আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
53 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (16 points)
আসসালামুআলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ
১. আমার আব্বুর ইনকাম পুরোটায় হারাম। আমি একজন মেয়ে। আমার চাচাদের মূল ইনকাম হালাল কিন্তু তারা লোন, কিস্তি এগুলো নেন।তারা এগুলো স্বাভাবিক মনে করেন।আমি যদি তাদের কিছু বলতে যাই তাহলে আমাকে তারা আব্বুর কথা বলবে। আমি আব্বুকে যথাসাধ্য  বোঝানোর চেষ্টা করি, এই বিষয়ে চাচা চাচীরা কেউ  তেমন কিছু জানেন না।আমার আব্বু বুঝতে চান না, আল্লাহ ওনাকে হেদায়েত দান করুন। আমি দাওয়াত দিতে গেলে ওনারা আব্বুর কথা বললে আমি কি বলব? আমার কি এখন ওনাদের দাওয়াত দেওয়া ঠিক হবে?

২. চাচাদের মূল ইনকাম হালাল কিন্তু কিস্তি নেন।তাদের ইনকামে কি পরিমান হারাম আছে আমি জানি না তাদের থেকে কোনো কিছু নেওয়া যাবে কি?

৩. কোনো কিছু যদি জানতে পারি কিস্তির টাকা থেকে কেনা হয়েছে।তাহলে কি ঔ জিনিসের কোনো অংশ গ্রহন করা যাবে?

৪. কিস্তির জিনিসের কোনো অংশ গ্রহন করা না গেলে, চাচা চাচীরা কারন জানতে চাইলে কি বলব?

৫. আমি একটি প্রতিষ্ঠানে দ্বীনি ইলম অর্জন করছি।আব্বুর হারাম টাকা দিয়েই। আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ও নেক সহবতে বেশি সময় কাটানোর জন্য ভলেন্টিয়ারের দায়িত্ব পালন করছি । এটা কি ঠিক হয়েছে? যেহেতু wifi বিল আব্বুর টাকা থেকে দেওয়া হয়।

৬. ভলেন্টিয়ারের দায়িত্ব নেওয়া ভুল হলে এটা কি ছেড়ে দিব?

৭. কোনো শিক্ষার্থী কোনো জায়গায় পড়া অবস্থায় আমি কি আমার যোগ্যতার কথা বলে আমার কাছে পড়তে বলতে পারি?

৮. কোনো জায়গায় পড়া অবস্থায় তাকে আমার কাছে পড়তে বলাই কি বর্তমান শিক্ষকের সাথে অন্যায় করা হবে?

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
বাবার ইনকাম হারাম হলে,
সাবালক ছেলে বাবার ইনকাম থেকে কিছুই গ্রহণ করতে পারবেনা।
তবে যদি সে অপারগ থাকে,তাহলে পরবর্তীতে ঐ টাকা সদকাহ করার নিয়তে হিসেব করে করে বাবার কাছ থেকে আপাতত নিতে পারবে।

মেয়ের বাবার ইনকাম যদি হারাম হয়,এবং ঐ বাবার মেয়ে যদি দ্বীনদ্বার হয়,তাহলে এমন মেয়েকে বিয়ে করতে কোনো অসুবিধে নাই।
কেননা বাবার ইনকাম হারাম হলেও বাবার উপর শরীয়ত কর্তৃক মেয়েকে লালন পালন করা ওয়াজিব।হারাম খাওয়ানোর দরুণ বাবাকে জবাবদিহি করতে হবে।তবে মেয়ে নিরাপরাধ হিসেবেই থাকবে।
নাবালক ছেলে সন্তান এবং সকল বয়সের মেয়ে সন্তানের লালনপালনের দায়িত্ব নিকটাত্মীয় মাহরাম পুরুষের উপর।পিতা,ভাই,চাচা ইত্যাদি মাহরাম পুরুষরা ধারাবাহিক মেয়ে সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এটা তাদের উপর ওয়াজিব।তারা এ দায়িত্ব পালন না করলে গোনাহগার হবে।
ونفقة البنت بالغة والابن بالغا زمنا أو أعمى على الأب خاصة به يفتى 
বালেগ মেয়ে এবং বালেগ পঙ্গু বা অন্ধ ছেলের ভরণপোষণের দায়িত্ব পিতার উপর।এটার উপরই ফাতাওয়া।(আল-উকুদুদ-দুররিয়া-১/৮২) বিস্তারিত জানুন-https://www.ifatwa.info/2362


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) আপনি আপনার বাবাকে বুঝাবেন পাশাপাশি চাচাদেরকে বুঝাবেন। চাচারা আপনার বাবার কথা বললে আপনি তাদের বলবেন, বাবাকেও বলেছি। আপনাদের সবার জন্যই আমার মেসেজ।

(২) চাচাদের মূল ইনকাম হালাল কিন্তু কিস্তি নেন। তাদের ইনকাম থেকে কিছু গ্রহণ করা জায়েয হলেও না নেয়াই উত্তম। কিস্তিতে যেই টাকা নেয়া হবে, সেই টাকাকে যদি হালাল টাকা দ্বারা পরিশোধ করা হয়, তাহলে সুদের বিনিময়ে কিস্তি নেয়া গোনাহ হলেও কিস্তির টাকা আপনার জন্য হারাম হবে না।

(৩)  কিস্তির টাকা থেকে কোনোকিছু কেনা হলে, ঐ জিনিসের ক্রয়বিক্রয় করা যাবে। 

(৪) কিস্তির জিনিসের কোনো অংশ গ্রহন করা না গেলে, চাচা চাচীরা কারন জানতে চাইলে বলবেন, যেহেতু কিস্তির টাকা দ্বারা কিনা তাই আপনার মন সায় দিচ্ছে না।

(৫) আপনি আপনার বাবার হারাম টাকা দিয়ে অতীব জরুরী সকল কাজ করতে পারবেন। এতে কোনো গোনাহ হবে না।

(৬) ভলেন্টিয়ারের দায়িত্ব নিতে পারবেন।

(৭) কোনো শিক্ষার্থী অন্যত্র পড়ছে, এমতাবস্থায় আপনি আপনার যোগ্যতার কথা বলে আপনার কাছে পড়তে বলতে পারেন না।

(৮) সে যখন অন্যত্র পড়ছে, তাই তার জন্য সেখানে পড়াশোনা করাটাই উত্তম হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...