জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
সূরা আনফাল এর ৩৩ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-
وَ مَا کَانَ اللّٰہُ لِیُعَذِّبَہُمۡ وَ اَنۡتَ فِیۡہِمۡ ؕ وَ مَا کَانَ اللّٰہُ مُعَذِّبَہُمۡ وَ ہُمۡ یَسۡتَغۡفِرُوۡنَ ﴿۳۳﴾
আর আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মধ্যে থাকবেন অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং আল্লাহ এমনও নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
এখানে কারা ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করবে এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে।
কোন কোন মুফাসসির বলেনঃ এখানে কাফেরদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। কারণ তারা উক্ত কথা বলার পরে লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে তারা কাবা ঘরের তাওয়াফ করার সময় বলত, ‘গোফরানাকা, গোফরানাক’। [আইসারুত তাফসীর]
অথবা, তাদের মাঝে ঐ সমস্ত লোকদেরকে এ আয়াতে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যারা ঈমান আনবে বলে আল্লাহ তা'আলা তার ইলমে গায়েবে নির্ধারিত করেছেন। [ইবন কাসীর]
অপরপক্ষে, কোন কোন মুফাসসির বলেনঃ এখানে ঐ সমস্ত ঈমানদারদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যারা মক্কায় অসহায় অবস্থায় জীবন-যাপন করছিলেন; হিজরত করতে সমর্থ হননি। তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছিলেন। [ইবন কাসীর]
এ আয়াতটি উদ্দেশ্য করে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আল্লাহ আমাদেরকে দুটি নিরাপত্তা দিয়েছিলেন। যার একটি চলে গেছে। (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু) কিন্তু আরেকটি রয়ে গেছে। (অর্থাৎ ইস্তেগফার) [মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ১/৫৪২] অনুরূপ বর্ণনা ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও রয়েছে।
অন্য এক হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইবলিস তার রবকে উদ্দেশ্য করে বললঃ আপনার সম্মান ও ইজ্জতের শপথ করে বলছি, যতক্ষণ বনী আদমের দেহে প্রাণ থাকবে ততক্ষণ আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে থাকব। ফলে আল্লাহ বললেনঃ আমি আমার সম্মান-প্রতিপত্তির শপথ করে বলছিঃ আমি তাদেরকে ক্ষমা করতে থাকব যতক্ষণ তারা আমার কাছে ক্ষমা চাইতে থাকবে। [মুসনাদে আহমাদঃ ৩/২৯, মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ৪/২৬১]
(০২)
এটি বলা যথেষ্ট নয়।
এক্ষেত্রে খালেস দিলে তওবা করতে হবে।
এ সংক্রান্ত জানুনঃ-
(০৩)
বিদ্বেষ বলতে কারো প্রতি অন্তরে ঘৃণা, ক্ষোভ, শত্রুতা পুষে রাখা উদ্দেশ্য।
আর হিংসা বলতে বুঝায় অন্যের কাছে কোন নেয়ামত দেখে কষ্ট পাওয়া এবং সেই নেয়ামত তার থেকে দূর হয়ে যাক এই কামনা করা।
(০৪)
কারো কোনো বৈধ কাজকর্মের দ্বারা যদি তার প্রতি মনে রাগ, ক্ষোভ, ঘৃণা তৈরি হয়, এটা বিদ্বেষের মধ্যে পড়বে।
(০৫)
অনিচ্ছায় আসলে গুনাহ হবে না।
তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের ধারণা করলে গুনাহ হবে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।
(০৬)
এ ধরনের চিন্তাভাবনা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিবেন।
প্রয়োজনে সেই ব্যক্তি হতে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে পারে।
৭) আমরা যা যা গুনাহ বিষয়ক চিন্তা করি,গুনাহে লিপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এসব আমলনামায় লেখা হয়না।
তবে ছওয়াব বিষয়ক কোন আমলের কথা চিন্তা করলেও আমলনামায় ছওয়াব লেখা হয়।
(০৮)
এক্ষেত্রে প্রথমে হকদার হল তার নিজের স্ত্রী ও সন্তান।
নিজের স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণের পর যদি তার টাকা অবশিষ্ট থেকে যায়, যা তার প্রয়োজন অতিরিক্ত, এমতাবস্থায় তার নিজের বাবা-মা যদি আর্থিক সংকটে থাকেন, তাদের কাছে থাকা টাকা দিয়ে তাদের সংসার কোনক্রমে না চলে, এই ক্ষেত্রে তার বাবা মাকে সে দেখাশোনা করবে, পরবর্তীতে একই পরিস্থিতিতে তার ভাই থাকলে তার দেখাশোনা করবে।
★শ্বশুরের বা শ্বশুরের পরিবারের কোনোরুপ আর্থিক দায়িত্ব তার উপর নেই।
শরীয়ত এ ধরনের কোন দায়িত্ব সেই ছেলেকে দেয়নি।
(০৯)
এক্ষেত্রে পরামর্শ থাকবে, আপনি বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করবেন। অর্থসহ কুরআন বোঝার চেষ্টা করবেন।
বেশি বেশি জিকির করবেন। জিকিরের মজলিসে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করবেন।
বেশি বেশি নামাজ আদায় করবেন।
নেককারদের মজলিসে অংশগ্রহণ করবেন।
দুনিয়াদারদের সাথে উঠাবসা কমিয়ে দিবেন।
যারা সর্ব্দা আখেরাতের চিন্তা করে,আখেরাতের কাজ করে,তাদের সাথে বেশি বেশি উঠাবসা করবেন।
প্রতি মাসে কমপক্ষে তিন দিন তাবলীগে সময় দিবেন।
প্রতি বছরের কমপক্ষে এক চিল্লা দিবেন।
সর্বদা দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের সাথে যুক্ত থাকবেন এবং তাদের তালিমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করবেন।
হক্কানী উলামায়ে কেরামদের এ ধরনের বয়ান সর্বদা শোনার চেষ্টা করবেন।