আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
82 views
in সাওম (Fasting) by (14 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ
আমার জীবনে অনেক গুলো রমাদান কেটেছে ফরজ রোজা না রেখে। আর না রাখার কারন অনেক গুলো,ছোট থেকে ফরজ রোজার গুরুত্ব না বোঝানো,ছোট বলে,পরীক্ষার জন্য রোজা রাখা কষ্টকর হবে বলে ফরজ রোজা না রাখতে দেয়া,অজ্ঞতা এসব কারনে দীর্ঘ একটা সময় গাফেলতির মধ্য দিয়ে রমাদান গুলো পার হয়ে গেছে। এখন দ্বীনের বুঝ আসার পর থেকে অস্থিরতা ও অনুশুচনায় ভূগছি। গত রমাদানে আমি ৫ টার মত রোজা রাখার পর আর কোন রোজা রাখিনি,কিছুটা অলসতা করেই রাখিনি সাংসারিক বিভিন্ন কাজকর্ম স্বামী সন্তান রান্নাবান্নার চাপ বিষয় বিষয় নিয়ে ব্যস্ততা এবং ক্লান্তির কথা চিন্তা করে ফরজ রোজা গুলো আর রাখিনি। রোজার নিয়তও করিনি রোজাও রাখিনি। ভেবেছিলাম পরবর্তী রমাদান আসার আগেই ফরজ কাযা রোজা গুলো রেখে ফেলবো কিন্তু করবো করবো করতে করতে আর কোন রোজাই রাখা হয়নি। আমার মতে গত রমজানের ২৫ টার মত ফরজ রোজা কাযা আছে কিন্তু এখন তো সম্ভবত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ম রোজা এখন আসলে আমি কি করবো বুঝতে পারছি না।
১.এখন যে কয়দিন আছে সেই কয়দিন কি গত রমজানের ফরজ কাযা রোজা গুলো রাখবো?  নাকি এই রমাদানের রোজা গুলো রাখার পরে গত রমজানের কাযা রোজা গুলো রাখবো?
২.আর জীবনের অধিকাংশ ফরজ কাযা রোজা গুলো কিভাবে পরবর্তীতে আদায় করবো? রাখার নিয়ম কি?  কোন নিয়তে রাখবো?

৩.জীবনের অধিকাংশ নামাজ কাযা হয়েছে,কত নামাজ কাযা হয়েছে তার সঠিক ধারনা নেই। কিভাবে সেই কাযা নামাজ গুলো আদায় করবো? কি নিয়ত করবো? আর পূর্বের অধিকাংশ কাযা নামাজের কি শুধু ফরজ রাকাত গুলো আদায় করতে হবে? নাকি সুন্নত নফল গুলোও আদায় করতে হবে?

৪.দ্বীনের বুঝ আসার পর থেকে আল্লাহর রহমতে পরিপূর্ণ পর্দা করি ননমারহাম মেনে চলি কিন্তু দেখা যায় জাওজ বাসায় না থাকলে বিভিন্ন সময় ময়লার বিল নিতে,পুরুষ ফকির,কোন অপরিচিত পুরুষ লোক বাসার দরজায় আসে কিন্তু পর্দার বিধান লংঘন হবে বিধায় আমি বাসার ভিতরে থাকার পরও কোন সাড়া শব্দ করি না। এজন্য বিভিন্ন সময় কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। জাওজ কিছুটা বিরক্ত হয় মাঝেমধ্যে,কিন্তু আমি চাইনা খুব বেশি গুরুতর কোন কারন ছাড়াই কোন নন মারহামদের সাথে কথা বলতে কারন আমি ভয় করি কথা বলার সময় কন্ঠস্বর কঠোর করতে পারিনা নারীসুলভ স্বাভাবিক কন্ঠস্বর চলেই আসে। এক্ষেত্রে আসলে আমার করনীয় কি বললে মুনাসিব হতো।

1 Answer

0 votes
by (770,160 points)
জবাবঃ- 
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم

আল্লাহ তা’আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।
أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ وَأَن تَصُومُواْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/11319

হাদীস শরীফে এসেছেঃ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ فَقَالَ: هَلَكْتُ، قَالَ: «وَمَا أَهْلَكَكَ؟» قَالَ: وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي فِي رَمَضَانَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَعْتِقْ رَقَبَةً» قَالَ: لَا أَجِدُ، قَالَ: «صُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ» قَالَ: لَا أُطِيقُ، قَالَ: «أَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا»

অনুবাদ- হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। রাসূল সাঃ জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাকে কে ধ্বংস করেছে? সাহাবী বললেন, রমজানে আমি আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলেছি। রাসূল সাঃ তাকে বললেন, তাহলে এর বদলে একটি গোলাম আযাদ কর। সাহাবী বললেন, আমি এতে সক্ষম নই। নবীজী সাঃ বললেন, তাহলে লাগাতার দুই মাস রোযা রাখ। সাহাবী বললেন, আমি এতেও সক্ষম নই। তখন রাসূল সাঃ বললেন, তাহলে তুমি ৬০ জন মিসকিনকে খানা খাওয়াও। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৭১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৬৯৪৪, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-১১০৭, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১৯৪৯, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৩৫২৭}

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে এখন যে কয়দিন আছে সেই কয়দিন গত রমজানের ফরজ কাযা রোজা গুলো রাখতে পারেন।

এই রমাদানের রোজা গুলো রাখার পরেও গত রমজানের কাযা রোজা গুলো রাখতে পারেন,সেটি আপনার ইচ্ছা।

তবে হায়াত-মউতের কথা যেহেতু বলা যায় না, তাই এ রমজানের আগেই ফরজ রোজাগুলির কাজা আদায় করার পরামর্শ থাকবে।

(০২)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যেদিন থেকে বালেগ/বালেগাহ হয়েছেন,সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত প্রবল ধারণার ভিত্তিতে কাজা রোজার হিসাব করবেন।

সেক্ষেত্রে চেষ্টার পরে অনুমানে কিছু ভুল হলে আশা করি আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করবেন।

আপনি এভাবে কাজা রোজার নিয়ত করবেনঃ-
"আমার জিম্মায় যত রোজা কাযা রয়েছে, সে অনাদায়কৃত রোজা সমূহের মধ্য থেকে প্রথম/সর্বশেষ রোজার কাযা আদায় করছি”

একাধিক বছরের রোযা কাজা হলে কোন বছরের কাজা রোযা,সেই বছরের নিয়ত করতে হবে।

(০৩)
এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ফরজ নামাজ এবং বিতর নামাজের কাজ আদায় করবেন, সুন্নত ও নফল নামাজের কাজা আদায় করতে হবে না।

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যেদিন থেকে বালেগ/বালেগাহ হয়েছেন,সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত প্রবল ধারণার ভিত্তিতে কাজা নামাজের হিসাব করবেন।
সেক্ষেত্রে চেষ্টার পরে অনুমানে কিছু ভুল হলে আশা করি আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করবেন।

আপনি এভাবে কাজা নামাজের নিয়ত করবেনঃ-
"আমার জিম্মায় যত ফজরের নামায কাযা রয়েছে, সে অনাদায়কৃত নামায সমূহের মধ্য থেকে প্রথম ফজরের নামাযকে এখন কাযা আদায় করছি”

বিস্তারিত জানুনঃ- 

(০৪)
আপনি যেভাবে চলছেন এটি সহিহ আছে। এতে সমস্যা নেই।

তবে প্রয়োজনীয় কথা হলে সেক্ষেত্রে কথার জবাব দেওয়া যাবে।

পরপুরুষের (গায়রে মাহরামের) সঙ্গে পর্দার আড়াল থেকে কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর কঠোর রাখবেন, সুমিষ্ট মোলায়েম স্বরে নয়।

হযরত আয়েশা (রা) এর নিকট মাসয়ালা বা হাদিসের প্রয়োজনে অন্যান্য সাহাবীগণ আসলে, তিনি মুখের ওপর হাত রেখে কণ্ঠ বিকৃত করে পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলতেন যেন কারো অন্তর ব্যাধিগ্রস্থ না হয়। (তাফসীরে কুরতুবী ১৪/১৪৬)

নারীদের জন্য গায়রে মাহরামের সাথে কথা বলতে গিয়ে কর্কশ ভাষায় কথা বলা সবচেয়ে ভালো। 
সুমিষ্ট মোলায়েম স্বরে নয়।

তবে এক্ষেত্রে কর্কশ ভাষায় কথা বলা সমস্যাকর বা বিরক্তিকর মনে হলে বা এভাবে কথা বলতে না পারলে সেক্ষেত্রে মুখের ওপর হাত রেখে কণ্ঠ বিকৃত করে পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 65 views
...