আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
88 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (29 points)
আসসালামু আলাইকুম।
এই শীতকালে শৈত্যপ্রবাহের দিনগুলিতে একদিন /দুইদিন পরপর আমার হাজব্যান্ড শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়,যেহেতু আমার ঠান্ডা লাগার সমস্যা আছে,শরীরে শীত বেশি,তাই আমি এই ব্যাপারে ইচ্ছা করিনা।তবুও একদিন আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও গোসল ফরজ হয় আর আমার অনেক বেশি ঠান্ডা লাগে,আর খুবই রাগ উঠে হাজব্যান্ড এর উপর,তারপর রাগ দেখিয়ে বলি যে এখন থেকে ডেইলি সম্পর্ক করতে হবে, আমি নিজের ক্ষতির দিকে তাকাবোনা..ইত্যাদি ইত্যাদি।তো রাগ এমন চরমে উঠে যে আল্লাহর কসম দিয়ে বলি,কাল থেকে যদি প্রতিদিন না করো তো দেখিও আমি কি করি!!আমি কি করবো তা আমি না জেনে,না ভেবেই এরকম বলে ফেলি।


আসলে আমি জানি কোনদিনও ডেইলি শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব না আমাদের পক্ষে,তবুও রাগের বশে এরকম বলে ফেলি।এরপর এই শপথ তো আর রাখা সম্ভব ও হয়নি।


১.আমার কি এখন কাফফারা দিতে হবে?

এটা কি অনর্থক শপথ নয়??


২.আই ফতোয়াতে করা প্রশ্নগুলো চাইলে ডিলিট করতে পারবো কিনা ?


৩.আমার শরীর খুব দূর্বল,খাবারে রুচি নেই,এক বেলা না খেলে মাথা ঘুরতে থাকে,প্রেশার লো হয়ে যায়।তাই রমজান মাসে যদি রুচির ওসুধ খাই,আর আমার খাবার খাওয়া বেশি হয়,ফলে রোজা রাখতে কষ্ট কম হয়,তাহলে কি গুনাহ হবে?


৪.আমার বিয়ের ৫বছর,প্রায়ই ঝগড়াঝাটির সময় হাজব্যান্ড বলতো তুমি তোমাদের বাড়িতে চলে যাও,তোমার সাথে সংসার করা সম্ভব না,তোমার সাথে সংসার করতে চাইনা...

তো আগে জানতাম না এসব কথার কারনে কেনায়া তালাক হয়,কিন্তু এখন জানার পর হাজব্যান্ড কে জিজ্ঞেস করলাম এসব কথা দ্বারা কি তালাক বুঝাইছে কিনা!বলে যে না, এগুলো রাগ করে বলছে।তালাক এর নিয়তে বলেনাই।

আমি জানিনা সে সত্যি কথা বলছে কিনা।।তাহলে আমি কি আমার সংসার কে হালাল ভাবতে পারবো?যেহেতু তার মুখের কথা বিশ্বাস করা ছাড়া আর উপায় নেই।


৫.উস্তায,আল্লাহর রহমতে আমি আগের চেয়ে এখন দ্বীনের পথে আসছি ভালো,আইওএম এ ভর্তির সুযোগ করে দিছেন আল্লাহ,আলহামদুলিল্লাহ।
আমি যদি ভাবি আমার দ্বারা হারাম সংসার হলে হয়তো আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরে যাইতাম আরো,যেহেতু আরো হেদায়েতের পথে আসছি,তাহলে হয়তো আমি যিনার সাথে যুক্ত নাই,আল্লাহ ভরসা।গুনাহ নাকি মানুষকে আরো বেশি গুনাহের দিকে নিয়ে যায়।

আমি কি এরকম ভাবতে পারবো নাকি এটা আমার ভুল ভাবনা?

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
সুরা মায়েদার ৮৯ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন 
 لَا یُؤَاخِذُکُمُ اللّٰہُ بِاللَّغۡوِ فِیۡۤ اَیۡمَانِکُمۡ وَ لٰکِنۡ یُّؤَاخِذُکُمۡ بِمَا عَقَّدۡتُّمُ الۡاَیۡمَانَ ۚ فَکَفَّارَتُہٗۤ اِطۡعَامُ عَشَرَۃِ مَسٰکِیۡنَ مِنۡ اَوۡسَطِ مَا تُطۡعِمُوۡنَ اَہۡلِیۡکُمۡ اَوۡ کِسۡوَتُہُمۡ اَوۡ تَحۡرِیۡرُ رَقَبَۃٍ ؕ فَمَنۡ لَّمۡ یَجِدۡ فَصِیَامُ ثَلٰثَۃِ اَیَّامٍ ؕ ذٰلِکَ کَفَّارَۃُ اَیۡمَانِکُمۡ اِذَا حَلَفۡتُمۡ ؕ وَ احۡفَظُوۡۤا اَیۡمَانَکُمۡ ؕ کَذٰلِکَ یُبَیِّنُ اللّٰہُ لَکُمۡ اٰیٰتِہٖ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ﴿۸۹﴾

আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করেন না তোমাদের অর্থহীন কসমের ব্যাপারে, কিন্তু যে কসম তোমরা দৃঢ়ভাবে কর সে কসমের জন্য তোমাদেরকে পাকড়াও করেন। সুতরাং এর কাফফারা হল দশ জন মিসকীনকে খাবার দান করা, মধ্যম ধরনের খাবার, যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে খাইয়ে থাক, অথবা তাদের বস্ত্র দান, কিংবা একজন দাস-দাসী মুক্ত করা। অতঃপর যে সামর্থ্য রাখে না তবে তিন দিন সিয়াম পালন করা। এটা তোমাদের কসমের কাফ্ফারা, যদি তোমরা কসম কর, আর তোমরা তোমাদের কসম হেফাযত কর। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ বর্ণনা করেন যাতে তোমরা শোকর আদায় কর। 
,
★সুতরাং শপথ তিন প্রকার। এক. যদি অতীত ঘটনা সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা শপথ করা হয়, তাকে 'ইয়ামিনে গুমুস' বা পাপে নিমজ্জিত শপথ বলা হয়। উদাহরণত, কেউ কোনো কাজ করে জেনেশুনে শপথ করে বলল যে সে কাজটি করেনি। এ মিথ্যা শপথ কবিরা গুনাহ। তবে এর জন্য কাফফারা ওয়াজিব হবে না।

দুই. নিজ ধারণায় সত্য মনে করে কোনো অতীত ঘটনা সম্পর্কে শপথ করা। অথচ বাস্তবে তা অসত্য। যেমন- কোনো অসমর্থিত সূত্রে জানা গেল, অমুক ব্যক্তি এসে গেছে। এর ওপর নির্ভর করে কেউ আল্লাহর নামে শপথ করে বলল, 'অমুক ব্যক্তি এসে গেছে।' এরপর দেখা গেল, এটি বাস্তবের বিপরীত। এ ধরনের শপথকে 'ইয়ামিনে লগ্ভ' বলা হয়। 

এ ছাড়া অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখে শপথবাক্য উচ্চারিত হলে একেও 'ইয়ামিনে লগ্ভ' বা অহেতুক শপথ বলা হয়। এ-জাতীয় শপথে কোনো গুনাহ নেই। কাফফারাও দিতে হয় না।

তিন. আল্লাহর নাম নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো কাজ করা বা না করার শপথ করা। এ রকম শপথকে 'ইয়ামিনে মুনআকিদ' বা কার্যকর শপথ বলা হয়। এ শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারা ওয়াজিব হবে। এমনকি কোনো কোনো অবস্থায় গুনাহও হয়।
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
এমতাবস্থায় আপনার মনেও যেহেতু কোনো কিছু করা বা না করার নিয়ত ছিল না, আর মৌখিকভাবেও কিছু বলেননি, সুতরাং এক্ষেত্রে কসম ভঙ্গের কোন কাফফারা দিতে হবে না।

(০২)
এক্ষেত্রে হট লাইনে ফোন দিয়ে জেনে নিলে ভালো হয়।

(০৩)
না,এতে গুনাহ হবেনা। 

(৪-৫)
ওয়াসওয়াসা হল এমন এক মানসিক রোগ যা একজন মুসলিমকে বিভ্রান্ত করার জন্য শয়তানের পক্ষ থেকে মনে আসা  কুমন্ত্রনার ফাঁদ। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখন কম নয়।  কিন্তু এই রোগ সম্পর্কে ধারনা বা ইলমে জ্ঞান না থাকার ফলে একজন সাধারন ব্যক্তি ধীরে ধীরে মানসিক রোগীতে পরিণত করতে পারে। কারণ শুরুতেই যদি এর চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি বাড়তে থাকে।

আমরা আমাদের বিগত সহস্রাধিক প্রশ্ন রিসার্চ করে দেখেছি যে ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি বিভিন্ন মাসলা মাসায়েল বা ফতোয়ার প্রশ্নের উত্তর ঘাটাঘাটি করে আরও বেশি ওয়াসওয়াসাতে আক্রান্ত হয়ে যায়। এবং প্রশ্নের উত্তর হল একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের রোগ বৃদ্ধির খোরাক। এবং একটা প্রশ্ন উত্তর পাওয়ার পর একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমাগত একই প্রশ্ন বারবার ঘুরিয়ে পেচিয়ে শতাধিকবার করতে থাকেন।  যেটা উনাকে বরং ক্রমাগত অধিকতরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। 

বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে নিচের দেওয়া বাধ্যতামূলক সুস্থ হওয়ার কোর্সটি কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়া হবে না । 

এবং আমরা আশা করছি এবং আল্লাহর উপরে ভরসা রেখে বলছি যারা নিচের এই কোর্সটি করবেন ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবেন। 

আর কোর্সের ভিতরে একটা অংশে আমাদের মুফতি সাহেবদের সাথে সরাসরি জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে প্রশ্ন-উত্তরের ব্যবস্থা থাকবে। 

আল্লাহ আমাদের সমস্ত শারীরিক ও মানসিক রোগ থেকে হেফাজত করুন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
উস্তায,আমি রুকইয়াহ কোর্সটি করেছি,তবে ওয়াসওয়াসার কোর্সটি পাচ্ছিনা লিংক এ।
আমার মারাত্মক লেভেল এর না,তবে অনেকটা ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে,সবকিছু নিয়ে অতিরিক্ত নেগেটিভ  চিন্তা করা৷আল্লাহ হেফাযত করুন।
by (766,140 points)
IOM এর হটলাইনে ফোন দিয়ে জেনে নিলে ভালো হয়।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...