আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
55 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (3 points)
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য মাস্টার্স শেষ করেছি।মোটামুটি ইসলাম প্রাকটিস করার চেষ্টা করি। পরিবার আত্নীয় স্বজন সবাই আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে, প্রত্যাশা করে আমি ভালো কোন চাকরি করবো। আমার বাবা মা খুব অসহায় অবস্থায় আছে, ঠিকমতো খাবার জোটে না, অসুস্থ। আমাদের যতটুকু সম্পদ ছিলো তা আমাদের পড়াশোনার পেছনে খরচ করেছে আব্বু। সবাই মনে করে আমি চাকরি করলে তাদের দুঃখ ঘুচবে।কিন্তু ইসলামে তো রিজিকের দায়িত্ব পুরুষদের দেয়া হয়েছে।

আমি বিবাহিত। আমার স্বামী ভালো চাকরি করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে চান না আমি কোন চাকরি করি। আমি সেটা মানতে রাজি।তিনি বলেন যে দায়িত্ব তোমাকে দেয়া হয় নাই সেটা কেন তুমি নিবা। কিন্তু বার বার আমার বাবা মায়ের দুঃখের কথা মনে পড়ে যায়। তখন উনি বলেন যে তুমি কেন কষ্ট পাবা, তারা কি তোমার টাকার আশায় বসে আছে নাকি? সুতরাং তাদেরকে নিয়ে তোমার ভাবার কোন দরকার নেই। আল্লাহ তাদের ব্যবস্থা করে দিবেন। আমি এই ব্যাপারটাতে খুব কষ্ট পাচ্ছি। সন্তান হিসেবে আমার বাবা মায়ের প্রতি তো দায়িত্ব আছে। তাদের জন্য কিছু করতে মন চায়। মনে হয় আমার কাছে টাকা থাকলে তাদেরকে দিতাম, কষ্ট দূর হতো। আরো কিছু মানুষ আসে যারা আমাকে ছোটবেলা থেকে অনেক যত্ন , সাপোর্ট করেছেন। তাদেরকে হেল্প করতে ইচ্ছে করে আমার। কিন্তু আমার হাসব্যান্ড বলে যে এসব করা তোমার দায়িত্ব নয়, ইসলাম তো নারীদের অর্থনৈতিক কোন দায়িত্ব দেয় নি। তার মতে এসব কারণ দেখিয়ে চাকরি করা হারাম হবে। বাংলাদেশে চাকরির পরিবেশ তো ফ্রী মিক্সিং। এ কারণেও তিনি হারাম মনে করেন। এবং মনে করেন আমার বাবা মায়ের আর্থিক দায়িত্ব নেয়া আমার জন্য ফরয না। তাহলে কেন আমি সেটার জন্য চাকরি করবো। এছাড়াও তিনি আরো মনে করেন যে মেয়েরা চাকরি করে স্বামী সন্তান সংসারের হক ঠিকমত আদায় করতে পারে না। সংসারে শান্তি থাকে না। এজন্য তিনি মন থেকে চান না আমি কোন চাকরি করি। তিনি এও বলেছেন যে " তোমার পরিবারের দায়িত্ব নিতে আমি বাধ্য না"। সুতরাং আমি তো তার কাছে টাকা পয়সা জোর করে নিয়ে আমার পরিবার কে সাহায্য করতে পারবো না। তিনি তার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এবং বলেছেন এরপরেও তুমি চাকরি করতে চাইলে করতে পারো। এখন আমি চাকরি করলে আমার স্বামী মনে কষ্ট পাবেন। আমি তাকে কষ্ট দিতে পারবো না।ঐদিকে আমিও কষ্ট পাচ্ছি আমায় পরিবারের কথা ভেবে। প্রতিটা মুহূর্ত আমি এক মারাত্মক দ্বিধার যন্ত্রণা অনুভব করছি। অনেক বেশি কষ্ট পাচ্ছি বিষয়গুলো নিয়ে। এই অবস্থায় আমার করণীয় কি?ইসলামের আলোকে সুন্দর একটা সমাধান চাই। আল্লাহ সহজ করুন সবকিছু আমিন।

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
দুনিয়া এবং আখেরাতের কল্যাণ এতেই নিহিত রয়েছে যে, সংসারের পুরুষরাই যথাসাধ্য কষ্ট স্বীকার করে চাকুরী করে আপন পরিবার পরিজনের দেখভাল করবে।পরিবারের দেখভাল করা ইসলামি আইন অনুসারে পুরুষদের উপর-ই ওয়াজিব। তাই অযথা পরিবারের দায়িত্ব মহিলাদের জন্য নিজের উপর না নেয়াই উচিৎ ও কাম্য।
বিশেষ কোনো কারণ বশত চাকুরী করা বা উপার্জন করা যদি সংসারের পুরুষদের জন্য অসাধ্য হয়ে যায়,তখনই নারীরা পরিবারের হাল ধরতে পারবে। তখন মহিলাটি সর্বদা পর-পুরুষ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ইস্তেগফারের সাথে ফ্রি মিক্সিং পরিবেশেও চাকুরী করতে পারবে। এটা বিশেষ ক্ষেত্রে মহিলার জন্য শরীয়ত প্রদত্ত বিশেষ রুখসত।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1377

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনার মাতাপিতা যেহেতু কোনোরকম কষ্টকরে চলে যেতে পারছেন, অন্যদিকে আপনার স্বামীর পক্ষ থেকে চাকুরীর কোনো অনুমোদন নেই, তাই আপনার জন্য চাকুরী করা অনুমোদনযোগ্য হবে না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...