আমি ভার্চুয়াল কার্ডে থার্ড পার্টি সেলার থেকে ডলার লোড করার জন্য প্রথমে ৫$ এর টাকা দিই, এরপর পর্যায়ক্রমে একাউন্ট হোল্ড দেখিয়ে আমার থেকে ৬০$ হাতিয়ে নেয়। যার মূল্য ৬৯৬০ টাকা। আমি বিকাশে অভিযোগ করি। তারা সহ্যোগিতা করতে মানা করেছে। এটা অপরাধমূলক কার্যক্রম হওয়ায় পুলিশে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তারা পুলিশ কে সহযোগিতা করবে বলেছে কিন্তু টাকা ব্যাক দিবেনা। যদিও ইতোপূর্বে বিকাশে অভিযোগ করে টাকা ফেরত পেয়েছিলাম। তখন লোনের জন্য এক জায়গায় ৫০০ টাকা বিকাশে জামানত দিয়ে লোন পাইনি। বিকাশ সে ব্যবস্থা নিয়েছিল। পুলিশে জিডি করলাম তারাও বলছে এসব প্রতারক চক্রকে ধরা যায় না। এই টাকার আশা ছেড়ে দিতে। অথচ ওই প্রতারক এখনো বহাল তড়িয়তে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ফেসবুক আর হোয়াটসেপ এখনো চালু আছে। পুলিশ চাইলে তো সব ই পারে। পৃথিবীর কোথাও আমি সাহায্য পাচ্ছিনা। এদিকে আমার রিজিক ও কম। ১২ হাজার টাকার চাকরি করি। অন্য জায়গায় এপ্লিকেশন করেও কল পাইনা। আবার কখনো চাকরি কনফার্ম হয়, শেষ মুহূর্তে না করে দেয়।
আমারো দোষ আছে। আমি নামাজ - কালাম পড়িনা। আল্লাহর কাছে দোয়া করতে করতে হতাশ হয়ে আমি দ্বীন বিমুখ হয়ে কুফরি কথা বলি। আমি বলতাম যে আল্লাহর আমাকে চাকরি দেবার ক্ষমতা নেই। আল্লাহ ন্যায়বিচারক হলে আমাকে চাকরি দিয়ে দেখাক।
আমার মানসিক সমস্যা আছে। আমি প্রচন্ড পরিমাণে ওসিডিতে আক্রান্ত। একই চিন্তা বারবার ঘুরে। অস্থির হয়ে যাই। শয়তানের ওয়াসওয়াসায় পাগল হয়ে যাই। জ্বীনের বদনজর আছে, রাক্বী জানিয়েছে। আমার ধারণা আসলে আল্লাহর থেকে হয়ত শয়তান-জ্বীন বেশি শক্তিশালী। কারণ আমি দীর্ঘদিন সেল্ফ রুকাইয়া, নামাজ কালাম পড়েও আসলে সুস্থ হতে পারিনি।
তবে ৫-৬ বছর আগে আমি দ্বীনের পথে এসেছিলাম। তখন নামাজ কালাম পড়ে কান্নাকাটি করে দোয়া করতাম, আমার জন্য কল্যাণকর প্রকাশিত অপ্রকাশিত সকল দুয়া কবুল করতে, আমাকে নিজের হাতে ছেড়ে না দিতে। হিদায়াত দিতে। হিদায়াতের মৃত্যু দিতে। তারপরেও বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পড়ে তাওয়াক্কুল হারিয়ে কুফরি করে ফেললাম।
এখন যে যেভাবে পারছে আমার থেকে টাকা মেরে দিচ্ছে। চাকরি বাকরির অবস্থা ভাল না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম্লবিএ করে ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করছি। বয়স ৩২। চাকরি করতে প্রচন্ড ভয় পাই। প্রচুর প্যানিক এটাক, ছটফট, বুক ধড়ফড়, চিন্তায় মাথা খারাপ হয়ে যায়। বাসা থেকে বের হতে পারিনা। বিবাহিত। ৩ বছর বিয়ে হয়েছে। সন্তান নিতে পারছিনা। স্ত্রীকে শারীরিক সুখ ও দিতে পারিনা। কারণ আমি অক্ষম। হস্তমৈথুন এর অভ্যাস আছে। ছাড়তে পারছিনা।
মূলত বিয়ের পর থেকে আমি কাফির হয়ে গেছি। বিয়ের সময় ইস্তিখারা করেছিলাম। তখন নেগেটিভ ফল পেয়েছিলাম। তারপরেও পরিস্থিতিতে পড়ে বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রীর থেকে তো সমস্যা দেখিজা। সে তো নামাজ কালাম পড়ে, আমাকেও পড়ত্ব বলে। তার পরিবার ও ধার্মিক।
সব মিলিয়ে খুবই অসহায় অবস্থা।
এমতাবস্থায় আমার প্রশ্ন:
১। আমি যে ৭০০০ টাকা প্রতারণার শিকার হয়ে কোন ন্যায়বিচার পেলাম না, এখন এ টাকা আল্লাহর মাধ্যমে দুনিয়াতেই ব্যাক পাওয়ার কোন উপায় আছে কিনা। আর আল্লাহ ন্যায়বিচার করে দিবেন এমন সুযোগ আছে কিনা।
২। এই ৭০০০ টাকা প্রতারণার বিনিময়ে আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইতে পারি কিনা? ইসলাম এ ধরণের প্রতারণার ব্যাপারে কি বলে আর ও ধরণের প্রতারণায় আল্লাহ সুবিচার করেছেন এমন ঘটনা ইসলামে আছে কিনা।
৩। সর্বোপরি স্বাভাবিক জীবন যাপন কিভাবে করতে পারি?
এ অবস্থায় আমার প্রশ্ন: