আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
45 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (18 points)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সম্মানিত মুফতি সাহেব, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আশা করি আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আপনি সুস্থ ও ভালো আছেন। আমি আপনার নিকট কিছু মাসআলা জানতে চাচ্ছি। বিষয়গুলো আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ; তাই কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে অত্যন্ত উপকৃত হবো, ইনশাআল্লাহ।


১. জিন-শয়তান সংক্রান্ত কিছু প্রচলিত বিষয় সম্পর্কে

শোনা যায়, জিন-শয়তান বা অশুভ প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য কেউ কেউ রাতে বা ভর-দুপুরে রসুন, আগুন বা লোহা সঙ্গে রাখে। এ ধরনের কাজ করলে আদৌ কোনো উপকার হবে কি? নাকি এসব বিশ্বাস বা আমল শিরকের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?

আবার কেউ কেউ বাইরে থেকে খাবার কিনে আনলে সেই খাবারের প্যাকেটে আগুনের ছেঁকা দেয়, এই ধারণায় যে এতে অশুভ প্রভাব দূর হবে। এ কাজটি শরিয়তের দৃষ্টিতে কেমন? এতে কি গুনাহ হবে?

এগুলো যদি যায়েজ না হয় তাহলে কুরআন সুন্নার আলোকে কি কি করলে নিরাপদ থাকা যাবে? 


২. অযথা মৃত্যুভয় ও অস্থিরতা সম্পর্কে

আমার মাঝে মাঝে প্রবলভাবে মনে হয় যে আমি বুঝি মারা যাবো। তখন খুব ভয় লাগে, বুক ধড়ফড় করে এবং মানসিক অস্থিরতা কাজ করে। এর ফলে আমার দৈনন্দিন কাজকর্মেও ব্যাঘাত ঘটে।

এ অবস্থায় যে কোন এক্সিডেন্ট থেকে বেঁচে থাকা, মানসিক প্রশান্তি, সুস্থতা, হঠাত মৃত্যু থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর ইবাদতে মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য কী কী আমল, যিকির বা দোয়া নিয়মিত পড়তে পারি দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।


৩. ঘর-বাড়ির হেফাজত সংক্রান্ত আমল

এমন কোনো সহিহ আমল বা দোয়া আছে কি, যা নিয়মিত পড়লে আল্লাহর ইচ্ছায় ঘর-বাড়ি হেফাজতে থাকবে, বিপদ-আপদ, চুরি-ডাকাতি, বদনজর বা অশুভ প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে? ঘরের মানুষ নিরাপদে থাকবে বিশেষ করে ঘরের মহিলারা। এ বিষয়ে কুরআন-হাদিসভিত্তিক নির্ভরযোগ্য আমল শিখিয়ে দিলে উপকার হয়।



সম্মানিত হুজুর, বিষয়গুলো আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে শরিয়তসম্মত সমাধান জানালে আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন, ইলম ও আমলে বরকত দান করুন এবং আমাদের সকলকে সহিহ আকীদা ও আমলের ওপর অটল রাখুন।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
ইমরান বিন হুসাইন (রদ্বি, ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন,

لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَطَيَّرَ، أَوْ تُطُيِّرَ لَهُ أَوْ تَكَهَّنَ، أَوْ تُكُهِّنَ لَهُ أَوْ سَحَرَ، أَوْ سُحِرَ لَهُ-

, ‘‘সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি (কোন বস্ত্ত, ব্যক্তি কর্ম বা কালকে) অশুভ লক্ষণ বলে মানে অথবা যার জন্য অশুভ লক্ষণ দেখা (পরীক্ষা) করা হয়, যে ব্যক্তি (ভাগ্য) গণনা করে অথবা যার জন্য (ভাগ্য) গণনা করা হয়। আর যে ব্যক্তি যাদু করে অথবা যার জন্য (বা আদেশে) যাদু করা হয়।’’ (ত্বাবারানী ১৪৭৭০, সহীহুল জামে’ ৫৪৩৫ ,সিলসিলা ছহীহা ২১৯৫)

এগুলোতে বিশ্বাস করা শিরক। এভাবে শুভ অশুভ নির্ণয়ের বিধান প্রসঙ্গে রসূলুল্লাহ (স) বলেন,

اَلطِّيَرَةُ شِرْكٌ

‘কুলক্ষণে বিশ্বাস করা শিরক’।[আবুদাঊদ, তিরমিযী; মিশকাত, ৪৫৮৪]

আব্দুল্লাহ বিন আমর বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স) একদা বললেন, কুলক্ষণ যে ব্যক্তিকে কোন কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখে, নিশ্চয়ই সে শিরক করে। ছাহাবীগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! উহার কাফফারা কি হবে? তিনি বললেন, ঐ ব্যক্তি বলবে-

اَللَّهُمَّ لاَ خَيْرَ إِلاَّ خَيْرُكَ وَلاَ طَيْرَ إِلاَّ طَيْرُكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

‘হে আল্লাহ! আপনার কল্যাণ ছাড়া কোন কল্যাণ নেই। আপনার সৃষ্ট কুলক্ষণ ছাড়া কোন কুলক্ষণ নেই। আর আপনি ছাড়া কোন মা‘বূদও নেই’    [আহমাদ ৭০৪৫, সিলসিলা ছহীহা ১০৬৫]

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত যাবতীয় বিষয়গুলি কুসংস্কার এর অন্তর্ভুক্ত। কোরআন হাদিসে এ ধরনের কার্যক্রমের কোনরূপ ভিত্তি নেই।

সুতরাং এ ধরনের বিষয়গুলো বিশ্বাস করা জায়েজ নেই।

(০২)
এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 

(০৩)
https://ifatwa.info/20919/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছে, 
কুরআন সুন্নাহের আলোকে শরীর বা ঘর বন্ধ করার নিয়ম হল, চার কুল ও সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত এবং সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়ে শরীর বা ঘরের দরজাসমূহে ফু দেওয়া। বিশেষ করে সূলা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে ফু দেওয়া। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا الْمُفَضَّلُ بْنُ فَضَالَةَ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ ثُمَّ نَفَثَ فِيْهِمَا فَقَرَأَ فِيْهِمَا(قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ)وَ (قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ) وَ (قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ) ثُمَّ يَمْسَحُ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ يَبْدَأُ بِهِمَا عَلَى رَأْسِهِ وَوَجْهِهِ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, প্রতি রাতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানায় যাওয়ার প্রাক্কালে সূরাহ ইখ্লাস, সূরাহ ফালাক ও সূরাহ নাস পাঠ করে দু’হাত একত্র করে হাতে ফুঁক দিয়ে যতদূর সম্ভব সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন। মাথা ও মুখ থেকে আরম্ভ করে তাঁর দেহের সম্মুখ ভাগের উপর হাত বুলাতেন এবং তিনবার এরূপ করতেন। 
[বুখারী শরীফ ৫০১৭.৫৭৪৮, ৬৩১৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৪৮)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...