আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
58 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (8 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ শাইখ।

১)মহিলাদের ক্ষেত্রে যদি কখনও কখনও এমন হয় যে ফজর পড়ে একটানা বসে জিকির , তেলাওয়াত করতে পারেনি। মাঝে কিছু সময় দুনিয়াবি কোনো কাজ করে ফেলেছে। কিন্তু এরপর ইশরাকের সালাত ওয়াক্ত শুরুর প্রথমেই আদায় করে নিয়েছে ,এক্ষেত্রে এক‌ই স‌ওয়াব পাবে?

২)আমি মাঝে মাঝে লুকিয়ে নফল রোজা রাখি। আম্মু সকালের নাস্তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বলি,"যা খাই আরো পরে খাবো" -এখানে আমি আরো পরে বলতে ইফতারের নিয়ত করেছি। এক্ষেত্রে কি গুনাহ হবে?

৩)আমি অনেক মানুষকে কথা দ্বারা,কাজ দ্বারা আঘাত করেছিলাম।তাদের মধ্যে অনেকেই মৃত।ওনারা দ্বীনদার মানুষ ছিলেন। আমার দেওয়া কষ্টে ওনারা কেঁদেছেন‌ও। ওনাদের রুহের বদদোয়া আমার উপরে পড়েছে। আমি সবদিক দিয়ে অনেক অশান্তিতে আছি। এক্ষেত্রে কিভাবে ওনাদের বদদোয়া গুলো আমার উপর থেকে দূর হবে?

৪)আমার আম্মু বাসায় মুরগী পালে। মুরগী গুলো আমার খুব আদরের।তার মধ্যে একটা মুরগী আমার খুব বেশি আদরের।ও একদম ছোটখাটো দেখতে। আমাকেও অনেক পছন্দ করে।আমি আল্লাহর কাছে দুআ করি ওকে যেন জবাই করতে না পারে।ওর যেন ঘুমের মধ্যে‌ই স্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে যায়। আমার খুব কষ্ট হবে ওকে জবাই করলে।

এই দোয়া করা কি জায়েজ হবে শাইখ?

৫)দুআ করার সময় "হে আল্লাহ, আপনার তাওহীদের কালিমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর উসীলায় আপনার কাছে চাচ্ছি" এভাবে চাওয়া জায়েজ হবে?

৬)একদম উলঙ্গ হয়ে গোসল করা তো উচিত নয়।গায়ে কাপড় রেখেই গোসল করা উচিত। কিন্তু এভাবে গায়ে কাপড় রেখে ফরজ গোসল তো করতে পারি না।ফরজ গোসলে তো শরীরের সব অংশে পানি পৌঁছাতে হবে।গায়ে কাপড় থাকলে তো পানি সব জায়গায় পৌঁছেছে কিনা এটা নিয়ে সন্দেহ জাগে।

৭) রোজা রেখে রান্না করার সময় ধোঁয়া তো অটোমেটিক নাকে মুখে ঢুকে। কিন্তু এতে রোজা ভাঙ্গবে না।তবে আমি যদি ইচ্ছে করে নাক /মুখ দিয়ে রান্নার ধোঁয়া টেনে নেই, রান্নার সুগন্ধ চেক করি নাক দিয়ে এসবে রোজা ভেঙে যাবে। ব্যাপারটা এমন না শাইখ?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
https://ifatwa.info/36609/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

হযরত আনাস রাযি,থেকে বর্ণিত

(مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ ، وَعُمْرَةٍ ، تَامَّةٍ ، تَامَّةٍ ، تَامَّةٍ)

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের নামায পড়বে,অতঃপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত থাকবে,তারপর দু'রাকাত নামায পড়বে,তাহলে সে একটি হজ্ব ও একটি উমরার সওয়াব পাবে।এরপর তিনি তাকিদ করে বলেন,হ্যা পূর্ণ হজ্ব ও উমরার সওয়াব সে পাবে।(সুনানু তিরমিযি-৫৮৬)

( أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ جَلَسَ فِي مُصَلَّاهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَسَنًا )
রাসূলুল্লাহ সাঃ ফযরের নামাযের পর পরিপূর্ণ সূর্যোদয়ের পর্যন্ত মুসল্লায় বসে থাকতেন।(সহীহ মুসলিম-৬৭০)


★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন, 
মহিলারা যদি ঘরে নামাজ আদায় করে নামাজ আদায়ের স্থানেই বসে থেকে যিকির আযকার কুরআন তিলাওয়াত করতে থাকে ,কথাবার্তা,খাওয়া দাওয়া /দুনিয়াবি কাজ কর্মে লিপ্ত না হয়,সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত থেকে, তারপর দু'রাকাত নামায পড়ে,তাহলে তারাও একটি হজ্ব ও একটি উমরার সওয়াব পাবে।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ফজর নামাজের পর এভাবে দুনিয়াবি কাজ করার পর অথবা খেয়ে সূর্য ওঠার ২০/১৫ মিনিট পর ইশরাকের নামাজ আদায় করলে ইশরাক নামাজ আদায় হবে ঠিকই। এক্ষেত্রেও অনেক ফজিলত পাওয়া যাবে।

তবে হাদীসে বর্ণিত পূর্ণ ফজিলত পেতে ফজরের সালাত আদায়ের স্থানে সূর্য না ওঠা পর্যন্ত বসে থেকে যিকর আযকার,তিলাওয়াত করে ইশরাক আদায় করতে হবে।

(০২)
না,এক্ষেত্রে গুনাহ হবেনা।

(০৩)
এক্ষেত্রে তাদের জন্য মাগফেরাতের দোয়া আল্লাহর কাছে করবেন, তাদের জন্য ঈসালে সওয়াব করবেন, পাশাপাশি নিজের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন।

(০৪)
হ্যাঁ, জায়েজ হবে।

(০৫)
এভাবে চাওয়া জায়েজ হবে।

(০৬)
এতে সন্দেহের কিছু নেই।
ভালোভাবে পানি শরীরে পানি ঢেলে দিলে পানি ঠিকই পৌঁছে যাবে।

এক্ষেত্রে নাপাক স্থান গুলো ডলে ডলে সাফ করবেন।

(০৭)
এক্ষেত্রে রোযা মাকরুহ হবে।

পরামর্শ থাকবে,ধোয়া উঠার সময় মুখে মাস্ক পড়বেন অথবা কোন কাপড় দিয়ে নাক ঢেকে রাখবেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...