আসসালামু আলাইকুম শাইখ আমার প্রশ্নের উত্তর দিবেন দয়া করে,
আমার বয়স ২৮ বছর, আমার বোনার বয়স ১৮ বছর আমরা দুই বোন । এই ২৮ বছরে আমি শুধু আমার বাবা মায়ের মারামারি দেখতে দেখতে বড় হয়েছি । বিয়ের প্রথম প্রথম আমার বাবা তার ফ্যামিলির কথা শুনে আমার মা কে মারধর করত । আমার মা বাবা দুই জনই আত্মীয় । বিয়ের আগে থেকেই আমার বাবা মহিলাদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করত । বিয়ের শুরুতে বাদ দিলেও পরবর্তীতে উনি পরকীয়ায় আবারও জড়িয়ে পড়েন । এবং একটার পর একটা পরকীয়া করতেই থাকেন । আমার বাবা কোনো মুরুব্বি কে মানেন না নিজের যেটা ইচ্ছা সেটাই করবেন তাকে কেউ বাধা দেয়ার মতো নাই । বিয়ের পরে উনি এই পরকীয়ার জন্য আমার মা কে অনেক বাজে ভাবে মারতো । ২০১৮ সালে উনি একজন কে বিয়ে করেন পরে বাসায় জানাননি হওয়ার পর পরই সেই মহিলাকে ডিভোর্স দিয়ে দেন । ডিভোর্স দেয়ার পরেও সেই মহিলার সাথে যোগাযোগ রাখেন দেখা করেন মহিলার বাসায়ও যান । সেই মহিলার ১০/১২ বছরের ছেলে আছে ।এগুলা নিয়ে আমাদের বাসায় সব সময় ঝগড়া মারামারি লেগেই থাকতো । পরে ২০২২ অক্টোবর থেকে ২০২৫ মে পর্যন্ত মহিলার সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখেন কিন্তু অন্য আরো দুইজন মহিলার সাথে উনি অবৈধ সম্পর্ক রাখেন । এদের মধ্যে একজন হিন্দু সেই হিন্দু মহিলাকে নিয়ে হোটেলেও থাকেন । হিন্দু মহিলাকে ২০২৪ এর জুলাই এর দিকে বাদ দিয়ে দেন ।২০২৫ এর জুনের দিকে যাকে বিয়ে করে ছেড়ে দিয়েছিল আবার সেই মহিলার সাথে যোগাযোগ করেন । এগুলা নিয়ে বাসায় ঝগড়া লাগে এবং উনি আমার মায়ের মাথা ফাটিয়ে দেন তখন আমার আম্মু পুলিশকে কল দেন । পুলিশ বাসায় আসার আগেই আমার বাবা বাসা থেকে বের হয়ে যান আর সবাই কে বলে বেড়ান আমরা আমার বাবা কে মেরে বাসা থেকে বের করে দিয়েছি পুলিশ ডেকেছি। উনি বাসা থেকে বের হয়ে যেই মহিলাকে তালাক দিয়েছিলেন সেই মহিলার বাসায় থাকা শুরু করেন । উনাকে যখন হাতে নাতে মহিলার বাসায় ধরা হয় উনি সবার সামনেই বলেন এই তালাক হয় নাই আমি এই মহিলাকে নিয়েই থাকবো । আমরা উনাকে অনেক টর্চার করি উনি আর বাসায় আসবেন না । উনি যা ইনকাম করেন তার ৭৫% বাহিরের মহিলাদের পিছনে ব্যায় করেন আর ২৫% ঘরে খরচ করেন। ঘরে খরচের কথা বলতে গেলেও ঝগড়া করবেন আমাকে কোনও প্রেসার দিতে পারবা না এগুলা বলেন । উনি বাসা ছেড়ে যাওয়ার পরে আমার আম্মু নিজের গয়না বিক্রি করে ঘরের খরচ চালিয়েছেন । এখন আমার মায়ের নামে একটা প্লট আছে সেটা বিক্রির কথা বার্তা চলছে ।আমি ২০২২ সালে একটা বিসনেস দিয়েছিলাম খুব ভালো চলেছিলো আলহামদুলিল্লাহ সেটাও আমার বাবা বন্ধ করিয়ে দেন আর এখন টাকা নষ্ট করার অপবাদ দেন । প্লট বিক্রি করে আমার বিজনেস আবার শুরু করার চেষ্টায় আছি । আমি শরিয়াহ পর্দা করি তাই চাকরি না করার সিদ্ধান্ত নেই । উনি আমাকে এটারও খোটা মারেন টাকা পয়সা নষ্ট করে পড়ালেখা শিখাইছি অথচ আমার এত সুন্দর রানিং বিজনেস উনি ইচ্ছা করে বন্ধ করিয়ে আমাকেই ব্লেম দিচ্ছে । আমার বাবা লোক ঠকিয়ে কামাই করে উনার হারাম ইনকাম থেকে বাঁচার জন্যই আমি বিজনেসটা শুরু করেছিলাম । বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরে উনি মেডিক্যাল প্রেসক্রিপশন পাঠানো শুরু করেন, আমার মা আর আমার ছোট বোনকে। উনার প্রেসক্রিপশন দেখে উনাকে আমার আম্মু বাসায় আসতে বলেন । উনি বাসায় আসার শর্ত দেন উনাকে কোন কিছু নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না উনি যা মুখেবলবেন তাই বিশ্বাস করতে হবে মহিলার সাথে সম্পর্ক নেই এটার কোনও প্রমাণ উনি দিবেন না। প্রমাণ ছাড়া আমার মা আমার বাবাকে আনতে চান নি আমার এক চাচ্চু মিটমাট করে বাবা কে বাসায় আসতে বলেন ।বাসায় আসার আগে উনাকে রুকিয়া করানো হয় বাসায় এসে উনি রাকিদের অকথ্য বাসায় গালাগালিও করেন বলেন উনারা ভুয়া । এখন উনি বাসায় আসার পর বাসার কোনও খরচ করছেন না তাকে কিছু বলতে গেলেই চিল্লাচিল্লি করেন ঝগড়া করেন মারতে আসেন । উল্টো আমাদের কে বলছেন উনার চিকিৎসা করতে । এখন আমার বাবা আমার মায়ের প্লট থেকেও টাকা খাওয়ার জন্য বসে আছেন । বাসায় কোনো খরচা দিচ্ছেন না । ওই মহিলার সাথে এখনও উনার যোগাযোগ আছে দেখা করেন ওই মহিলার সংসার এর সব খরচ দিচ্ছেন, মহিলা কে ২০১৭ সালে একটা ফ্ল্যাটও কিনে দিয়েছেন । আমার মা এর নামে প্লট কেনার সময় ও আমার বাবা দুই নম্বরই করে ৭ লাখ টাকা বেশি নিয়েছিলেন । এখন প্লট বিক্রি করার সময়ও উনি টাকা সাইড করতে চাচ্ছেন এগুলা আমরা বুঝতে পারছি । আমার বাবা ফেরত আসার পর থেকে বাসায় একটা অশান্তি পরিবেশ চলছে । আমার মা এখন আমার বাবা কে আর বাসায় রাখতে চাচ্ছেন না । আমার বাবা ইন্ডিরেক্টলি বুঝান উনাকে ছাড়া ২ মাস যেহেতু ভালো ভাবেই চলেছি এখন উনাকে ও যেন চালাই আর উনি যা ইনকাম করবেন সব ওই মহিলার পিছনে খরচ করবেন । বাসা ভাড়া, বুয়ার বেতন, ড্রাইভারের বেতন, বাজার কোনো কিছু করতেই উনি পারবেন না কিন্তু প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হবেন আর রাত ১০/১১ টায় বাসায় আসেন। আমার মা ও বাসায় অনেক পাগলামি করেছিলেন যখন বাবা বাসা ছেড়ে চলে গিয়েছিল । উনার ৩১ বছরের সংসার উনি কিছুতেই সংসার শেষ হয়ে যাচ্ছে দেখতে পারছেন না । এখন আবার বাবা কে বাসায় ফেরত আনার পর আরও অশান্তিতে আছে এখন
আমাদের আসলেই কি করা উচিত । উনি না কোনো আলেম মানেন না কোনো মুরুব্বি মানেন না। কোনো কথাই বলা যাচ্ছে না উনাকে, বলতে গেলেই মারতে আসেন ।