আসসালামু আলাইকুম। আমার বর্তমান বিয়ের আগেও আরেকটি বিয়ে হয়েছিল, যেটার বিষয়ে আমার পরিবার কেউ জানত না। বিয়ের পর আমি জানতে পারি যে ছেলেটা আমাকে তার ব্যাপারে সব মিথ্যা বলেছিল এবং আমাকে শুধু ব্যবহার করেছে, তাই আমি তার থেকে তালাক নিয়ে নিই এবং ইদ্দত পালন করি। এরপর জানতে পারি যে আসলে আমার এই বিয়েটাই শুদ্ধভাবে হয়নি। আমি তাওবা করি।
অনেক আগেই তালাকের মাসআলা জানার পর থেকে ওই ছেলের সাথে থাকা অবস্থাতেও তালাকের বিষয়ে সন্দেহ হতো, এমনকি সাধারণ বিষয় নিয়েও সন্দেহ হতো। এরপর আমার পরিবার আবার আমাকে আরেকজনের সাথে বিয়ে দেয়, যিনি আমার আগের অতীত সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কিন্তু বিয়ের কয়েকদিন আগে তাঁর সাথে কয়েকবার জিনা, তালাক—এসব বিষয়ে অনেক কথা হয়েছিল। আমরা অনেক আলোচনা করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, “আমার স্ত্রী জিনা করলে আমি তাকে মেরে ফেলব; ইসলামী খিলাফত আসলে এটাই শাস্তি হতো”—এমন কিছু কথা।
এসব নিয়ে আগে এতদিন আমার কোনো ভয় বা সন্দেহ ছিল না। আমার স্বামী দেশের বাইরে চলে যান। তিনি আমার পর্দার ব্যাপারে খুবই কঠোর এবং আমিও তাঁর কথা মতো চলার চেষ্টা করি। একদিন ভিডিও কলে আমরা স্বাভাবিকভাবে কথা বলছিলাম। কথা বলতে বলতে তিনি কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোমার সবকিছু আমি নিজে হেফাজত করার চেষ্টা করব, আল্লাহ আমার স্ত্রীকে হেফাজত করুন।” তারপর বললেন, “আমি তোমার জন্য কাল তাহাজ্জুদে অনেক দোয়া করেছি, শুধু একটা নেগেটিভ ছিল—যদি আমার স্ত্রী আমার হক অন্য কাউকে দিয়ে থাকে, তাহলে তুমি তাকে জান্নাত দেখিও না।”
তখন থেকেই আমার শর্তযুক্ত তালাক নিয়ে ভয় শুরু হয়। আমি তাঁকে বলি, বিয়ের আগে তো আমি অনেক বেপরোয়া হয়ে চলেছি। তিনি বললেন, “না, আমি ইন্টিমেসির কথা বুঝিয়েছি।” এটা বলে তিনি আবার স্বাভাবিক কথা বলা শুরু করেন। এরপর থেকেই আমার শর্তযুক্ত তালাকের ভয় শুরু হয়।
একদিন রাতে বসে ছিলাম, হঠাৎ মাথায় আসে—বিয়ের আগে তো আমরা এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলেছিলাম, তিনি তখন জিনা নিয়ে কথা বলেছিলেন—এটা আমি নিশ্চিত। কিন্তু তখন কি তিনি এমন কিছু বলেছিলেন, যখন আমি বলছিলাম যে মেয়েরা স্বামী রেখে জিনায় জড়িয়ে পড়ে—তখন কি তিনি বলেছিলেন, “আমার স্ত্রী জিনা করলে আমি তাকে তালাক দিয়ে দেব,” বা “আমার স্ত্রী জিনা করলে তালাক হবে,” নাকি “আগে তাকে হত্যা করতে হবে”? নাকি তিনি বলেছিলেন, “সে জিনা করলে আমি তাকে আর রাখব না”—এমন কিছু?
পরের দিন আবার হঠাৎ মাথায় আসে, না, তিনি মনে হয় এভাবে বলেছিলেন যে, “আমার স্ত্রী জিনা করলে সে তালাক।” অথবা “বিয়ের আগে জিনা করলে সে তালাক।” একবার মনে হয় না, তিনি এমন কিছু স্পষ্টভাবে বলেননি, আবার মনে হয় তিনি বলেছেন। এক কথায়, একবার মনের ভেতর থেকে খুব জোরালো অনুভূতি আসে যে তিনি সত্যিই এমন বলেছেন, আবার মনে হয় না, তিনি বলেননি। আমি কোনোভাবেই মানসিক শান্তি পাচ্ছি না। কোনো ইবাদতেও শান্তি পাচ্ছি না। একবার খুব জোরালোভাবে মনে হয় যে তিনি বলেছেন, আবার মনে হয় না, এমন কিছু বলেননি। কিন্তু ভয়টা কোনোভাবেই যাচ্ছে না।
আপনারা বলেন সন্দেহের ওপর কোনো হুকুম নেই, কিন্তু যদি সত্যিই হয়ে থাকে এবং আমি আমার OCD/ওসওয়াসা ভেবে উপেক্ষা করি—তবুও কি পতিত হয়ে যাওয়া তালাক আল্লাহর কাছে উঠিয়ে নেওয়া হবে? একজন স্বামী-স্ত্রী হালাল সম্পর্কে থাকলে আল্লাহ যে যে নিয়ামত দেন, আমরা কি তখনও সেই নিয়ামত পাব? আমি জানতে চাই, আমাদের মাঝে কি অন্তত ১টি তালাকও হয়ে গেছে?
আমার আরেকটা ভয় আছে—আমার মনে হয় যে তিনি যেদিন তাহাজ্জুদে দোয়া করলেন, হয়তো দোয়া করতে করতে আল্লাহর সামনে বলেছিলেন, “আল্লাহ, আমার স্ত্রী যদি জিনা করে, তবে সে তালাক”—তখন? আর আমি তো জানবও না। তাহলে কি তাঁকে জিজ্ঞেস করতে হবে?
আমার ভেতর থেকে তাঁর সাথে কথা বলতে গেলে বা কোনো ইসলামিক স্বামী-স্ত্রীর কাহিনি পড়তে গেলে মনে হয়—আমি এসব করে কী লাভ, তালাক তো হয়েই গেছে, আল্লাহ তো আমার ওপর খুশি নন। মনে হচ্ছে তাঁর জন্য আমি যেন আর স্ত্রী নই। মনে হচ্ছে আমি জিনার সম্পর্কে চলে যাচ্ছি—একটা ভুল একবার করেছি, আবার করছি। আমি জানি তালাক হয়ে গেছে, তবুও আমি এটাকে ওসওয়াসা ভাবছি এবং তবুও জিনার মধ্যে আছি—এসব চিন্তা সবসময় আসে।ওইদিন আমি দেখলাম একজন হুজুর তালাকের মাসআলা নিয়ে বলছিলেন যে, অনেক সময় মানুষ নিয়ত ছাড়াও এমন কথা বলে ফেলে, যার কারণে তালাক হয়ে যায়—অনেকে সেটা বুঝতেও পারে না। তিনি বলছিলেন, “আপনি বুঝতেই পারবেন না যে আপনার স্ত্রী তালাক হয়ে গেছে। হাসরের ময়দানে গিয়ে দেখবেন, আপনার স্ত্রী আর আপনার স্ত্রী নয়। তখন বুঝবেন, আপনি সারা জীবন জিনা করে গেছেন। তখন আপনি কী করবেন?”
এই কথা শোনার পর আমার ভয় শুরু হয়ে যায়। তখন আমার মনে প্রশ্ন আসে—আপনারা তো বলেন, সন্দেহের ওপর কোনো কিছ হয় না। তাহলে উনি এমন কথা বললেন কেন? যদি আসলেই সন্দেহ মনে করে আমি কোনো বিষয় ইগনোর করি, তাহলে কি সত্যিই আমি হাসরের ময়দানে গিয়ে এমন কিছু দেখতে পাব?
আমার চোখের সামনে বারবার শুধু ওই রাতটার ফ্ল্যাশব্যাক আসে। কিন্তু কোনোভাবেই আমি নিশ্চিত করে মনে করতে পারি না যে এমন কিছু বলা হয়েছিল। OCD-এর কারণে আমার অনেক মিথ্যা জিনিসও সত্য বলে মনে হয়, এমনকি কল্পনাকেও সত্য মনে হয়। আবার এটাও মনে হয় যে, আমি জানি—উনি এমন কিছু বলেননি, তবুও আমি সেটা ইগনোর করে চলেছি। আবার কিছুক্ষণ পর নিজেকেই বলি—না, উনি তো এমন কথা বলেনইনি।
এই অবস্থায় আমার মনে হয়, এভাবে চলতে থাকলে আমি সত্যিই পাগল হয়ে যাব।এই সব ভাবনা আসলেই আমার মাথায় শুধু আত্মহত্যার প্রবণতাই কাজ করে, আর কোনো কিছুই আমার ভালো লাগে না। আমি ওষুধ খাচ্ছি, কিন্তু তবুও আমার মনে শান্তি পাচ্ছি না।আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, ওইদিন রাতের যে কথাগুলো নিয়ে আমার সন্দেহ হচ্ছে, সেগুলো হয়তো আমার কল্পনা। আবার কিছু কিছু ফ্ল্যাশব্যাক বারবার মাথায় ঘুরতে থাকে। তখন আর বুঝতে পারি না—এ