বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সম্মানিত মুফতি সাহেব, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আশা করি আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আপনি সুস্থ ও ভালো আছেন। আমি আপনার নিকট কিছু মাসআলা জানতে চাচ্ছি। বিষয়গুলো আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ; তাই কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে অত্যন্ত উপকৃত হবো, ইনশাআল্লাহ।
১. জিন-শয়তান সংক্রান্ত কিছু প্রচলিত বিষয় সম্পর্কে
শোনা যায়, জিন-শয়তান বা অশুভ প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য কেউ কেউ রাতে বা ভর-দুপুরে রসুন, আগুন বা লোহা সঙ্গে রাখে। এ ধরনের কাজ করলে আদৌ কোনো উপকার হবে কি? নাকি এসব বিশ্বাস বা আমল শিরকের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?
আবার কেউ কেউ বাইরে থেকে খাবার কিনে আনলে সেই খাবারের প্যাকেটে আগুনের ছেঁকা দেয়, এই ধারণায় যে এতে অশুভ প্রভাব দূর হবে। এ কাজটি শরিয়তের দৃষ্টিতে কেমন? এতে কি গুনাহ হবে?
এগুলো যদি যায়েজ না হয় তাহলে কুরআন সুন্নার আলোকে কি কি করলে নিরাপদ থাকা যাবে?
২. অযথা মৃত্যুভয় ও অস্থিরতা সম্পর্কে
আমার মাঝে মাঝে প্রবলভাবে মনে হয় যে আমি বুঝি মারা যাবো। তখন খুব ভয় লাগে, বুক ধড়ফড় করে এবং মানসিক অস্থিরতা কাজ করে। এর ফলে আমার দৈনন্দিন কাজকর্মেও ব্যাঘাত ঘটে।
এ অবস্থায় যে কোন এক্সিডেন্ট থেকে বেঁচে থাকা, মানসিক প্রশান্তি, সুস্থতা, হঠাত মৃত্যু থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর ইবাদতে মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য কী কী আমল, যিকির বা দোয়া নিয়মিত পড়তে পারি দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
৩. ঘর-বাড়ির হেফাজত সংক্রান্ত আমল
এমন কোনো সহিহ আমল বা দোয়া আছে কি, যা নিয়মিত পড়লে আল্লাহর ইচ্ছায় ঘর-বাড়ি হেফাজতে থাকবে, বিপদ-আপদ, চুরি-ডাকাতি, বদনজর বা অশুভ প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে? ঘরের মানুষ নিরাপদে থাকবে বিশেষ করে ঘরের মহিলারা। এ বিষয়ে কুরআন-হাদিসভিত্তিক নির্ভরযোগ্য আমল শিখিয়ে দিলে উপকার হয়।
সম্মানিত হুজুর, বিষয়গুলো আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে শরিয়তসম্মত সমাধান জানালে আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন, ইলম ও আমলে বরকত দান করুন এবং আমাদের সকলকে সহিহ আকীদা ও আমলের ওপর অটল রাখুন।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।