আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
48 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (41 points)
আসসালামু আলাইকুম।
১) সূরা আনফাল এর ৩৩ নং আয়াতের অর্থ অনেকটা এরকম "Allah wouldn't punish them while they seek forgiveness " এর দ্বারা কি মুসলিমদেরও বোঝানো হয়েছে?  আমরাও যদি ক্ষমা চাই আমরা শাস্তি পাবোনা এরকম?

২) কোনো একটা গুনাহ হয়ে গেলে আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিন বলা কি যথেষ্ট?
কিভাবে বুঝবো ক্ষমা করেছেন আল্লাহ?
৩) হিংসা মানে তো অন্যের নেয়ামত সহ্য করতে না পারা এবং তার অকল্যাণ চাওয়া, তাহলে বিদ্বেষ দ্বারা কি বোঝানো হয়?

৪) কারো কাজকর্মের দ্বারা যদি তার প্রতি মনে রাগ, ক্ষোভ, ঘৃণা তৈরি হয়, এটা কি বিদ্বেষের মধ্যে পড়বে? কারণ কারো প্রতি রাগ থাকলে তার ব্যাপারে সুধারনা রাখা টা অসম্ভব হয়ে পড়ে তাকে নিয়ে ভালো চিন্তা করা কষ্ট হয়।

৫) মনের মধ্যে অনেক সময় ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় অন্যের সম্পর্কে খারাপ ধারনা চলে আসে এতে কি গুনাহ হয়? ক্ষমা চাইতে হবে আল্লাহর কাছে?

৬) অনেক সময় চিন্তা কন্ট্রোল করা যায়না, তখন মানুষ সম্পর্কে অনেক ভুলভাল ও চিন্তা করে ফেলি সুধারনা রাখতে চাইলেও পারিনা, আবার সুধারনা না রাখতে পারার কারনে নিজের প্রতি প্রচন্ড বিরক্তি কাজ করে হতাশ হয়ে যাই। এক্ষেত্রে কি করতে পারি?

৭) আমরা যা যা চিন্তা করি এসব কি আমলনামায় লেখা হয়?
৮) একজন ছেলের বেশি দায়িত্ব কি নিজের ভাইবোনের প্রতি নাকি শ্বশুরের পরিবারের ? কে বেশি হকদার?

৯) দুনিয়াবী চিন্তা কমানোর উপায় কি? কিভাবে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা উচিত?

1 Answer

0 votes
by (763,590 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
সূরা আনফাল এর ৩৩ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

وَ مَا کَانَ اللّٰہُ لِیُعَذِّبَہُمۡ وَ اَنۡتَ فِیۡہِمۡ ؕ وَ مَا کَانَ اللّٰہُ مُعَذِّبَہُمۡ وَ ہُمۡ یَسۡتَغۡفِرُوۡنَ ﴿۳۳﴾

আর আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মধ্যে থাকবেন অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং আল্লাহ এমনও নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
এখানে কারা ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করবে এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে। 

কোন কোন মুফাসসির বলেনঃ এখানে কাফেরদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। কারণ তারা উক্ত কথা বলার পরে লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে তারা কাবা ঘরের তাওয়াফ করার সময় বলত, ‘গোফরানাকা, গোফরানাক’। [আইসারুত তাফসীর] 

অথবা, তাদের মাঝে ঐ সমস্ত লোকদেরকে এ আয়াতে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যারা ঈমান আনবে বলে আল্লাহ তা'আলা তার ইলমে গায়েবে নির্ধারিত করেছেন। [ইবন কাসীর]

অপরপক্ষে, কোন কোন মুফাসসির বলেনঃ এখানে ঐ সমস্ত ঈমানদারদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যারা মক্কায় অসহায় অবস্থায় জীবন-যাপন করছিলেন; হিজরত করতে সমর্থ হননি। তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছিলেন। [ইবন কাসীর] 

এ আয়াতটি উদ্দেশ্য করে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আল্লাহ আমাদেরকে দুটি নিরাপত্তা দিয়েছিলেন। যার একটি চলে গেছে। (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু) কিন্তু আরেকটি রয়ে গেছে। (অর্থাৎ ইস্তেগফার) [মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ১/৫৪২] অনুরূপ বর্ণনা ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও রয়েছে।

অন্য এক হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইবলিস তার রবকে উদ্দেশ্য করে বললঃ আপনার সম্মান ও ইজ্জতের শপথ করে বলছি, যতক্ষণ বনী আদমের দেহে প্রাণ থাকবে ততক্ষণ আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে থাকব। ফলে আল্লাহ বললেনঃ আমি আমার সম্মান-প্রতিপত্তির শপথ করে বলছিঃ আমি তাদেরকে ক্ষমা করতে থাকব যতক্ষণ তারা আমার কাছে ক্ষমা চাইতে থাকবে। [মুসনাদে আহমাদঃ ৩/২৯, মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ৪/২৬১]

(০২)
এটি বলা যথেষ্ট নয়। 
এক্ষেত্রে খালেস দিলে তওবা করতে হবে।

এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 

(০৩)
বিদ্বেষ বলতে কারো প্রতি অন্তরে ঘৃণা, ক্ষোভ, শত্রুতা পুষে রাখা উদ্দেশ্য। 

আর হিংসা বলতে বুঝায় অন্যের কাছে কোন নেয়ামত দেখে কষ্ট পাওয়া এবং সেই নেয়ামত তার থেকে দূর হয়ে যাক এই কামনা করা।

(০৪)
কারো কোনো বৈধ কাজকর্মের দ্বারা যদি তার প্রতি মনে রাগ, ক্ষোভ, ঘৃণা তৈরি হয়, এটা বিদ্বেষের মধ্যে পড়বে।

(০৫)
অনিচ্ছায় আসলে গুনাহ হবে না।

তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের ধারণা করলে গুনাহ হবে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।

(০৬)
এ ধরনের চিন্তাভাবনা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিবেন। 
প্রয়োজনে সেই ব্যক্তি হতে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে পারে।

৭) আমরা যা যা গুনাহ বিষয়ক চিন্তা করি,গুনাহে লিপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এসব আমলনামায় লেখা হয়না।

তবে ছওয়াব বিষয়ক কোন আমলের কথা চিন্তা করলেও আমলনামায় ছওয়াব লেখা হয়।

(০৮)
এক্ষেত্রে প্রথমে হকদার হল তার নিজের স্ত্রী ও সন্তান।

নিজের স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণের পর যদি তার টাকা অবশিষ্ট থেকে যায়, যা তার প্রয়োজন অতিরিক্ত, এমতাবস্থায় তার নিজের বাবা-মা যদি আর্থিক সংকটে থাকেন, তাদের কাছে থাকা টাকা দিয়ে তাদের সংসার কোনক্রমে না চলে, এই ক্ষেত্রে তার বাবা মাকে সে দেখাশোনা করবে, পরবর্তীতে একই পরিস্থিতিতে তার ভাই থাকলে তার দেখাশোনা করবে।

★শ্বশুরের বা শ্বশুরের পরিবারের কোনোরুপ আর্থিক দায়িত্ব তার উপর নেই।

শরীয়ত এ ধরনের কোন দায়িত্ব সেই ছেলেকে দেয়নি।


(০৯)
এক্ষেত্রে পরামর্শ থাকবে, আপনি বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করবেন। অর্থসহ কুরআন বোঝার চেষ্টা করবেন। 

বেশি বেশি জিকির করবেন। জিকিরের মজলিসে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করবেন।

বেশি বেশি নামাজ আদায় করবেন।

নেককারদের মজলিসে অংশগ্রহণ করবেন।
দুনিয়াদারদের সাথে উঠাবসা কমিয়ে দিবেন।
যারা সর্ব্দা আখেরাতের চিন্তা করে,আখেরাতের কাজ করে,তাদের সাথে বেশি বেশি উঠাবসা করবেন। 

প্রতি মাসে কমপক্ষে তিন দিন তাবলীগে সময় দিবেন।

প্রতি বছরের কমপক্ষে এক চিল্লা দিবেন।

সর্বদা দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের সাথে যুক্ত থাকবেন এবং তাদের তালিমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করবেন।

হক্কানী উলামায়ে কেরামদের এ ধরনের বয়ান সর্বদা শোনার চেষ্টা করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...