আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
54 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (78 points)
১।আল্লাহ পাক এর নাম ছাড়া  কোনো সৃষ্টি বা দুনিয়ায় যা রয়েছে  সেইসব  কোনো কিছুর নামে আল্লাহ পাক কে ডাকা বা আল্লাহর পাকের  নামের সাথে ডাকা তুলনা করা সাদৃশ্য মনে করা। এবং অন্য  সৃষ্টি বা দুনিয়ায় যা রয়েছে সেইসব কোনো কিছু কে আল্লাহ পাক এর নামে ডাকা বা তুলনা করা, আল্লাহ পাক এর মত মনে করা শিরক কুফরি  হবে এ আকিদা সঠিক কিনা ?

২।সফর দুরত্বে যাওয়ার নিয়তে বাড়ি থেকে বের হই যদি কাছাকাছি  কোনো যায়গায় রাত্রী যাপন করে পরদিন সফর করে সেই সফর দুরত্ব  যায়গায় যাই তাহলে কি মুসাফির হবো। যেই যায়গায় রাত্রী যাপন করছি সে যায়গা থেকে যেই যায়গায় যাবো সফর দুরত্ব হয়না।

1 Answer

0 votes
by (805,290 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১)
আল্লাহ পাকের নাম ছাড়া কোনো সৃষ্টি বা দুনিয়ায় যা কিছু রয়েছে সেইসব কিছুর নামে আল্লাহ পাককে ডাকা যাবে না। এবং অন্য  সৃষ্টি বা দুনিয়ায় যা রয়েছে সেইসব কোনো কিছু কে আল্লাহ পাক এর নামে ডাকা বা তুলনা করা, আল্লাহ পাক এর মত মনে করা শিরক কুফরি হবে। এই আকিদা সঠিক। 

(২)
কোনো মানুষ মুসাফির হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে-
(ক)
তিন দিন বা তার সমপরিমাণ দূরত্বের অধিক সফর করা। যেমন ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে-
أَقَلُّ مَسَافَةٍ تَتَغَيَّرُ فِيهَا الْأَحْكَامُ مَسِيرَةُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ، كَذَا فِي التَّبْيِينِ، هُوَ الصَّحِيحُ
সর্বনিম্ন দূরত্ব যার দ্বারা শরীয়তের বিধি-বিধানে  পরিবর্তন আসে।(তথা মানুষ মুসাফির হয়)তিন দিনের দূরত্ব।(তাবয়ীন) এটাই বিশুদ্ধ মত।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/১৩৮)

হানাফি মাযহাবে মূলত মাইল বা কিলোমিটারের হিসাব গ্রহণযোগ্য ছিলনা।বরং তিনদিনের সফরকেই মূল হিসেবে গণ্য করা হয়েছিলো।তবে পরবর্তী সময়ে হানাফি ফুকাহাগণ ৪৮ কিলোমিটার-কে তিনদিন তিনরাত সমপরিমাণ দূরত্ব হিসেবে নির্ধারণ করেন।এ হিসেবে বর্তমানে ৪৮মাইল বা ৭৭ কিলোমিটার কে সফরের দূরত্ব সাব্যস্ত করা হয়েছে।(আওযানে শরঈয়্যিয়াহ-মুফতী শফী রাহ-৪৯)
  
(ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম-৪/৪৯৪, রদ্দুল মুহতার-২/১২২(করাচি) তাবয়ীনুল হাক্বাঈক্ব- ১/২০৯)

(খ) নির্দিষ্ট কোনো স্থানকে লক্ষ্য করে সফর শুরু করা।
সুতরাং যদি কেউ চোর খুজতে বা নিজের গৃহপালিত পশুকে খুজতে খুজতে সারা পৃথিবীও সফর করে নেয় তাহলে সে মুসাফির হবে না।কেননা তার নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছিলনা।

(গ)
নিজ এলাকাকে অতিক্রম করা। তথা নিজের শহর বা গ্রামের শেষ সীমানা পার হওয়ার পর কেউ মুসাফির হিসেবে গণ্য হবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1281

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
সফর সমপরিমাণ দুরত্বে যাওয়ার নিয়তে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর যদি কাছাকাছি কোনো জায়গায় রাত্রীযাপন করে পরদিন সেখান থেকে সফর করে সেই সফর সমপরিমাণ গন্তব্যে যাওয়া হয়, তাহলেও মুসাফির হিসেবে গণ্য হবে। যদিও রাত্রিযাপনের স্থান থেকে গন্তব্য সফর সমপরিমাণ দূরত্বের না হয়। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...