আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

+1 vote
47 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (19 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ।

আমি একজন স্টুডেন্ট।পর্দার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্ট্রিক্ট থাকি। বর্তমানে এমন একটি পড়াশোনায় যুক্ত আছি যা পরবর্তীতে উম্মাহর জন্য বিবিধ উপকার বয়ে নিয়ে আসবে।এই অবস্থায় বর্তমানে আমি কয়েকটি বিষয়ের সম্মুখীন হওয়ার আশংকা করছি।

(উল্লেখ্য: পড়াশোনার মাধ্যম অনলাইন)

১.আমার বর্তমান শিক্ষক গাইরে মাহরাম পুরুষ।আমার পড়াশোনার পর্যবেক্ষণ এবং পর্যালোচনার জন্য শিক্ষকের কাছে ইনবক্সে পেপার সাবমিট করতে হয়।তখন তিনি আমার লিখিত পেপার দেখে ভুল-ত্রুটিগুলো বলে দেন(মেসেজে বা কলে)। প্রয়োজনীয় পড়াশোনার বিষয় ছাড়া অন্য কোনো ব্যাপারে আলোচনা হয় না এবং ফিতনার বিষয়টি মাথায় রেখেই আমি খুব অল্প কথায় প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করি,উত্তর দিই।এভাবে জেনারেলের উপকারী কোনো বিষয়ে পড়াশোনা করা কি জায়েয হবে এবং শিক্ষকদের সাথে কি মেসেজ বা কলে কথা বলা জায়েয হবে?

২.দ্বিতীয় আরেকটি বিষয়, অনলাইনে যখন ক্লাস নেওয়া হয় তখন পুরুষ-মহিলা একত্রে জয়েন করেন।স্যার লেকচার দেন।অন্যান্যরা লেকচার শেষে প্রশ্ন করেন।পুরুষ-মহিলা একত্রিত ক্লাসরুমে আমি একদমই চুপ থাকি।নিজের প্রশ্ন থাকলেও অন্যরা কি প্রশ্ন করছে,স্যাররা তাদের উত্তর কি দিচ্ছেন সেখান থেকে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করি। এক্ষেত্রে কখনো যদি টিচার আমাকে ডাকেন এবং সকলের(পুরুষ-মহিলা) সামনে রেসপন্স করতে হয়, প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়,অথবা অপারগ হয়ে কথা বলে প্রশ্ন করতে হয়(মেসেজের মাধ্যমে লিখে না,বরং সরাসরি কথা বলে),এটা কি জায়েয হবে?শাইখ,বিস্তারিত বুঝিয়ে বললে খুব ভালো হয়।

জাযাকুমুল্লাহু খইর।

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ 

يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا (32) وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى

 হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও [ইহুদী খৃষ্টান)। তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় পাও তবে বিনম্র হয়ে কথা বলনা, যাতে যাদের মাঝে পৌরষত্ব আছে তারা তোমাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। বরং তোমরা স্বাভাবিক কথা বল। এবং তোমরা অবস্থান কর স্বীয় বসবাসের গৃহে। {সূরা আহযাব-৩২}
লক্ষণীয় বিষয় হল, কন্ঠস্বরের কোমলতা পরিহারের নির্দেশ সরাসরি নবীযুগের নারীদেরকে দেয়া হয়েছে।
সুতরাং আমাদের যুগের মহিলাদের আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
,
কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
إِنَّ السَّمْعَ وَالبَصَرَ وَالفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا.
...নিশ্চয় কান, চোখ, হৃদয় এর প্রতিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সূরা বনী ইসরাঈল (১৭) : ৩৬

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।

فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُزِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, চোখের জিনা হল [হারাম] দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, [গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক] কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহবার জিনা হল, [গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক] কথোপকথন। হাতের জিনা হল, [গায়রে মাহরামকে] ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হল, [খারাপ উদ্দেশ্যে] চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় [যদি জিনা করে] এবং মিথ্যা পরিণত করে [যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে]। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২}

ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ;১৯/১৯৩ এ নারীদের আওয়াজ সতরের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার (মারজুহ) রেওয়াতকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অগ্রাধিকার দিয়ে বলা হয়েছে যে,পর-পুরুষের সামনে মহিলা বক্তৃতা দিতে পারবে না।বক্তৃতা প্রদান জায়েয হবে না।

★নারীকন্ঠ সতরের অন্তর্ভুক্ত কি না? 
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুনঃ

★পরপুরুষের (গায়রে মাহরামের) সঙ্গে পর্দার আড়াল থেকে কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর কঠোর রাখবে, সুমিষ্ট মোলায়েম স্বরে নয়।

হযরত আয়েশা (রা) এর নিকট মাসয়ালা বা হাদিসের প্রয়োজনে অন্যান্য সাহাবীগণ আসলে, তিনি মুখের ওপর হাত রেখে কণ্ঠ বিকৃত করে পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলতেন যেন কারো অন্তর ব্যাধিগ্রস্থ না হয়। (তাফসীরে কুরতুবী ১৪/১৪৬)

নারীদের কন্ঠের পর্দা আবশ্যক কিনা,এই ব্যাপারে ইসলামী স্কলারদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কথা বলা যাবে। প্রয়োজনীয় মেসেজের উত্তর দেওয়া যাবে তবে শর্ত হলো ফিৎনার কোন আশঙ্কা থাকা যাবে না।

নারীদের জন্য গায়রে মাহরামের সাথে কথা বলতে গিয়ে কর্কশ ভাষায়/বা কন্ঠকে বিকৃত করে কথা বলা সবচেয়ে ভালো। 
সুমিষ্ট মোলায়েম স্বরে নয়।

সুতরাং আপনিও এভাবে অনলাইনে শিক্ষকের সাথে কথা বলবেন।

এভাবে কর্কশ ভাষায়/বা কন্ঠকে বিকৃত করে কথা বলা সমস্যাকর বা বিরক্তিকর মনে হলে বা এভাবে কথা বলতে না পারলে সেক্ষেত্রে মুখের ওপর হাত রেখে কণ্ঠ বিকৃত করে কথা বলবেন।

কোনক্রমে ভিডিও কলে কথা বলা যাবে না, ভিডিওতে যেন কোন ভাবে আপনাকে দেখা না যায়, আপনার কোন ছবিও যেন দেখা না যায়।

(০২)
এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর আপনি অন্য স্টুডেন্টদের মাধ্যমে পেয়ে গেলে আপনি কোন রেসপন্স না করবেন না।

আর সেই ধরনের প্রশ্নের উত্তর আপনি না পেলে প্রশ্ন আপনি করতে পারেন।

এক্ষেত্রে আপনার থেকে কোন কথা শোনা যেটা অন্যান্য ছাত্ররা শুনবে এটা শরীয়তের পর্দার বিধান লঙ্ঘন,এতে ফিতনার আশংকা থাকে, তাই এতে গুনাহ হবে।

এক্ষেত্রে ছাত্রীদের সাথে কথা বলার জন্য মহিলা শিক্ষিকা নিয়োগ দিতে হবে। যারা মহিলাদের সাথে কথা বলবে এবং এমন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে, যাতে করে কোন নারীর কন্ঠ যেন কোন পুরুষ শিক্ষক বা পুরুষ ছাত্র শুনতে না পায়।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...