আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
102 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (10 points)
আসসালামুয়ালাইকুম আমি নিচে একটি লেখা শেয়ার করছি

"

প্রশ্ন: “দুই খারাপের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম খারাপ যেটা সেটাকে গ্রহণ করার জন্য ইসলামে অনুমােদন রয়েছে, গনতন্ত্রের ক্ষেত্রে কি এই নীতিমালা প্রযােজ্য নয়?
উত্তর: গণতান্ত্রিক নির্বাচনের সমর্থকরা ইসলামের

إذا ابتليت ببلائين فاختر أهونهما
অর্থাৎ “দুই খারাপের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম খারাপ যেটা সেটাকে গ্রহণ করা” এই নীতিকে দুইভাবে ব্যবহার করে থাকেঃ

১) যে প্রার্থীর আদর্শ অপেক্ষাকৃত কম ইসলাম বিরােধী তাকে ভােট দেয়ার মানে হলাে কম খারাপের পক্ষ নেয়া।

২) অন্য দিকে, কাউকে যদি ভােট না দেয়া হয় তাহলে বেশী খারাপ প্রার্থীটি নির্বাচিত হতে পারে এই আশংকায় কম খারাপকে ভােট দেয়া । আসলে ইসলামের বেশীরভাগ নীতি নিয়ে এভাবেই মানুষ মানুষকে বিভ্রান্ত করে । তারা সঠিক নীতিটি সুন্দরভাবে উল্লেখ করে কিন্তু এর প্রয়োগ করে ভুল অথবা এমন ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করতে চায় যেখানে ঐ নীতি খাটে বিশেষ করে এই নীতিটির ক্ষেত্রে তাদের ভুল হলো, তারা এর প্রয়োগ বোঝেনি। শুধুমাত্র সেখানেই এটি প্রয়োগ করা যাবে যেখানে, দুটি পথের একটি গ্রহণ না করে উপায় নেই। কিন্তু যদি এগুলো থেকে বেঁচে থাকার উপায় থাকে অর্থাৎ দুটি পথের একটি গ্রহণ করতে যদি বাধ্য করা না হয় তাহলে সেখানে এই নীতি প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ কাউকে যদি দুটি হারামের একটি গ্রহণে বাধ্য করা হয়, তা হলে সে কম গুনাহের কাজটি করতে পারে । কিন্তু এমন ক্ষেত্রে নয়- যেখানে কেউ বাধ্য করছে না সেই ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। ভোটের ক্ষেত্রে এই প্রয়োগকে এভাবে দেখা যায়ঃ কোন এক ব্যক্তি একজন মুসলিম ভাইকে মদ খাওয়ার দাওয়াত দিল। সেখানে একটি মদে থাকবে ৫০% এলকোহল এবং অন্য একটি মদে ২৫% এলকোহল । সুতরাং সে দাওয়াত গ্রহণ করে ২৫% এলকোহলের মদটি পান করল।

গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আমাদের কেউ বাধ্য করছে না; তাই কম খারাপকে সমর্থনের নামে একটি শিরক করা কখনােই গ্রহণযােগ্য হতে পারে না। আমরা ভােট না দিলে যে ক্ষতি হবে তার তুলনায় এই শিরক (আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকে আইন তৈরীর অধিকার দেয়া) অনেক অনেক বেশী ক্ষতিকর।

বইঃ দ্বীন কায়েম এর পথ
জসিম উদ্দিন রহমানী হাফিঃ"

এ লেখা অনুযায়ী আমাকে যদি একান্তই বাধ্য না করা হয় তাহলে আমার ভোট দেয়া উচিত না, যেহেতু তা ছোট শিরকের পর্যায়ে পড়ে যায়।

এখন কি করা উচিত?

ভোট দিতে যাবো নাকি যাবো না ???

1 Answer

0 votes
by (806,100 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
গনভোট যা মানুষ ও রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য হবে, সেই ভোট দেওয়া যাবে। এবং বর্তমান সময়ের আলোকে সেই ভোট প্রদান করাটা জরুরী। 

নির্বাচনে যোগ্য ও আমানতদার প্রার্থীকে ভোট দেওয়া যাবে। 

গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোট প্রদান করার বিষয়টা যেহেতু বিতর্কিত ও মতানৈক্য পূর্ণ। সেই বিবেচনায় উপমহাদেশের কয়েকটি দারুল ইফতার ফাতাওয়া সংযুক্ত করা হল,


গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোট দেওয়ার শরয়ী বিধান সম্পর্কে দারুল উলূম দেওবন্দ (ভারত) এর ঐতিহাসিক ফাতাওয়াটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে্র ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/135965

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
তুলনামূলকভাবে যার দ্বারা কম ক্ষতি হবে, তাকেই ভোট দিবেন। যোগ্য কোনো প্রার্থী না হলে তখন বিরত থাকবেন। অযোগ্য বা জুলম কিংবা দুর্নীতিতে জড়িত কারো সম্পর্কে জানা সত্বেও ভোট দিলে তখন আপনারও গোনাহ হবে।তবে জানা না থাকলে তখন গোনাহ হবে না। ভোট দেওয়া যাবে, শিরক হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...