আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
49 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।আশা করি ভালো আছেন।আমি ৩ টি জিনিস জানার ছিল-

১.আমি একজন ছেলে।আমার বয়স বেশি না আমি এখন  বয়সন্ধিকালে  রয়েছি।আমি আগে হস্তমৈথুন  করতাম প্রতিদিন।আলহামদুল্লিলাহ ১ মাস হলো আমি এসব করি না।ইনশাআল্লাহ আর করব না। তো আগে স্বপ্নদোষ হতো এখন এই ১ মাসে আর হয় নি।তো এখন আমি মল ত্যাগ করতে গেলে মল ত্যাগ করতে স্বাভাবিকভাবে হাজত   পুরা করার জন্য তো একটু চাপ দেই।তো সেই সময় প্রস্রাবের সাথে বীর্য বের হয়।এটা এখন সবসময় হয়।যদিও উত্তেজনার সাথে বের হয় না স্বাভাবিক গতিতে বের হয় প্রস্রাবের সাথে। এখন কি হানাফি মাজহাবের মতে গোসল ফরয হবে?

২.সিজদাহ্ তে হানাফি মাজহাবের মতে পা কি একত্রে রাখা সুন্নাত নাকি পা এর মাঝে ফাকা রাখা সুন্নাত? কোনটা সুন্নাত স্পষ্ট করে বললে ভালো হতো।

৩.নাপাক হাত পাক করার উপায় কি? মানে হাতে নাপাকি যেমন দৃশ্যমান(প্রস্রাবের ছিটা,বীর্য, মল ইত্যাদি)  ও অদৃশ্য লাগলে কিভাবে পাক করে নামায পড়ব।

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
বীর্য হল যা উত্তেজনার সাথে লাফিয়ে লাফিয়ে আটকিয়ে আটকিয়ে লিঙ্গ থেকে বের হয়।বীর্য বের হলে গোসল ফরয হয়ে যায়।
প্রস্রাবের পর লিঙ্গ থেকে যা বের হয়,সেটা দেখতে বীর্যর মতই গাঢ় থাকে,তবে এটা বীর্য না। বরং এর নাম হলো ওদী।যা গোসলকে আবশ্যিক করে না।
.
আরো জানুনঃ 
,
আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُواْ

তোমরা জুনুবি হও তবে (গোসল করে) সারা দেহ পবিত্র করে নাও। (সূরা মায়েদাহ ৬)

আর জুনুবি বলা হয়, ওই ব্যক্তিকে যার বীর্য সবেগে ও উত্তেজনার সঙ্গে বের হয়েছে। 

যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَلْيَنظُرِ الْإِنسَانُ مِمَّ خُلِقَ  خُلِقَ مِن مَّاءٍ دَافِقٍ

অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে, সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে। (সূরা আত্ব-তারিক্ব ৫, ৬)

রাসূলুল্লাহ ﷺ আলী রাযি.-কে বলেছিলেন,

فَإِذَا فَضَخْتَ الْمَاءَ فَاغْتَسِلْ

যদি উত্তেজনা বশতঃ বীর্য নির্গত হয় তবে গোসল করবে। (আবুদাউদ ২০৬) অন্যথায় নয়।

বিস্তারিত  জানুনঃ 
,
★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার উপর গোসল ফরজ হবেনা।      

(০২)
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী নামাজে সেজদায় পা ফাক রাখা সুন্নাত।
তবে উভয় পা মিলিয়ে নামাজ পড়লেও নামাজ হয়ে যাবে। এটি ফরজ বা ওয়াজিব কোনো বিধান নয়।

হযরত আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘এক রাত্রিতে আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বিছানায় না পেয়ে আমার হাত দিয়ে খুঁজতে থাকলাম। অতঃপর আমার হাত তাঁর দু’পায়ের উপর পতিত হয়। তখন তিনি সিজদারত ছিলেন এবং তাঁর পা দু’টি খাঁড়া ছিল’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৮৯৩,

 ‘সিজদা ও সিজদার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ)। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘এ সময় তাঁর গোড়ালীদ্বয় মিলানো ছিল এবং পায়ের অঙ্গুলি সমূহ কিবলার দিকে ছিল’ (মুস্তাদরাক হাকেম ১/৩৪০ পৃঃ, হা/৮৩২; ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ হা/৬৫৪, ইবনু হিববান হা/১৯৩৩)। 

ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমি সাত অঙ্গের উপর সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েছি। নাকসহ চেহারা, দু’হাত, দু’হাটু এবং দু’পায়ের আঙ্গুলসমূহের অগ্রভাগ’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৮৮৭)। 

হযরত বারা রা. বর্ণনা করেন যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রুকুতে যেতেন, তখন পায়ের আঙ্গুলগলোকে এমনভাবে কিবলামূখী করাইতেন যে, উভয় পায়ের মাঝখানে ফাঁকা থাকত। (বাইহাকী)

বিস্তারিত জানুনঃ 
,
★সুতরাং সিজদার  সময় উভয় পায়ের মাঝে যেহেতু ফাকা রাখা সুন্নাত,তাই উভয় পায়ের  গোড়ালির মাঝে ফাকা রাখাও সুন্নাত।

(০৩)
এক্ষেত্রে পানি দিয়ে এমন ভাবে হাত ধুয়ে ফেলবেন, যাতে নাপাকি চলে যাওয়া সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত হন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...