আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
77 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (54 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম,
১.আমার এক আপুর ৮ বছর পর বেবি কন্সিভ করছে।ডেলিভারির সময় এসে গেছে কিন্তু অবস্থা ক্রিটিক্যাল।ক্লিনিক থেকে মেডিকেলে রেফার্ড করছে।উনার গর্ভবস্থায় ই কিছু জটিলতা ছিল।আমরা হিফয করি উনি আমাদের হিফয ক্লাস এর ই একজন আপু।আমরা সবাই মিলে উনার সুস্থতা বা সহজতার জন্য কুরআন খতম করে দুয়া করতে যাচ্ছি।এই উদ্দেশ্যে বা এভাবে কুরআন খতম করা কি জায়েজ হবে?

২.একজন সাবালক মেয়ে কি তার বাবার সাথে একি রুমে ঘুমাতে পারবে?আসলে আজকে বাসায় আর কেউ নাই।মা বোন এক জায়গায় গিয়েছেন।মেয়েটা অনেক ভয় পায়।রাতে একা ঘুমাতে পারেনা।এক্ষেত্রে বাবা বিছানায় ও মেয়ে যদি সোফায় ঘুমায়।মাঝে কিছুটা ডিসটেন্স আছে।এছাড়া শীতের দিন হওয়ায় গায়ে কম্বল লেপ থাকবে।আর বাবা রাতে ঘুমের মেডিসিন খেয়ে ঘুমান তিনি সকাল অব্ধি বেহুশ থাকেন এক প্রকার।এ অবস্থায় একি রুমে ঘুমানো জায়েজ হবে কিনা?

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
কুরআনে কারীম মানব জাতির জন্য শে'ফা স্বরূপ নাযিল হয়েছে।বাহ্যিক ও অন্তর্গত সকল বিষয়ে কুরআনে কারীম মানব জাতির জন্য কল্যাণকর।
কুরআনে কারীম যেভাবে একজন মানুষকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর পথে নিয়ে আসতে পারে। ঠিকতেমনি বাহ্যিক অসুস্থতাকে সুস্থতায় পরিণত করে দিতেও পারে।
কুরআনে কারীম মূত্যুর পরও কাজ দিবে।অর্থাৎ আল্লাহর হুকুমে তেলাওয়াতকারীকে করব জগতের আ'যাব থেকে রক্ষা করবে।
মোটকথাঃ
ঈসালে সওয়াব(কাউকে সওয়াব পৌছিয়ে দেয়া) হিসেবে কুরআনে কারীম তেলাওয়াত করা যাবে।তবে এক্ষেত্রে বিনিময় গ্রহণ করা যাবে না।তবে হ্যা দুনিয়াবি প্রয়োজন হিসেবে চিকিৎসা স্বরূপ বিনিময়ের সাথে কুরআন তেলাওয়াত করা যাবে বা কোনো বিশেষ সূরা পড়া যাবে।এক্ষেত্রে অনুমোদন রয়েছে।
আল্লাম ইবনে আবেদীন শামী রাহ লিখেন,
ﻭﺃﺧﺬ ﺍﻷﺟﺮﺓ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺬﻛﺮ ﻭﻗﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ، ﻭﻏﻴﺮ ﺫﻟﻚ ﻣﻤﺎ ﻫﻮ ﻣﺸﺎﻫﺪ ﻓﻲ ﻫﺬﻩ ﺍﻷﺯﻣﺎﻥ، ﻭﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻛﺬﻟﻚ ﻓﻼ ﺷﻚ ﻓﻲ ﺣﺮﻣﺘﻪ ﻭﺑﻄﻼﻥ ﺍﻟﻮﺻﻴﺔ ﺑﻪ، ﻭﻻ ﺣﻮﻝ ﻭﻻ ﻗﻮﺓ ﺇﻻ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﺍﻟﻌﻠﻲ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ-
আল্লাহর যিকির বা কুরআন তেলাওয়াত করে বিনিময় গ্রহণ করা মাকরুহ।যে প্রথা বর্তমান সময়ে লক্ষ্য  করা যাচ্ছে। এরকম প্রথা/রুসুম চালু হয়ে গেলে সেটা হারাম হবে।এবং এর ওসিয়ত বাতিল করলে সেটাও বাতিল বলে গণ্য হবে। এতে কোনো সন্দেহ নাই। (রদ্দুল মুহতার(শামেলা):২/২৪১,আহসানুল ফাতাওয়া-৭/২৯৯)

বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-  https://www.ifatwa.info/997

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
জীবিত ও মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন খতম করা যাবে। জীবিতদের বিভিন্ন প্রয়োজনে কুরআন পড়া যাবে। এমনকি তখন বিনিময় গ্রহণের রুখসত থাকবে।যদিও আজিমত হল, গ্রহণ না করা। প্রশ্নের বিবরণমতে আপনারা ঐ বোনের জন্য কুরআন পড়ে দু'আ করতে পারবেন। আপনাদের জন্য তা জায়েয হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...