আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
74 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (7 points)
আসসালামু আলাইকুম উস্তায, আমার একজন পরিচিত বোন আছেন, বৌদ্ধ ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মের সন্ধ্যান করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ। সে বিভিন্ন মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য টা বুঝতে পেরেছেন। তবে এখনো এফিডেভিট করাননি, পুরোপুরি এখনো রিভার্টেট হননি। তার কিছু প্রশ্ন ছিলো

১. যদি সে মুসলিম হয় তবে কি তার নাম টা চেঞ্জ করতেই হবে?

২. যদি সে এফিডেভিট করায় তাহলে কি নাম টা চেঞ্জ করতেই হবে?
৩. যদি সে আপাতত পুরো বিষয়টা সবার থেকে গোপন রাখে, এফিডেভিট পরে করায়,  কিন্তু তার আগে কোনো মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করতে চায় তাহলে কি এফিডেভিট এর আগে বিয়ে করতে পারবে? নাকি বিয়ে করার সময় এফিডেভিট এর কাগজ শো করতে হবে?
৪. যদি সে এফিডেভিট করায় তবে কি তার এনআইডি কার্ডের রিলিজিয়নও চেঞ্জ হয়ে যাবে? তার ফ্যামিলি যদি কোনো কারণে তার এনআইডি কার্ড টা চায় তবে কি তারা বুঝে যাবে যে সে ধর্ম পরিবর্তন করে ফেলেছে?

      ◾উস্তায, একজন মুসলিম হিসেবে এই মূহূর্তে আমি তার জন্য কি করতে পারি, কি সাজেশন দিতে পারি আমি বুঝতে পারছিনা। সে আপাতত ভার্সিটির সুবাদে হলে থাকে, তবে সে তার ক্লাসমেটদের কাছেও বিষয়টা এখন প্রকাশ করতে চায় না।

◾সে এখন কীভাবে আগাতে পারে এখন সামনের দিকে একটু সাজেশন দেন।

◾আর তার ঈমানের পরিধি, আকিদার বিষয় বস্তু গুলো অল্প অল্প জানার জন্য সহজ ভাষায়, ছোট ছোট কি বই তাকে দিতে পারি একটু সাজেশন দিবেন প্লিজ? আমি চাই সে পুরোপুরি রিভার্টেট হওয়ার পর ফরজ পরিমাণ ইলম অর্জনের কোর্স নিয়ে বলতে চাই। তার আগে আমি চাই সে নিজে একটু ঘাটুক। ইসলামের সৌন্দর্য আর সত্য বিষয়টা সে আরেকটু ভালোভাবে জানুক।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
অমুসলিম ব্যাক্তি যদি মুসলিম হয় সেক্ষেত্রে তার নাম পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক নয়, তবে নামের অর্থ যদি শিরক, কুফর বা হারাম অর্থ বহন করে, তাহলে সে নাম পরিবর্তন করা ওয়াজিব।

রাসূল ﷺ সব সাহাবির নাম পরিবর্তন করেননি। অনেক সাহাবি ইসলাম গ্রহণের পরও আগের নামেই ছিলেন যেমন,,উমর (রাঃ),খালিদ (রাঃ),আমর (রাঃ)
আলী (রাঃ),এগুলো ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজের নাম ছিল,তবু রাসূল ﷺ সেগুলো পরিবর্তন করেননি।

তবে যেসব নামের অর্থ হারাম ছিল,সেগুলো পরিবর্তন করেছেন

হাদিস শরীফে এসেছেঃ- 
“রাসূলুল্লাহ ﷺ ‘আবদুশ শামস’ নাম পরিবর্তন করে
‘আবদুর রহমান’ রাখলেন।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৩২)

রাসূল ﷺ ‘হারব’ (যুদ্ধ) নাম পরিবর্তন করে ‘সালম’ (শান্তি) রাখেন।
(আবু দাউদ, ৪৯৫৬)

রাসূল ﷺ কুৎসিত অর্থবিশিষ্ট নাম অপছন্দ করতেন।
(তিরমিজি, ২৮৩৯)

★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে নাম ঐ ব্যাক্তির নাম পরিবর্তন ওয়াজিব হবে, যদি তার নামের অর্থ যদি শিরক, কুফর বা হারাম অর্থ বহন করে,সেক্ষেত্রে সেই নাম পরিবর্তন করা ওয়াজিব। 

ইমাম নববী (রহ.) বলেন:
“যে নামে শিরক বা অপছন্দনীয় অর্থ নেই,
তা পরিবর্তন করা জরুরি নয়।”
(শরহে সহিহ মুসলিম)

(০২)
এক নং প্রশ্নের জবাব দ্রষ্টব্য। 

(০৩)
এফিডেভিট করা ছাড়াও তার বিবাহ বৈধ হবে তবে শর্ত হলো তাকে বাস্তবে মুসলিম হতে হবে
অর্থাৎ সত্যিকার অর্থে ঈমান আনতে হবে,কালেমায়ে শাহাদাহ পড়তে হবে, ইসলাম গ্রহণ করতে হবে।

এমতাবস্থায় কাগজ না থাকলেও শরীয়তের দৃষ্টিতে সে মুসলিম।

উল্লেখ্য, সে যদি সত্যিকার অর্থেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে এফিডেভিট ছাড়া যদিও তার বিবাহ শরীয়তে বৈধ,কিন্তু বাস্তবে:
ভবিষ্যতে সন্তান,কাবিননামা,উত্তরাধিকার,সামাজিক,নিরাপত্তা,আইনি জটিলতা, এগুলোর জন্য এফিডেভিট করে নেওয়া উত্তম ও নিরাপদ।

পাশাপাশি অমুসলিমরা লাভ জেহাদের নাম দিয়ে যেভাবে মুসলিম নারীদের ক্ষতি করতেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই মুসলিম নারীদের ইজ্জত আব্রু নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে,অনেক অন্যায় কাজ করছে, তো সার্বিক দিক বিবেচনা করে এক্ষেত্রে এফিডেভিট না করে বিবাহ না করার পরামর্শ থাকবে।

(০৪)
এফিডেফিট করালেই তার এনআইডি কার্ডের রিলিজিয়ন পরিবর্তন হবে না। তবে হেকমতের জন্য কিছুদিন এনআইডি কার্ড এর উক্ত বিষয় গুলি পরিবর্তন না করলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে,নিজের আয়ত্তে আসলে,সেক্ষেত্রে সময় সুযোগ মোতাবেক এনআইডি কার্ডের তথ্যগুলো পরিবর্তন করে নেওয়ারই পরামর্শ থাকবে।

(০৫)
এমতাবস্থায় আপনি তাকে ইসলামের সৌন্দর্য বুঝাবেন, নামাজের দাওয়াত দিবেন,নিকটতম কোনো মসজিদে গিয়ে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের সাথী ভাইদের সাথে তাকে যুক্ত করে দিবেন, যাতে করে নিয়মিত তিনি সেখানে থেকে তালিম ও বয়ান শুনতে পারেন, চেষ্টা করবেন তাকে বুঝিয়ে প্রতি মাসে একবার তিনদিনের জানাতে পাঠানোর জন্য।  কিছুদিন পর তাকে এক চিল্লায় পাঠানোর চেষ্টা করবেন। তাকে আপনি আহকামে জিন্দেগি কিতাব হাদিয়া হিসেবে দিতে পারেন।

চিল্লা থেকে আসার পর তাকে ফরযে আইন কোর্সে ভর্তি করে দিতে পারেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...