আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
74 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (6 points)
আমার একজন খুব কাছের বান্ধবী আছে, যে মানসিকভাবে আমার ওপর অনেক নির্ভরশীল। আমরা আগে একই ইউনিটে ছিলাম এবং আমি তাকে সবসময় সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এমনকি আগেও একাধিকবার নিজের গ্রুপ পরিবর্তন করে তার সাথে গ্রুপ নিয়েছি, যদিও সেই গ্রুপে কিছু মানুষের কারণে আমি নিজেকে অনিরাপদ অনুভব করতাম। তবুও তাকে ভালোবেসে এবং তার কথা ভেবে আমি তা করেছি। আমি তাকে বলেছিলাম যে আমরা কষ্ট হলেও একসাথে থাকার চেষ্টা করবো, ইন শা আল্লাহ।
নতুন রোটেশনে তাকে এমন একটি ইউনিটে দেওয়া হয়েছে যেটা সে একেবারেই চায় না এবং যেখানে সে নিজেকে খুব অস্বস্তিতে ও অনিরাপদ মনে করে। আমাকে অন্য একটি ইউনিটে দেওয়া হয়েছে, যেটা আমার জন্য তুলনামূলকভাবে ভালো ও নিরাপদ। এই ইউনিটে ভালোভাবে শেখানো হয় এবং আমি ভবিষ্যতে এই সাবজেক্টে ক্যারিয়ার করতে চাই, তাই শেখার বিষয়টি আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আমার বান্ধবী খুব কান্নাকাটি করেছে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে যেন আমরা একসাথে থাকতে পারি। সে আমাকে অনুরোধ করেছে যেন আমি তার ইউনিটে গিয়ে তার পাশে থাকি। সে মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিল এবং অতিরিক্ত distress-এর কথা বলেছে, এমনকি মৃত্যুকামনার কথাও প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে, ঐ ইউনিটে গেলে আমার নিজের ভবিষ্যৎ, মানসিক শান্তি ও কিছু বাস্তব ঝামেলার আশঙ্কা ছিল। আমার মনে হয়েছে, এতে আমি আজীবন রিগ্রেট করতে পারি। কারণ এর আগেও তার সাথে গ্রুপ নেওয়ার কারণে কিছু ক্ষেত্রে আমি রিগ্রেট অনুভব করেছি এবং মনে হয়েছে তার প্রয়োজন শেষ হলে আমার গুরুত্বও কমে যায়।
আমি অনেক চেষ্টা করেছি তাকে আমার ইউনিটে আনার জন্য, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত আমি নিজের ইউনিটেই থাকার সিদ্ধান্ত নিই এবং তার ইউনিটে যাইনি। এখন আমার ভেতরে খুব অপরাধবোধ কাজ করছে। আমি ইস্তিখারা করেছিলাম, কিন্তু তবুও নিজের মনকে পুরোপুরি মানাতে পারিনি। আমার মনে হচ্ছিল, এবার যদি আবার গ্রুপ পরিবর্তন করি, তাহলে আমি যেন খাঁচাবন্দি পাখির মতো হয়ে যাবো।
এখন আমার প্রশ্ন হলো—ইসলামের দৃষ্টিতে আমি কি নিজের স্বার্থ ও ভবিষ্যৎকে প্রাধান্য দিয়ে ভুল করেছি? আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কি আমার উচিত ছিল নিজের সম্ভাব্য ক্ষতি সত্ত্বেও বন্ধুর কষ্ট লাঘবের জন্য তার ইউনিটে চলে যাওয়া?
এই পরিস্থিতিতে শরিয়তের দৃষ্টিতে সঠিক সিদ্ধান্ত কী ছিল—নিজের সীমা ও ভবিষ্যৎ বিবেচনা করা, নাকি বন্ধুর মানসিক কষ্ট লাঘবের জন্য আত্মত্যাগ করা? আমার নিয়তের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আমি কীভাবে জবাবদিহি করব?

এখন সে আমার সাথে আর কথা বলেনা।আমি বুঝিয়েছি কিন্তু আমাকে রিজেক্ট করছে বারবার।

1 Answer

0 votes
by (805,290 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আবূ হারূন আল-আবদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত।
عَنْ أَبِي هَارُونَ الْعَبْدِيِّ، قَالَ كُنَّا إِذَا أَتَيْنَا أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَ مَرْحَبًا بِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ . إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ لَنَا " إِنَّ النَّاسَ لَكُمْ تَبَعٌ وَإِنَّهُمْ سَيَأْتُونَكُمْ مِنْ أَقْطَارِ الأَرْضِ يَتَفَقَّهُونَ فِي الدِّينِ فَإِذَا جَاءُوكُمْ فَاسْتَوْصُوا بِهِمْ خَيْرًا "
তিনি বলেন, আমরা আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) -এর কাছে এলেই তিনি বলতেনঃ তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওসিয়ত অনুযায়ী স্বাগতম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলতেনঃ লোকেরা অবশ্যই তোমাদের অনুগামী। অচিরেই পৃথিবীর দিকদিগন্ত থেকে লোকেরা তোমাদের নিকট দ্বীনি ইলম অর্জনের জন্য আসবে। তারা যখন তোমাদের নিকট আসবে,তখন তোমরা তাদেরকে ভালো ও উত্তম উপদেশ দিবে।(সুনানু তিরমিযি-২৪৯,তিরমিযী ২৬৫০-৫১, মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৪৭।)

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ ও প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনি নিজের সুবিধাজনক ইউনিটে থাকতে পারবেন। নিজের সুবিধাজনক ইউনিটে থেকে বান্ধবীর মানষিক কষ্ট লাগবের চেষ্টা করবেন। নিজের সুবিধাজনক ইউনিটে শিফট হওয়ার আপনার জন্য অনুচিত হয়নি।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...