আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
64 views
in পবিত্রতা (Purity) by (46 points)
edited by
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহ উস্তায,
আমি ফরজে আইন নিয়ে অনেক কোর্স করেছি, কতো ইলমি কোর্স করেছিলাম, এখনো চলমান

এই একপর্যায়ে আজ জানলাম ফরজ গোসলে নাকের নরম জায়গা পর্যন্ত পানি পৌঁছানো বাধ্যতামূলক । আমি এতদিন ভেবেছি ভেজা আঙুল প্রবেশ করালেই হবে। এই বিষয়ে জানতাম না যে এমন না তবে ফরজ গোসল হবেনা/ইবাদত হবেনা যে তা খেয়াল করা হয়নি... মনে হচ্ছে আমার অজানা আরো কি কি থেকে গিয়েছে। এতো খারাপ অনুভব হচ্ছে.....

১। তারমানে আমার ৫বছরের ইবাদতের কিছুই হলোনা। আমি এতগুলো নামাজ কিভাবে দোহরাবো উস্তায...⁉️

২। আমি কালকেই সঠিকভাবে ফরজ গোসল করে ইবাদত শুরু করবো?

৩) নাক থেকে স্বাভাবিক রক্ত বের হলে ওগুলো নাপাক?

৪) নাকে খোঁচাখুঁচিতে মাঝেমধ্যে ছিঁলে গিয়ে রক্ত জমাট বেঁধে যায় শ্লেষ্মার সাথে, যা অযুর সময় ধুইলেও পবিত্র করা যায় না - আরো রক্তক্ষরণ হওয়ার চান্স থাকে, এক্ষেত্রে পবিত্রতা অর্জনে করণীয় কি?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

হাদীস শরীফে রাসুল সাঃ এর গোসলের পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।     

حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ، فَغَسَلَ فَرْجَهُ بِيَدِهِ، ثُمَّ دَلَكَ بِهَا الْحَائِطَ ثُمَّ غَسَلَهَا، ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ غُسْلِهِ غَسَلَ رِجْلَيْهِ.

মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্রতার গোসল করলেন। তিনি নিজের লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর হাত দেয়ালে ঘষলেন এবং তা ধুলেন। তারপর সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করলেন। গোসল শেষ করে তিনি তাঁর দু’পা ধুয়ে নিলেন। (বুখারী ২৬০২৪৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮)
,
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَتْ مَيْمُونَةُ وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَاءً لِلْغُسْلِ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا، ثُمَّ أَفْرَغَ عَلَى شِمَالِهِ فَغَسَلَ مَذَاكِيرَهُ، ثُمَّ مَسَحَ يَدَهُ بِالأَرْضِ، ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ، ثُمَّ أَفَاضَ عَلَى جَسَدِهِ، ثُمَّ تَحَوَّلَ مِنْ مَكَانِهِ فَغَسَلَ قَدَمَيْهِ

ইবনু ‘আববাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাইমূনাহ্ (রাযি.) বলেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি তাঁর হাত দু’বার বা তিনবার ধুয়ে নিলেন। পরে তাঁর বাম হাতে পানি নিয়ে তাঁর লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর মাটিতে হাত ঘষলেন। তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তাঁর চেহারা ও দু’হাত ধুয়ে নিলেন। অতঃপর তাঁর সারা দেহে পানি ঢাললেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দু’পা ধুয়ে নিলেন। (বুখারী ২৫৭,২৪৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৫)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন, 
ফরজ গোসলে কুলি, নাকে পানি দেওয়া,আর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিলেই যথেষ্ট। 
বাকি যেসব নিয়ম বলা হয়,সেগুলো সুন্নাত,মুস্তাহাব।
সেই নিয়ম গুলো সহ আদায় করাই উচিত। 
,
★গড়গড়িয়ে কুলি করা ফরজ নয়,তাই প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যদি গড়গড়িয়ে কুলি নাও করা হয়,স্বাভাবিক ভাব কুলি করে গোসল করলেও গোসল আদায় হয়ে যাবে।

★শুধু নাকে পানি দেয়া ফরজ।
এতেই গোসল হয়ে যাবে।
,
নাকে পানি দেওয়ার সময় নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌছানো ফরজ নয়।

আরো জানুনঃ

(১-২)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি তো ফরজ গোসলের সময়ে নাকের মধ্যে পানি পৌঁছাতে পেরেছেন,সুতরাং আপনার ফরজ গোসল আদায় হয়ে গিয়েছে।

আপনাত বিগত ৫ বছরের নামাজ দোহরিয়ে নিতে হবেনা।

তবে এখন থেকে গোসলের সুন্নাত সঠিক ভাবে আদায় করবেন।
নাকে পানি দেওয়ার সময় নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌছানোর চেষ্টা করবেন।

(০৩)
হ্যাঁ, সেটি নাপাক।

(০৪)
নাকে খোঁচাখুঁচি করা বন্ধ করে দিবেন।

অযুর সময় ধোয়ার পরেও বের না হয়ে আসলে তাতে সমস্যা নেই।

আপনার অযু হয়ে যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...