আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
50 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (26 points)
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মেহেরবানী করে বিস্তারিত প্রশ্ন পড়ে উত্তর করবেন উস্তাজ।

 ২০০৭ সালে আমার বিয়ে হয় গাজীপুর এ, আমার স্বামীর ছোট ২ বোন আছে, বিয়ের পরেই বুঝতে পারছি যে এরা কেউ আমাকে পছন্দ করেন না।প্রচুর অশান্তি শুরু হয়, আমাদের দুজনের মধ্যে কোন সমস্যা ছিল না, সবই তারা তৈরি করত।তারপর থেকে হঠাত আমার স্বামীর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় এবং একটা পর একটা সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আমি মেয়ে হওয়ার আগে সর্ব প্রথম একটা কাগজ পাই বালিশের ভিতর, পরে জানতে পারি বিচ্ছেদের জন্য্য করা।আমার শ্বাশুড়ী কবিরাজ এর কাছে যেত এবং ওনার ভাই পাশেই থাকে উনিও কবিরাজ।

এরপর মেয়ে হওয়ার পর আমরা আলাদা হয়ে যাই নিচ তলায়।ওরাই করে দেয়।কিছুদিন পরে আবার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়।
ছেলে হওয়ার আগে ২০১২ সাল থেকে সে বেকার, আপু ডাবল মাস্টার্স কমপ্লিট একটা ছেলে কম্পিউটার সহ সব জানার পরও একটা চাকরি হল না বছরের পর বছর।একটা ফার্ম দিয়েছিল আবার ২০২১ সালে। ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে সেটাও লস আবার একটা অনলাইন ব্যবসায় এখন ৪ লক্ষ টাকা এখন ঋণ আছে কি পেরেশানি তে আছি আল্লাহই ভালো জানে।আমার শ্বশুর শ্বাশুড়ি র সাথেই এখনো আছি, এর মাঝে অনেক তাবিজ বাসায় পেয়েছি।ওনারা এখন বৃদ্ধ, ৫ ওয়াক্ত সালাত, কোরআন পরেও নাটক সিনেমা ছাড়ে না ব্যবহারও ভালো না। অল্প কিছু টাকা বাসা ভাড়া থেকে দেয় সংসার খরচের জন্য।

আমার স্বামী কে বহুবার বলেছি অন্যকোথাও চলে যাই কিন্তু ঋণের জন্য আর নিজের কোন কাজ নেই তাই যেতে সাহস পায় না।আমি এখন কী করব?অনলাইনে কত কিছু করার চেষ্টা করলাম কিছুই হলনা,ছেলেটা হিফয পরছে আলহামদুলিল্লাহ, মেয়েকে আপনাদের এখানে দিয়েছি, মেয়েটা খুব কষ্ট পাচ্ছে।সেলফ রুকইয়া করেছি, আগে তো জানতাম না বোঝার পর থেকে মাসনুন আমল করি আলহামদুলিল্লাহ ওদেরকে নিয়ে।

কিন্তু আমার এখন মনে হয় এই বাড়ি থেকে না বের হলে কিছুই ঠিক হবে না।মেয়েটার বয়স ১৬ বছর।চাইলেও কোথাও যেতে ভয় হয়।গ্রামে নিজেদের জমি আছে কিন্তু বাড়ি তো নেই,শহরের এই বাড়ি তো ওনাদের নামে,মেয়েরা এই বাড়ির ফ্ল্যাট তাদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য বসে আছে। ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী এখন আমার করনীয় কী?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

তাবিজে কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, দুআয়ে মাসুরা বা শিরকমুক্ত অর্থবোধক থাকলে, আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় লিখা না হলে তা  জায়িজ।  কেননা এসব তাবিজের ক্ষেত্রে মুয়াসসার বিজজাত তথা আরোগ্যের ক্ষমতা আল্লাহ তাআলাকেই মনে করা হয়। 
.
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعَلِّمُهُمْ مِنَ الْفَزَعِ كَلِمَاتٍ: «أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ» وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يُعَلِّمُهُنَّ مَنْ عَقَلَ مِنْ بَنِيهِ، وَمَنْ لَمْ يَعْقِلْ كَتَبَهُ فَأَعْلَقَهُ عَلَيْهِ

আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা ও তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে,রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেন,তোমাদের কেউ যখন ঘুম অবস্থায় ঘাবড়িয়ে উঠে,সে যেন  أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ দো’আটি পাঠ করে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর তাঁর উপযুক্ত সন্তানদের তা শিক্ষা দিতেন এবং ছোটদের গলায় তা লিখে লটকিয়ে দিতেন।{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৮৯৫}

এ হাদীস স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাঃ তাঁর অবুঝ সন্তানদের জন্য তাবীজ লিখে তা লটকিয়ে দিতেন।

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ كُنَّا نَرْقِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَرَى فِي ذَلِكَ فَقَالَ " اعْرِضُوا عَلَىَّ رُقَاكُمْ لاَ بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ " .

আবূ তাহির (রহঃ) ..... আওফ ইবনু মালিক আশজা'ঈ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাহিলী (মূর্খতার) যুগে (বিভিন্ন) মন্ত্র দিয়ে ঝাড়ফুঁক করতাম। এজন্যে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আবেদন করলাম- হে আল্লাহর রসূল! এক্ষেত্রে আপনার মতামত কি? তিনি বললেন, তোমাদের মন্ত্রগুলো আমার নিকট উপস্থাপন করো, ঝাড়ফুঁকে কোন দোষ নেই- যদি তাতে কোন শিরক (জাতীয় কথা) না থাকে। (মুসলিম ৫৬২৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৫৪৪, ইসলামিক সেন্টার ৫৫৬৯)

আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহঃ উল্লেখ করেন-

إنما تكره العوذة إذا كانت بغير لسان العرب ، ولا يدرى ما هو ولعله يدخله سحر أو كفر أو غير ذلك ، وأما ما كان من القرآن أو شيء من الدعوات فلا بأس به

নিশ্চয় নিষিদ্ধ তাবীজ হল যা আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় লিখা হয়, বুঝা যায় না তাতে কি আছে? অথবা যাতে জাদু, কুফরী ইত্যাদি কথা থাকে। আর যেসব তাবীজে কুরআন বা দুআ সম্বলিত হয় তা ব্যবহারে কোন সমস্যা নেই। {ফাতওয়ায়ে শামী- এইচ এম সায়ীদ ৬/৩৬৩}

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনাদের যেহেতু অন্য বাসায় গিয়ে থাকার মত সামর্থ্য সেরকম নেই, পাশাপাশি ওই বাসা ছেড়ে দিলে এক্ষেত্রে সেই বাসা আর কোনোভাবেই কোনদিন পাওয়ার যেহেতু সুযোগ নেই, তাই সে বাসা ছেড়ে না দেওয়ারই পরামর্শ থাকবে।

আপনাদের প্রতি পরামর্শ হলো আপনারা কোন বৈধ রুকইয়াহ কারীর শরণাপন্ন হন। যাতে এমন রুকইয়াহ করে দেয়,যাতে আপনাদের বিরুদ্ধে যারা আছে,তাদের কোনো তাবিজ মন্ত্রের কোনো কাজে না আসে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...