আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
85 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (14 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ উস্তাদজি,

দ্বীনের বুঝ পাবার পূর্বে আমি কিছু খারাপ অভ্যাসে ও হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলাম। হদ জারি হবার পর্যায়ে না পড়লেও অপরাধের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো।
দ্বীনের বুঝ পাবার পরও বাদ দিতে পারছিলাম না। গুনাহের কারণে সবসময় মনে অশান্তি লেগে থাকতো। জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে এরপর থেকে আমি কোন সফলতা পাইনি।

তারপর একদিন(প্রবাসে যাবার গিয়ে) তিনি আমাকে পরিকল্পিতভাবে ছেড়ে দেন। সবকিছু জেনেশুনেও তখন তাকে দিন রাত দুআয় চাইতাম, কল্যাণের সাথে চাইতাম। মনে হতো আমার প্রতিটি ধ্বনি, অশ্রুবিন্দু কবুল হচ্ছে। কিন্তু একটা সময় এসে ধাপে ধাপে আমার মন ফিরতে শুরু করে। এই অবস্থায় এসে আমি তাকে নিয়ে দুইটা স্বপ্ন দেখি।

তার সাথে সম্পূর্ণরূপে যোগাযোগ বন্ধ হবার পাঁচদিন পূর্বে ১ম স্বপ্ন দেখি,
(আমাকে তিনি সিমে মেসেজ দিয়েছেন যেন আমি তার কল রিসিভ করি। যেন আমি ব্লক করে রাখায় কল দিয়ে পাচ্ছেন না। নাম্বারটা দেশী ছিলো।
আমি কোন ধরণের রেসপন্স করিনি।
তারপর দেখলাম 'Radid' নামক একজন আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়েছে, "তোমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এখন তুমি তোমার স্বামীর সাথে কথা বলতে পারো, Enjoy করো।" এমন কিছু কথা...)

প্রথম স্বপ্ন দেখার এক বছর ২০-২৫দিনের মাথায় তার দেওয়া উপহারগুলো আল্লাহর নামে নদীতে ফেলে দিই।
সেই রাতেই পুনরায় স্বপ্ন দেখি,
(আমার তার সাথে বিয়ে হয়েছে। আমি খুশি-অখুশি কোনটাই ছিলাম না। আমার বোন বলছিলেন- "অবশেষে বিয়ে তো হয়েছে!" যেন কারো কোন অসম্মতি ছিলো না।
আমাদেরকে আমার বাবার কক্ষে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। বিয়েতে বাবার কোন আপত্তি দেখতে পাইনি। কক্ষে গিয়ে দেখি তিনি ফোন কিছু একটা মনোযোগ দিয়ে দেখছে। তার গায়ে কম্বল জড়ানো। আমি যাওয়া মাত্রই আমার দিকে না তাকিয়েই ফোন রেখে ফ্রেশ হতে চলে যায়। আমার হাতে দুটো বই ছিলো- একটা কিতাবুল ফিকহের কোন এক খন্ড, অপরটি সাদাটে মলাটের মধ্যে ছিলো- মহিমান্বিত কুরআনের মতো। মহিমান্বিত কুরআন বই-ই কিনা স্পষ্ট বলতে পারব না।
তারপর দেখি কক্ষে দুটো শোকেস দেখতে পাই যেখানে নানান প্রসাধনী রাখা ছিলো।)

স্বপ্ন দুটো আমি দুই আগস্ট মাসে দেখি। প্রথমটা ০৮ আগস্ট দিবাগত রাতে ও দ্বিতীয়টা ২৩/২৫ আগস্টে। দুটোই তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে দেখি।

উনাকে নিয়ে সম্পর্কে জড়ানোর আগে থেকে শুরু করে এই স্বপ্ন দুটোর আগ পর্যন্ত দেখা সবগুলো স্বপ্ন সত্য হয়েছে। কিন্তু স্বপ্নগুলো সত্য হচ্ছে সেটা শুরুর দিকে বুঝতে পারিনি।

উস্তাদজি, আমার এই বিচ্ছেদে এখনও ভীষণ পরিমাণে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমার এখন আর তার জীবন-আচার ভালোলাগে না, নিজের অতীত কৃতকর্মের জন্যেও অত্যন্ত বেশি লজ্জা হয়। আমার আর তার মুখোমুখি দাঁড়াতে ইচ্ছে হয় না। আমি তাকে মন থেকে ছেড়ে দিয়েছি। বছরখানেক আগে উনাকে পাব না ভেবে কষ্ট পেতাম, হতাশ হতাম। আর এখন উনাকে যদি দুআর কবুলিয়ত হিসেবে পেয়ে যাই এটা ভেবে আতঙ্কিত হই।

আমার পরিস্থিতি এমন যে আমাকে কেউ দায়িত্ব নিয়ে কখনোই বিয়ে দিবে না। আমার ভাই-বোন কাউকেই দেয়নি। ভাইয়েরা নিজে নিজে বিয়ে করেছে। আমার বড় বোনদের আর বিয়ের বয়স নেই। উনারাও নিজেদের বিয়ে বিষয়ে হতাশ।

এখন আমি নিজের ইমান - আখলাক হেফাজতের জন্য বিয়ে করতে চাচ্ছি। ম্যাট্রিমনিতে বায়োডাটা দিতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু বারবার আমার ঐ স্বপ্নগুলোর কথা মনে পড়ছে।

★ তাই জানতে চাচ্ছি ঐ স্বপ্ন দুটোর ব্যাখ্যা কী? আর আমি বিয়ের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করছি কিনা...?

আমি আল্লাহকে বলেছিলাম তার সাথে কিছু হবার হলে যেন ২০২৬ এর রমাদ্বান শেষ হবার পূর্বেই হয়। নয়তো যেন আমাকে এগিয়ে যাবার পথে আল্লাহ সাহায্য করেন। আমাকে যেন অন্য কোথাও কল্যাণ লিখে দিয়ে তা দ্রুত আমার জীবনে দিয়ে দেন। আমাকে যেন ফাহেশার চক্র থেকে বাঁচিয়ে নেন।

তাছাড়া আমি দিনকে দিন আবারও গাফেল হয়ে পড়েছি, সালাত আর ফাহশা আমার ঘাড়ে চেপে বসেছে। আল্লাহর অন্যান্য বিধানও উত্তমরূপে মেনে চলতে পারছি না।
এর কারণেও ভয় হয় যে, আমাকে আল্লাহ আমার মতোই গাফেল কোন ব্যাক্তি না ধরিয়ে দেন।

ইতিমধ্যে একজনের সাথে যুদ্ধ করে আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি। আমি তো এসব আমার জীবনে মেনে নিতে পারব না। আমিও তো ভালো থাকতে চাই। আমার স্বামী-সন্তান আমার চক্ষুশীতল না করে পরীক্ষা হয়ে যাক তা কখনোই চাই না। বিয়ে করেও দ্বীনহীনতার প্রভাবে বারবার বদদ্বীন, গাফেল হতে চাই না।

★তাই উস্তাদজি, আমাকে দয়া করে স্বপ্ন দুটোর বিষয়ে এবং আমার নিজেকে শক্তিশালী মু'মিনা-মুত্তাকী বানাতে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বলবেন।

★ বিয়ের প্রস্তুতি হিসেবে আমি কী কী বিষয়ে নিজেকে ফিট করতে পারি, সেই পরামর্শও  দিবেন ইনশাআল্লাহ্।

আমি আখলাকেও ভালো অবস্থানে নেই, আমলেও ভালো অবস্থানে নেই, কোন কাজকর্মও ভালো পারি না, পড়াশোনাও ভালো পারি না। দ্বীন দুনিয়া কোন কিছুই আমার ঠিক চলছে না। আমি দিনকে দিন আমার দুরাবস্থার কারণে হতাশ হয়ে পড়ছি। সালাত মিস গেলে, গুনাহ হলে আমি সবকিছুর উপর বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি, আমার কোন কিছুই আর করতে ভালো লাগে না। মানুষের সাথেও ভালোভাবে কথা বলতে ভালো লাগে না। সারাক্ষণ মন খারাপ লেগে থাকে।

★আর সর্বাবস্থায়, গোপনে-প্রকাশ্যে, অনুকূলে-প্রতিকূলে, প্রকৃত মুসলিম, মু'মিনা, মুত্তাকী কিভাবে হতে পারব সেটাও বলে দিবেন উস্তাদজি ইন শা আল্লাহ্।

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

কিছু উলামায়ে কেরামগন বলেছেন স্বপ্নে বিবাহ হতে দেখলে নিজের সম্মান ইজ্জত বৃদ্ধি পাওয়া বুঝায়।
,
কেহ কেহ বলেছেন যে স্বপ্নে কেউ বিয়ে করতে দেখে, তার দ্বারা আসন্ন বিবাহ বুঝায়। স্বপ্নের সময় যদি বিয়ের পরিকল্পনা না থাকে তাহলে হয়তো যার যঙ্গে বিয়ে হতে দেখেছে তাদের বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারে। নিম্নোক্ত হাদীসটি ইহা নির্দেশ করে:

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أُرِيتُكِ فِى الْمَنَامِ ثَلاَثَ لَيَالٍ جَاءَنِى بِكِ الْمَلَكُ فِى سَرَقَةٍ مِنْ حَرِيرٍ فَيَقُوْلُ هَذِهِ امْرَأَتُكَ فَأَكْشِفُ عَنْ وَجْهِكِ فَإِذَا أَنْتِ هِىَ فَأَقُولُ إِنْ يَكُ هٰذَا مِنْ عِنْدِ اللهِ يُمْضِهِ 

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাকে) বলেছেন, ‘‘আমি (বিবাহের পূর্বে) তোমাকে দু-দুবার স্বপ্নে দেখেছি। দেখলাম তুমি এক খণ্ড রেশমবস্ত্রের মধ্যে রয়েছ। আর আমাকে কেউ বলছে, ‘এ হল তোমার স্ত্রী।’ আমি কাপড় সরিয়ে দেখি, সে তো তুমিই। তারপর ভাবলাম, যদি এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তাহলে তিনি তা বাস্তবায়ন করবেন।
(বুখারী ৩৮৯৫, মুসলিম ৬৪৩৬)

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
আপনার বিবাহ আসন্ন ইনশাআল্লাহ।
নির্দিষ্ট সেই ছেলের সাথে আপনার বিবাহ হওয়ার অনেকটাই সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এর বিপরিতও হতে পারে।

মহান আল্লাহর কাছে দোয়া চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ রইলো। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (14 points)
উস্তাদজি তাহলে কি আমি ম্যাট্রিমনিতে আমার বায়োডাটা দিতে পারি? এতে কোন অসুবিধা হবে না তো?

তবে এর বিপরিতও হতে পারে। কথাটির দ্বারা মূলত কিসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন উস্তাদজি?

'নির্দিষ্ট সেই ছেলের সাথে আপনার বিবাহ হওয়ার অনেকটাই সম্ভাবনা রয়েছে।' শুধু এই কথার দিকে?
নাকি 'আপনার বিবাহ আসন্ন ইনশাআল্লাহ।' এই কথার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন?

এই ব্যাপারেও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করুন উস্তাদজি.. মিন ফাদ্বলিক....

আমি আখলাকেও ভালো অবস্থানে নেই, আমলেও ভালো অবস্থানে নেই, কোন কাজকর্মও ভালো পারি না, পড়াশোনাও ভালো পারি না। দ্বীন দুনিয়া কোন কিছুই আমার ঠিক চলছে না। আমি দিনকে দিন আমার দুরাবস্থার কারণে হতাশ হয়ে পড়ছি। সালাত মিস গেলে, গুনাহ হলে আমি সবকিছুর উপর বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি, আমার কোন কিছুই আর করতে ভালো লাগে না। মানুষের সাথেও ভালোভাবে কথা বলতে ভালো লাগে না। সারাক্ষণ মন খারাপ লেগে থাকে।

★আর সর্বাবস্থায়, গোপনে-প্রকাশ্যে, অনুকূলে-প্রতিকূলে, প্রকৃত মুসলিম, মু'মিনা, মুত্তাকী কিভাবে হতে পারব সেটাও বলে দিবেন উস্তাদজি ইন শা আল্লাহ্।
by (766,140 points)
অভিভাবকের সাথে আলোচনা করে ম্যাট্রিমনিতে আপনার বায়োডাটা দিতে পারেন। এতে কোন অসুবিধা নেই।

তবে এর বিপরিতও হতে পারে। কথাটির দ্বারা মূলত এইদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছেঃ-

'নির্দিষ্ট সেই ছেলের সাথে আপনার বিবাহ হওয়ার অনেকটাই সম্ভাবনা রয়েছে।' 

শুধু এই কথার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...