আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
56 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (4 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ উস্তাদ। একটা  সমস্যায় পড়ে পরামর্শের জন্য আপনাদের শরনাপন্ন হ‌ওয়া উস্তাদ ।দয়া করে আমাকে তাড়াতাড়ি  পরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ।

সমস্যা ফ্যামিলি ইস্যু
,আমার হাসব্যান্ড প্রবাসী ।

 ছোট থেকেই উনার প্রবাস অপছন্দ
উনি পড়াশোনা কন্টিনিউ করা অবস্থায় পরিবার থেকে বাধ্য করে প্রবাস যাওয়ার জন্য ।ছোট খাটো ইমোশনাল ব্লাকমেইল করে বলা যায় । পরবর্তীতে উনি বাধ্য হয়ে প্রবাস যান । উনাকে ১ বছরের জন্য বলে পাঠালে ও পরবর্তী তে পরিবার রাজি হয়না উনি দেশে কর্ম করার জন্য চলে আসতে চাইলে , । এভাবে দেশে আসলে ও বারংবার এই বাধ্য করে পরিবার থেকে বিভিন্ন অশান্তি করে উনাকে পাঠানো হয় প্রবাস ।।

বিয়ের মাধ্যমে আমাদের দ্বীনের আলহামদুলিল্লাহ অনেক সহযোগি দুইজন দুজনের জন্য ।

(বিশেষ করে নন মাহরাম থেকে দূরে থাকতে পর্দা মেইনটেইন করতে বিভিন্ন দ্বীনের ঘাটতি গুলো পূরন হতে , মানসিক প্রশান্তি, মোবাইল এডিকশন থেকে বিরত সবকিছু এভরিথিং আলহামদুলিল্লাহ ।

একসাথে থাকলে আমাদের আমল ইবাদত , দৈনন্দিন সব কিছু ঠিকঠাক চলে আলহামদুলিল্লাহ ।

দুইজন আলাদা থাকার সমস্যা : নফস কন্ট্রোল এর বাইরে কন্ট্রোল করা যায়না প্রথমত সমস্যা সব ধরনের প্রশান্তি হারিয়ে যাওয়া( আমল ইবাদত ,ইলম, কাজকর্ম ইত্যাদি সব), মোবাইল এডিকশন বেড়ে যাওয়া, সফরে কিংবা যে কোনো যাতায়াত এ পুরুষ মাহরাম ছাড়া বের হ‌ওয়া ঘরে নন মাহরাম আসলে বাধ্য হয়ে সামনে যাওয়া যেটা হাসব্যান্ড থাকলে এটা থেকে বিরত থাকা যায় ) , নিজের প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় নিজেকেই বাহিরে জাহির করা ইত্যাদি ।

 যেটা হাসব্যান্ড থাকা অবস্থায় নিজে ঘরে অবস্থান করতে পারা যায়
ইত্যাদি সব।

পারিবারিক মতামত : দেশে কর্ম করা নিয়ে খুবই নারাজ , বিদেশ ছাড়া নাছোড়বান্দা হয়ে আছেন ।

 ( ব্যবসা বাণিজ্যর অবস্থা ও খারাপ তবুও ছেলে প্রবাস এই যেতে হবে এরকম মাইন্ড সেট , প্রবাস থেকে টাকা না পাঠাতে পারলে ও সমস্যা নেই, কিন্তু দেশে পারিবারিক খরচ করে ও কাজ করাতে কেউ রাজি নন ।
এখন আমার প্রশ্ন আমরা হাসব্যান্ড ওয়া‌ইফ একসাথে থাকতে চাওয়া ( সর্বপ্রথম দ্বীন সহযোগিতার জন্য) এটা কি রং ডিভিশন এর মধ্য পড়ে নাকি পরিবার এর চাহিদা ( ছেলে বিদেশ থাকুক বিদেশ থেকে টাকা ইনকাম করুক কম হোক বা বেশি ।

কিন্তু উনারা মানতে রাজি নন ছেলে দেশে থেকে কাজকর্ম করবেন, এবং পরিবার থেকে এটা ও বলা হয়েছে যে বিদেশ না গেলে ঘরছাড়া ও হতে হবে ,)।

 বাবা মায়ের এই কথায় রাজি না হ‌ওয়ায় কি অবাধ্যতার গুনহার শামিল হতে হবে ??

নাকি আমাদের নিজেদের দ্বীন ঠিক রাখার জন্য একসাথে থাকতে চাওয়া টাই সর্ব প্রথম আগে দেখতে হবে ??

  একজন বিবাহিত ছেলে বিয়ের পরবর্তী সময় টাতে কোন টাকে আগে প্রায়োরিটি দিবেন, স্ত্রীর চাহিদা নাকি বাবা মায়ের চাহিদা ।

 স্ত্রী এবং বাবা মা দুই দিকের চাহিদায় যদি হালাল হয় তবে কোন টাকে আগে প্রাধান্য দিবেন ??

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

মা বাবার সর্বদায় আনুগত্য করতে হবে,তাদের কথার নাফরমানী করা যাবেনা।
তাদের সাথে সর্বদায় ভালো ব্যবহার করতে হবে।

তারা কষ্ট পায়,এমন কাজ কখনোও করা যাবেনা।
তাদের হক বা অধিকারসমূহ এবং তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা সন্তানের ওপর ওয়াজিব বা আবশ্যক।

 পিতামাতার খরচ বহন করা; তাদের খোঁজ-খবর নেয়া; প্রয়োজনের সময় বিশেষ করে বার্ধক্যে তাদের পাশে থাকা আবশ্যক ।

মাতাপিতার দেখভাল করা ও তাদের সাথে উত্তম আচরণ করা শরীয়ত কর্তৃক ফরয ঘোষনা করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا ۖ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا ۖ وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا

“আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্টসহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস।” (সূরা আহকাফ-১৫)

আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন,

وَقَضَى رَبُّكَ أَلاَّ تَعْبُدُواْ إِلاَّ إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاَهُمَا فَلاَ تَقُل لَّهُمَآ أُفٍّ وَلاَ تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلاً كَرِيمًا

তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা।(সূরা বনী ইসরাঈল-২৩)

أن جاهمة جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: يا رسول الله، أردت أن أغزو وقد جئت أستشيرك، فقال: «هل لك من أم؟» قال: نعم، قال: «فالزمها، فإن الجنة تحت رجليها»

“হযরত জাহিমাহ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি যুদ্ধে অংশগ্রহণের ইচ্ছা করেছি, আপনার কাছে পরামর্শ নিতে এসেছি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, “তোমার কি মা আছেন?” সাহাবী জবাব দিলেন, “হ্যাঁ!”। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, “তাঁর সেবাকে নিজের উপর আবশ্যক করে নাও। নিশ্চয়ই তাঁর দুই পায়ের নিচে রয়েছে জান্নাত।” (সুনানে নাসাঈ: ৩১০৪)

হাদিস শরীফে আরও এসেছে,

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : "جاء رجلٌ إلى رسول الله -صلى الله عليه وسلم- فقال : يا رسول الله، من أحق الناس بحسن صحابتي؟، قال: (أمك) ، قال: ثم من؟ قال: (أمك) ، قال: ثم من؟ قال: (أمك) ، قال: ثم من؟ قال: (أبوك) متفق عليه .

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার এক সাহাবী এসে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে কে আমার সর্বাধিক মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য?” রাসূল (সা.) উত্তর দিলেন, “তোমার মাতা।” লোকটি জিজ্ঞেস করলো, “তারপর কে?” রাসূল (সা.) উত্তর দিলেন, “তোমার মাতা।” লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলো, “তারপর কে?” রাসূল (সা.) উত্তর দিলেন, “তোমার মাতা।” লোকটি পুনরায় জিজ্ঞেস করলো, “তারপর কে?” রাসূল (সা.) উত্তর দিলেন, “তোমার পিতা।”(বুখারী ও মুসলিম)

তবে গুনাহের কাজে মাতা পিতার আদেশ মানা জায়েজ নেই।

হাদীস শরীফে এসেছে,রাসূলুল্লাহ সাঃবলেন-

لا طاعة في معصية إنما الطاعة في المعروف

গোনাহের কাজে কারো বশ্যতা স্বীকার করা যাবে না।(শরীয়ত যাদের বিধিনিষেধ মেনে চলার আদেশ দিয়েছে তাদের) আদেশ শুধুমাত্র বৈধ ও নেকীর কাজে মানা যাবে।(সহীহ বুখারী-৭২৫৭,সহীহ মুসলিম-১৮৪০)

অন্য এক হাদীসে বর্ণিত রয়েছে,

لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

আল্লাহর অবাধ্যতায় কারো বিধিনিষেধ কে মান্য করা যাবে না।(মুসনাদে আহমাদ-১০৯৮)

চার মাযহাবের গ্রহণযোগ্য ফেকহী গ্রন্থ 'আল-মা'সুআতুল ফেকহীয়্যায়(২৮/৩২৭)' বর্ণিত রয়েছে,

"طاعة المخلوقين - ممّن تجب طاعتهم – كالوالدين ، والزّوج ، وولاة الأمر : فإنّ وجوب طاعتهم مقيّد بأن لا يكون في معصية ، إذ لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق" انتهى

শরীয়ত কর্তৃক যাদের বিধিনিষেধের অনুসরণ করা ওয়াজিব।যেমনঃ মাতাপিতা,স্বামী,এবং রাষ্ট্রীয় প্রধান বা তাদের আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ।তাদের বিধিনিষেধ আমলে নেয়া তখনই ওয়াজিব যখন তা শরীয়ত বিরোধী হবে না।কেননা 'সৃষ্টিকর্তার নাফরমানীতে কোনো সৃষ্টজীবের অনুসরণ করা যায় না'(মর্মে হাদীসে বর্ণিত রয়েছে)

ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহঃ লিখেন,

ويلزم الإنسان طاعة والديه في غير المعصية وإن كانا فاسقين ، وهو ظاهر إطلاق أحمد ، وهذا فيما فيه منفعة لهما ولا ضرر ، فإن شق عليه ولم يضره : وجب ، وإلا فلا

গোনাহের কাজ ব্যতীত মুবাহ তথা বৈধ কাজে
মাতা পিতার আদেশকে মান্য করা ওয়াজিব।যদি তার ফাসিকও হয়।এটা তখন যখন তাতে মাতাপিতার ফায়দা থাকবে,এবং সন্তানের জন্য ক্ষতিকারক হবে না।যদি সন্তানের উপর কষ্টদায়ক হয় তবে ক্ষতিকারক না হয়, তাহলে তখন মাতাপিতার আদেশ মান্য করা ওয়াজিব নয়।(আল-ফাতাওয়াল কুবরা-৫/৩৮১)

★মাতাপিতার আদেশকে মান্য করা মূলত তিনটি মূলনীতির আলোকে হয়ে থাকে।
(১) তাদের আদেশ কোনো মুবাহ বিষয়ে হতে হবে।কোনো ওয়াজিব তরকের ব্যাপারে হতে পারবে না।এবং কোন হারাম কাজের জড়িত হওয়ার জন্যও হতে পারবে না।

(২)যে কাজের আদেশ তারা দিবেন,এতে তাদের ফায়দা থাকতে হবে,বা শরীয়তের পছন্দসই কাজ হতে হবে।

(৩)যে কাজের আদেশ দিচ্ছেন,তা তাদের সন্তানদের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারবে না।

সুতরাং যদি সন্তানের কষ্ট লাগবের জন্য তারা আদেশ দিয়ে থাকেন,তাহলে এক্ষেত্রে মাতাপিতার আদেশকে মান্য করা ওয়াজিব।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/1707

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার স্বামীর জন্য আপনার হককে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশে ফিরে আসা উচিত।

এক্ষেত্রে তিনি যদি বাবা মার কথা অমান্য করে দেশে এসে চাকরি বা ব্যবসা বাণিজ্য করে স্ত্রীকে নিয়ে ঘর সংসার করে,সেক্ষেত্রে তার কোনো গুনাহ হবেনা। 

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...