আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
124 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (5 points)
السلام عليكم ورحمه الله وبركاته

উস্তাদ আমার একজন পরিচিত বোন তার কন্ঠের খুব হেফাজত করে,,এতে তাকে বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় কেননা সেই বোন প্রয়োজনেও কথা বলে না,, যেমন অনেক দূর থেকে বাসায় যাতায়াতের জন্য সে কোনো গাড়ি ভাড়া করে না পুরুষের সাথে কথা বলতে হবে বলে,এবং ভার্সিটিতে ভাইবা পরীক্ষাও দিতে চায় না স্যারদের সাথে কথা বলতে হবে বলে। কিন্তু রিসেন্টলি একজন উস্তাদ থেকে জানতে পারলাম এমন করাটা নাকি বাড়াবাড়ি পর্যায়ের কেননা ইসলাম প্রয়োজনে নারীকে কন্ঠ কঠিন রেখে নন মাহরামদের সাথে কথা বলার অনুমতি দিয়েছে। এবং তিনি এটাও বলেছেন যে আল্লহর রসূলের স্ত্রীগণও পর্দার আড়াল থেকে কথা বলেছে, ওনারাও তো পারতেন সর্বোচ্চ তাকওয়ার জন্য কথা না বলে থাকতে,,আমার ঐ পরিচিত বোন ধারণা করেন এটা সর্বোচ্চ তাকওয়া অবলম্বন।এবং সেই উস্তাদ বলেছিলেন আল্লহর রসূলের স্ত্রীগণ ছিলেন সর্বোচ্চ তাকওয়া অবলম্বনকারীনী। এখন উম্মাহাতুল মু'মিনীনদের থেকেও তাকওয়া অবলম্বন করতে যাওয়াটা তো আসলেই মুশকিল,,,। কেননা এই বোন যা করছে তা বাড়াবাড়ি পর্যায়ের এবং ইসলাম বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ি করতে নিষেধ করেছে।
আমার প্রশ্ন হলো এটা কী আসলেই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে? বা এটা কী তাকওয়া অবলম্বনের সঠিক পথ? এবং এই বোন যে পন্থায় কন্ঠের হেফাজত করাকে সর্বোচ্চ তাকওয়া অবলম্বন বলছে তা কী আসলেই সঠিক পন্থা?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ 

يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا (32) وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى

 হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও [ইহুদী খৃষ্টান)। তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় পাও তবে বিনম্র হয়ে কথা বলনা, যাতে যাদের মাঝে পৌরষত্ব আছে তারা তোমাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। বরং তোমরা স্বাভাবিক কথা বল। এবং তোমরা অবস্থান কর স্বীয় বসবাসের গৃহে। {সূরা আহযাব-৩২}
লক্ষণীয় বিষয় হল, কন্ঠস্বরের কোমলতা পরিহারের নির্দেশ সরাসরি নবীযুগের নারীদেরকে দেয়া হয়েছে।
সুতরাং আমাদের যুগের মহিলাদের আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
,
কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
إِنَّ السَّمْعَ وَالبَصَرَ وَالفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا.
...নিশ্চয় কান, চোখ, হৃদয় এর প্রতিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সূরা বনী ইসরাঈল (১৭) : ৩৬

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।

فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُزِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, চোখের জিনা হল [হারাম] দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, [গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক] কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহবার জিনা হল, [গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক] কথোপকথন। হাতের জিনা হল, [গায়রে মাহরামকে] ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হল, [খারাপ উদ্দেশ্যে] চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় [যদি জিনা করে] এবং মিথ্যা পরিণত করে [যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে]। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২}

ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ;১৯/১৯৩ এ নারীদের আওয়াজ সতরের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার (মারজুহ) রেওয়াতকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অগ্রাধিকার দিয়ে বলা হয়েছে যে,পর-পুরুষের সামনে মহিলা বক্তৃতা দিতে পারবে না।বক্তৃতা প্রদান জায়েয হবে না।

★নারীকন্ঠ সতরের অন্তর্ভুক্ত কি না? 
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুনঃ

★পরপুরুষের (গায়রে মাহরামের) সঙ্গে পর্দার আড়াল থেকে কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর কঠোর রাখবে, সুমিষ্ট মোলায়েম স্বরে নয়।

হযরত আয়েশা (রা) এর নিকট মাসয়ালা বা হাদিসের প্রয়োজনে অন্যান্য সাহাবীগণ আসলে, তিনি মুখের ওপর হাত রেখে কণ্ঠ বিকৃত করে পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলতেন যেন কারো অন্তর ব্যাধিগ্রস্থ না হয়। (তাফসীরে কুরতুবী ১৪/১৪৬)

কন্ঠের পর্দা আবশ্যক কিনা,এই ব্যাপারে ইসলামী স্কলারদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। 
সুতরাং এটি শরীরের পর্দার মতো নয়।

নারীদের জন্য গায়রে মাহরামের সাথে কথা বলতে গিয়ে কর্কশ ভাষায়/বা কন্ঠকে বিকৃত করে কথা বলা সবচেয়ে ভালো। 
সুমিষ্ট মোলায়েম স্বরে নয়।

তবে এক্ষেত্রে কর্কশ ভাষায়/বা কন্ঠকে বিকৃত করে কথা বলা সমস্যাকর বা বিরক্তিকর মনে হলে বা এভাবে কথা বলতে না পারলে সেক্ষেত্রে মুখের ওপর হাত রেখে কণ্ঠ বিকৃত করে পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলবে।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত বোন যদি প্রয়োজনের সময়েও গায়রে মাহরাম পুরুষদের সাথে কথা না বলেন এবং এভাবে কথা না বলেও তিনি যদি তার কাজ ঠিকই সমাধা করতে পারেন,বা কোনো মাহরাম পুরুষ এর সহায়তায় তার কাজ হাসিল করে নিতে পারেন, এতে দোষের কিছু নেই।

এমতাবস্থায় এটি নাজায়েজ নয়। 

অনেক ইসলামী স্কলারদের মতে বর্তমান ফিতনার যুগ হওয়ায় এটা সর্বোচ্চ তাকওয়ার পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...