আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ উস্তাদ জ্বি।
ষষ্ঠ সেমিস্টারে আমাদের ভোট এবং রাষ্ট্রনেতা নির্বাচন বিষয়ক দরস নিয়ে আমার কিছু প্রশ্ন ছিল।
উস্তাদ জ্বি, আমার প্রশ্ন হচ্ছে -
1।
আমাদের দরসে মুসলিম রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপ্রধানের আনুগত্য - এর সপক্ষে কুরআন , হাদীস , এবং বিভিন্ন ইফতা বোর্ডের দলিল পেশ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রনেতা নির্বাচন এবং আনুগত্য বিষয়ক যত মূলনীতি কুরআনের আয়াত এবং হাদীসে এসেছে তার প্রধানতম পূর্বশর্তই তো এই যে -
আমিরকে শরীয়াহ অনুযায়ী দেশ চালাতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রে আইনের উৎস হবে শরীয়াহ, ততক্ষন পর্যন্ত আনুগত্যের প্রশ্ন ভ্যালিড থাকবে। অন্যথায় আনুগত্যের প্রশ্নটাই invalid ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে, যখন স্বয়ং বর্তমান সিস্টেমকেই ইসলাম বৈধতা দেয় না।
আমাদের বর্তমান গণতান্ত্রিক সিস্টেমে যে দলই ক্ষমতায় যাক না কেনো, সে প্রথম এই বিষয়টা মেনে নিয়েই যায় যে দেশ চলবে - মানবসৃষ্ট আইনে, মানুষই এখানে মূল আইনপ্রণেতা - যা সর্বসম্মতিক্রমে কুফুরী।
এমনকি কিছু বিধান যা শরীয়াহ এর সাথে সাংঘর্ষিক নয়, সেই আইনের উৎসও এখানে শরীয়াহ নয়, বরং মানুষ।
সুতরাং গণতন্ত্রের আইনগুলো শরীয়াহ এর সাথে সাংঘর্ষিক কি সাংঘর্ষিক নয় - এখানে তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হচ্ছে , আইনপ্রণেতা কে, আইনের উৎস কি ।
এই প্রশ্নের উত্তরই ঠিক করবে এই সিস্টেমকে ইসলাম বৈধতা দিবে কি দিবে না। এবং কোনো ক্রমেই ইসলাম একটি কুফুরী সিস্টেমকে বৈধতা দেয় না যেখানে আইনপ্রণেতা হিসেবে আল্লাহ্ swt কে রিপ্লেস করা হয় মানুষ দ্বারা। তাহলে আমাদের দরসে যখন বলা হচ্ছে এই সিস্টেমে রাষ্ট্রপ্রধানের আনুগত্য করতে হবে, এবং তার পক্ষে যখন কুরআন এবং হাদীসকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে , তার মানে কি এই দাঁড়াচ্ছে না যে - একটি কুফুরী ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে, এবং বলা হচ্ছে কুরআন তথা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন এবং হাদীস তথা রসূলুল্লাহ ﷺ স্বয়ং এই কুফুরী সিস্টেমের আনুগত্যের ব্যাপারে জোর দিয়েছেন?(নাউজুবিল্লাহ)
বরং যে রেফারেন্স গুলো ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো ইটসেলফ এর বিপক্ষের প্রমাণ।
উদাহরণস্বরূপ, একটি রেফারেন্স ছিলো এমন -
[" মুফতি শফী রাহ. বলেন, যখন কোনো মুসলিম রাষ্ট্রে সর্বসম্মতিক্রমে কোনো ব্যক্তি খলিফা বা রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচিত হন, আর তিনি দেশকে শরয়ী আইন মোতাবেক পরিচালনা করেন এবং এমন কোনো আইন প্রণয়ন না করেন যা শরীয়ত পরিপন্থী, তাহলে সে সরকারের আনুগত্য করা জনগণের জন্য অপরিহার্য। তার ব্যক্তিগত আমল শরীয়ত সম্মত হোক বা না হোক।"
- যাওয়াহিরুল ফিকহ : ৫/৪৫৪, মাকতাবায়ে দারুল উলুম করাচী, পাকিস্তান]
এখানে খুব স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে, আনুগত্যের প্রশ্ন তখন, যখন আমির শরীয়াহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবেন।
যখন একটা সিস্টেমের বৈধতার বিষয়টিই শরয়ী এবং আকীদার জায়গা থেকে প্রশ্নবিদ্ধ, তখন কুরআন এবং হাদীসের কওল গুলো একটি কুফুরী সিস্টেম এর আনুগত্যের প্রশ্নে টেনে নিয়ে আসার বিষয়টা আসলে শরীয়াহ এর সাথে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ?
2।
এছাড়াও সুযোগ্য নেতাকে ভোট প্রদানের বিষয়টিকে শরীয়াহ আইনে পরিচালিত নয় এমন একটি দেশে নেতা নির্বাচনের বিষয়ে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
যেমন: আমির নির্বাচনের ক্ষেত্রে - ১. শাহাদাহ, ২. আমানাহ্, ৩. ওয়াকালাত - এই বিষয়গুলোকে স্বপক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করা হয়েছে এবং কুরআনের আয়াত দ্বারা জাস্টিফাই করার চেষ্টা করা হয়েছে।
যেমন আমানত এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে -
আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন , "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন, যাবতীয় আমানত তার উপযুক্ত ব্যক্তিদেরকে অর্পণ করতে"(সুরা নিসা : 58)
তাহলে কি বিষয়টা এক্ষেত্রে এমন দাঁড়াচ্ছে যে,
আমি ভোটের মাধ্যমে এমন একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচিত করলাম, যিনি সংসদের একজন আইনপ্রণেতা হবেন, এবং আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনকে আইনপ্রণেতার জায়গা থেকে রিপ্লেইস করবেন?
এবং আল্লাহ রব্বুল আলামীন এমন ব্যক্তিকে ভোট প্রদান করে নির্বাচিত করার ব্যাপারে আমাদের আদেশ দিচ্ছেন?(নাউজুবিল্লাহ!)
উস্তাদ জ্বি, আমি মূলত বিষয়গুলো পরিপূর্ণ ভাবে শরীয়াহ এর জায়গা থেকে জানতে চাই। আমার বুঝে ভুল থাকলে দয়া করে শরীয়াহ এর রেফারেন্স ব্যবহার করে জানানোর জোর অনুরোধ থাকবে