আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
49 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
১.প্রস্রাবের পর ইস্তিবরার(যাতে শেষ ফোটা বের হয়ে যায়) জন্য কি কি পদ্ধতি রয়েছে হাটাহাটি ছাড়া,মানে কোনটা ভালো যাতে শালীনতা বজায় থাকে?

২.প্রস্রাব করার পর টিস্যু ধরে  অপেক্ষা  করে  লিঙ্গের উপরে শুধু একটু মানে এই ১০০-২৫০ ml পানি ঢাললেই কি পাক হয়ে যাবে?এই পরিমাণ কি ঠিক,? নাকি আরেকটু পানি ব্যবহার  করা লাগবে? সঠিক পরিমাণ নির্দিষ্ট করে বলবেন(পরিমাণ টা মগে কতটুকু নিবো,)?আর যদি টিস্যু না থাকে জরুরি অবস্থায় তবে পানি ব্যবহার করা লাগবে নির্দিষ্ট কত টুকু ?
৩.নামাজে আয়াতের মাঝে থেমে শ্বাস নিয়ে যেই পর্যন্ত পড়া  হয়েছে তার পর থেকে পড়া যাবে?

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)

https://ifatwa.info/46243/ নং ফাতওয়াতে উল্লেখ রয়েছে যে,

 

পেশাব-পায়খানার পরপবিত্রতা অর্জন করার তিনটি পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে।

প্রথম পদ্ধতি: শুধু ঢিলা/টিস্যু ব্যবহার করা: এক্ষেত্রে তিনটি টিলা/কুলুফ ইউজ করা সুন্নাহ। এ বিষয়ে বহু হাদীস ও আছার বর্ণিত হয়েছে।

 قَدْ عَلّمَكُمْ نَبِيكُمْ كُلّ شَيْءٍ حَتى الْخِرَاءَةَ قَالَ: فَقَالَ: أَجَلْ لَقَدْ نَهَانَا  أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِأَقَلّ مِنْ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ

সালমান ফারসী রা.-কে বলা হলতোমাদের নবী তোমাদের সবকিছু শিক্ষা দিয়েছেনএমনকি শৌচাগার ব্যবহারের পদ্ধতিও! আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ রাহ. বলেনসালমান রা. বললেন, ‘হাঁঅবশ্যই! তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেছেনআমরা যেন ডান হাত দ্বারা ইস্তিঞ্জা না করিইস্তিঞ্জার সময় তিন পাথরের কম ব্যবহার না করি ।’ সহীহ মুসলিমহাদীস ২৬২

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত আমল ও বাণী মুতাবেক অনেক সাহাবা ও তাবেয়ীনের আমল ছিল। তাঁরা পানি থাক বা না থাক শুধু ঢিলা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করতেন।

 

এ অনুযায়ীই উম্মাহর ইমামগণের ফতোয়া। সকল ইমামের মত হলপানি থাকুক বা নাই থাকুক সর্বাবস্থাই শুধু ঢিলা দ্বারা তাহারাত হাসিল করা জায়েয। আল ইসতিযকার ১/১৪৩

 

দ্বিতীয় পদ্ধতি: ঢিলা ও পানি উভয়টা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা। ঢিলা ব্যবহার করে পানি দ্বারা ধৌত করা কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের আমল দ্বারা প্রমাণিত। কারণতাতে অধিক পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয়। তবে এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা কখনোই ঠিক হবে না। যেমনপ্রস্রাবের পর ঢিলা হাতে নিয়ে শৌচাগারের বাইরে চল্লিশ কদম দেওয়ালেফট-রাইট করাবার বার উঠা-বসা করাকেউ পানির পূর্বে ঢিলা ব্যবহার না করলে তাকে পশুর সাথে তুলনা ও ঘৃণা করা কিংবা কটু বাক্য বলে তাকে জর্জরিত করা ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

তৃতীয় পদ্ধতি: পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা। কাযায়ে হাজতের পর পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করার বিষয়ে সাহাবা ও তাবেয়ীন-যুগে দু-একজনের ভিন্নমত থাকলেও পরবর্তীতে এ বিষয়ে কোনো ইমামের মতবিরোধ নেই যেকাযায়ে হাজতের পর পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা যাবেবরং উলামায়ে কেরাম বলেনপানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করাই উত্তম।

 

শুধু পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করার ব্যাপারে আনাস রাযি. থেকে বর্ণিততিনি বলেন,

كَانَ رَسُوْلُ اللهِ  صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ الْخَلاَءَ، فَأَحْمِلُ أَنَا وَغُلاَمٌ نَحْوِيْ إِدَاوَةً مِنْ مَاءٍ وَعَنَـزَةً، فَيَسْتَنْجِيْ بِالْمَاءِ

রাসূলুল্লাহ সা. পায়খানায় গেলে আমি এবং আমার সমবয়সী একটি ছেলে এক লোটা পানি ও একটি হাতের লাঠি নিয়ে রাসুল সা. অপেক্ষায় থাকতাম। অতঃপর তিনি পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতেন।” সহীহ বুখারীহাদীস নং ১৫০

 

 সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন,

আপনি যদি মহিলা হন সে ক্ষেত্রে তো কোন সমস্যা নেই।

পানি ব্যবহার করলেই পবিত্র হয়ে যাবেন।

আর যদি আপনি পুরুষ হন, সেক্ষেত্রে কিছুক্ষণ বসে থাকলে বা কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকলে বাকি ফোঁটা বের হয়ে যাবে।

কেউ কেউ বলেছেন এক্ষেত্রে কাশি দিলে ভেতরের বাকি ফোটা বের হয়ে যাবে।

কেউ বলেছেন লিঙ্গের গোড়া হতে মাথার দিকে হালকা চাপ দিয়ে দিয়ে ফোটা বের করে দেওয়া যেতে পারে,এরপর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধোয়ার পর সাধারণত আর সন্দেহ থাকবে না।

(০২)
এরপর যদি আর পেশাব বের না হয়,সেক্ষেত্রে  পাক হয়ে যাবে।

(০৩)
এক্ষেত্রে তিন তাসবিহ সমপরিমাণ চুপ থাকলে সেজদায়ে সাহু আবশ্যক হবে। অন্যথায় কোন সমস্যা হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...