই হোক,বা পরবর্তীতে মৌখিক বা লিখিত ভাবেই হোক।
,  
সুতরাং স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রদান করে,আর স্ত্রী স্বামী কর্তৃক তালাকে তাভবিজের ক্ষমতাবলে লিখিত বা মৌখিকভাবে নিজের নফসের উপর তালাক দিয়ে দিলে সেটি পতিত হয়ে যাবে।

আরো জানুনঃ 

ফাতাওয়ায়ে শামীতে আছেঃ
   
قال لھا: طلقي نفسک ولم ینو أو نوی واحدة فطلقت وقعت رجعیة الخ (الدر المختار مع رد المحتار، کتاب الطلاق، باب الأمر بالید، ۴: ۵۷۵، ط: مکتبة زکریا دیوبند)۔
সারমর্মঃ
কেহ যদি তার স্ত্রীকে বলে,তুমি তোমার নিজের নফসকে তালাক দাও,কোনো নিয়ত না করে,অথবা এক তালাকের নিয়ত করে,অতঃপর স্ত্রী তালাক দেয়,তাহলে এক তালাকে রজয়ী পতিত হবে।     

رجل قال لامرأتہ خذي طلاقک، فقالت: أخذت، یقع الطلاق۔ (الفتاویٰ الہندیۃ، کتاب الطلاق / الفصل الثاني في إیقاع الطلاق ۱؍۳۵۹)
সারমর্মঃ
কোনো ব্যাক্তি যদি তার স্ত্রীকে বলে,তুমি তোমার তালাক গ্রহন করো।
স্ত্রী যদি বলে যে গ্রহন করলাম,তাহলে তালাক পতিত হয়ে যাবে।    

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
আপনি যদি আপনার স্বামী কর্তৃক শরীয়ত সম্মতভাবে তালাক গ্রহণের অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে স্বামী কর্তৃক তালাকের ক্ষমতা বলে আপনি যদি নিজের নফসের উপর নিজেই তালাক প্রদান করে থাকেন,সেক্ষেত্রে তালাক পতিত হবে।

এমতাবস্থায় আপনার বর্তমান বিবাহ শুদ্ধ। 

আর যদি আপনি স্বামী কর্তৃক শরীয়ত সম্মতভাবে তালাক গ্রহণের অনুমতিপ্রাপ্ত না হয়ে থাকেন অথবা অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে থাকলেও আপনি যদি নিজেই নিজের উপর তালাক গ্রহণ না করে থাকেন বরং স্বামীকে তালাক দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে তালাক পতিত হবেনা। 

এক্ষেত্রে স্বামী থেকে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে চাইলে পুনরায় শরীয়তসম্মত পন্থায় তালাক গ্রহণ করতে হবে।
এরপর ইদ্দত পালন শেষে অন্যত্রে বিবাহ বসতে পারবেন। 

★প্রশ্নের বিবরন মতে আপনি যে আপনার স্বামীকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছিলেন!

আপনি কি স্বামী কর্তৃক শরীয়ত সম্মত পন্থায়  তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত হয়েছিলেন?

হয়ে থাকলে কিভাবে আপনি অধিকারপ্রাপ্ত হয়েছিলেন? সেটি কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

আপনি যে স্বামীকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছিলেন, তাতে কি আপনি স্বামীকে তালাক দিয়েছিলেন? নাকি নিজের নফসের উপরেই নিজে তালাক গ্রহণ করেছিলেন?

এ বিষয়টিও স্পষ্ট আকারে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। তাহলে জবাব প্রদানে সুবিধা হতো,জাযাকাল্লাহ। 

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...