জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
অমুসলিম ব্যাক্তি যদি মুসলিম হয় সেক্ষেত্রে তার নাম পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক নয়, তবে নামের অর্থ যদি শিরক, কুফর বা হারাম অর্থ বহন করে, তাহলে সে নাম পরিবর্তন করা ওয়াজিব।
রাসূল ﷺ সব সাহাবির নাম পরিবর্তন করেননি। অনেক সাহাবি ইসলাম গ্রহণের পরও আগের নামেই ছিলেন যেমন,,উমর (রাঃ),খালিদ (রাঃ),আমর (রাঃ)
আলী (রাঃ),এগুলো ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজের নাম ছিল,তবু রাসূল ﷺ সেগুলো পরিবর্তন করেননি।
তবে যেসব নামের অর্থ হারাম ছিল,সেগুলো পরিবর্তন করেছেন
হাদিস শরীফে এসেছেঃ-
“রাসূলুল্লাহ ﷺ ‘আবদুশ শামস’ নাম পরিবর্তন করে
‘আবদুর রহমান’ রাখলেন।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৩২)
রাসূল ﷺ ‘হারব’ (যুদ্ধ) নাম পরিবর্তন করে ‘সালম’ (শান্তি) রাখেন।
(আবু দাউদ, ৪৯৫৬)
রাসূল ﷺ কুৎসিত অর্থবিশিষ্ট নাম অপছন্দ করতেন।
(তিরমিজি, ২৮৩৯)
★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে নাম ঐ ব্যাক্তির নাম পরিবর্তন ওয়াজিব হবে, যদি তার নামের অর্থ যদি শিরক, কুফর বা হারাম অর্থ বহন করে,সেক্ষেত্রে সেই নাম পরিবর্তন করা ওয়াজিব।
ইমাম নববী (রহ.) বলেন:
“যে নামে শিরক বা অপছন্দনীয় অর্থ নেই,
তা পরিবর্তন করা জরুরি নয়।”
(শরহে সহিহ মুসলিম)
(০২)
এক নং প্রশ্নের জবাব দ্রষ্টব্য।
(০৩)
এফিডেভিট করা ছাড়াও তার বিবাহ বৈধ হবে তবে শর্ত হলো তাকে বাস্তবে মুসলিম হতে হবে
অর্থাৎ সত্যিকার অর্থে ঈমান আনতে হবে,কালেমায়ে শাহাদাহ পড়তে হবে, ইসলাম গ্রহণ করতে হবে।
এমতাবস্থায় কাগজ না থাকলেও শরীয়তের দৃষ্টিতে সে মুসলিম।
উল্লেখ্য, সে যদি সত্যিকার অর্থেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে এফিডেভিট ছাড়া যদিও তার বিবাহ শরীয়তে বৈধ,কিন্তু বাস্তবে:
ভবিষ্যতে সন্তান,কাবিননামা,উত্তরাধিকার,সামাজিক,নিরাপত্তা,আইনি জটিলতা, এগুলোর জন্য এফিডেভিট করে নেওয়া উত্তম ও নিরাপদ।
পাশাপাশি অমুসলিমরা লাভ জেহাদের নাম দিয়ে যেভাবে মুসলিম নারীদের ক্ষতি করতেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই মুসলিম নারীদের ইজ্জত আব্রু নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে,অনেক অন্যায় কাজ করছে, তো সার্বিক দিক বিবেচনা করে এক্ষেত্রে এফিডেভিট না করে বিবাহ না করার পরামর্শ থাকবে।
(০৪)
এফিডেফিট করালেই তার এনআইডি কার্ডের রিলিজিয়ন পরিবর্তন হবে না। তবে হেকমতের জন্য কিছুদিন এনআইডি কার্ড এর উক্ত বিষয় গুলি পরিবর্তন না করলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে,নিজের আয়ত্তে আসলে,সেক্ষেত্রে সময় সুযোগ মোতাবেক এনআইডি কার্ডের তথ্যগুলো পরিবর্তন করে নেওয়ারই পরামর্শ থাকবে।
(০৫)
এমতাবস্থায় আপনি তাকে ইসলামের সৌন্দর্য বুঝাবেন, নামাজের দাওয়াত দিবেন,নিকটতম কোনো মসজিদে গিয়ে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের সাথী ভাইদের সাথে তাকে যুক্ত করে দিবেন, যাতে করে নিয়মিত তিনি সেখানে থেকে তালিম ও বয়ান শুনতে পারেন, চেষ্টা করবেন তাকে বুঝিয়ে প্রতি মাসে একবার তিনদিনের জানাতে পাঠানোর জন্য। কিছুদিন পর তাকে এক চিল্লায় পাঠানোর চেষ্টা করবেন। তাকে আপনি আহকামে জিন্দেগি কিতাব হাদিয়া হিসেবে দিতে পারেন।
চিল্লা থেকে আসার পর তাকে ফরযে আইন কোর্সে ভর্তি করে দিতে পারেন।