আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
45 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (5 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

১) বাজারে মেয়েদের যে সমস্ত গেঞ্জি পাওয়া যায় হাঁটুর প্রায় নিচ পর্যন্ত যায়,হাফ হাতার এইরকম, সাথে স্কার্ট, হিজাব এগুলো দিয়ে আমি নামাজ পড়ি।

আমার এই নামাজের ড্রেসগুলো ঠিক আছে কিনা একটু জানাবেন দয়া করে বিশেষ করে লেডিস গেঞ্জি পরাটা।

তাক‌ওয়ার দিক থেকে উত্তরটা জানতে চাচ্ছিলাম।

২)ইস্তেখারার নামাজ পড়ার পর ওজু ভেঙে গেলে আবার ওজু না করেই ইস্তেখারার দোয়াটা দেখে দেখে পড়ি।এটা ঠিক?নাকি আবার ওজু করে এসে তারপর দোয়াটা পড়বো?

৩)নামাজ শেষে জায়নামাজে কিছুক্ষণ বসে থাকলে স‌ওয়াব হয়,এটা কি ঠিক? আমি বসে থাকি কিছুক্ষণ।তবে তার আগে নামাজের ড্রেস পাল্টে,নিচে একটা কাপড় বিছিয়ে ওটার উপর বসি। আমার মনে হয় যে সাদা স্রাব বের হলে ওগুলো আবার ড্রেসে/জায়নামাজে লাগতে পারে।তাই এমন করি।আমি কি সমান স‌ওয়াব পাবো?

৪) নামাজের কাপড় যদি এমন হয় যে শরীরের রং কিছুটা বোঝা যাচ্ছে তবে পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে কি ঐ কাপড়ে নামাজ হবে?

৫)রোজা রেখে ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় ধুলা নাকে মুখে ঢুকে গেলে রোজা ভেঙে যাবে?আমি নাক মুখ ঢেকে ঝাড়ু দেই।এটা ঠিক আছে?

৬)রুকুতে যাচ্ছি এইসময়/রুকুতে "সুবহানা রব্বিয়াল আজীম" বলার সময়/সিজদায় যাচ্ছি/সিজদায় সুবহানা রব্বিয়াল আলা " বলছি এই সময়গুলোতে যদি ওজু ভাঙে সেক্ষেত্রে ওজু করে এসে কোথা থেকে শুরু করবো?

৭) ওয়াইফাই বিল কোনো মাসে দিতাম।কোনো মাসে দিতাম না। ওয়াইফাই লোকেরা অনেক বার বলতো। তারপরও বিল দিতাম না। পাঁচ/ছয় মাস মাস পর হয়তো দেখা যেতো এক মাসের টাকা দিতাম।এই মাসে লাইন কেটে দিবো। এক্ষেত্রে এই ওয়াইফাই লাইন দিয়ে ডাউনলোড করা যত কিছু আমার ফোনে আছে সব কি ভবিষ্যতে হারাম হবে আমার জন্য ব্যবহার করা?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
https://ifatwa.info/49831/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ صَلاَةَ حَائِضٍ إِلاَّ بِخِمَارٍ

আল্লাহ তাআলা খিমার পরিধান করা ব্যতীত কোন প্রাপ্ত বয়স্কা নারীর নামাজ কবুল করেন না। (সুনান আবু দাউদ ৬৪১)

অন্য বর্ণনায় এসেছে-
عَنْ عَائِشَةَ: «أَنَّهَا كَانَتْ تَطُوفُ بِالْبَيْتِ وَهِيَ مُنْتَقِبَةً»

হযরত আয়শা সিদ্দিকা রাঃ বাইতুল্লাহ তওয়াফ করতেন পর্দাবৃত অবস্থায়। {মুসন্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-৮৮৫৯}


মহিলাদের সতর কতটুকু? 

ﻭَﻟِﻠْﺤُﺮَّﺓِ ﺟَﻤِﻴﻊُ ﺑَﺪَﻧِﻬَﺎ ﺧَﻠَﺎ ﺍﻟْﻮَﺟْﻪِ ﻭَﺍﻟْﻜَﻔَّﻴْﻦِ ﻭَﺍﻟْﻘَﺪَﻣَﻴْﻦ
মুখমণ্ডল, দুই হাত কবজি পর্যন্ত ও টাখনুর নিচে পায়ের পাতা ছাড়া মহিলাদের সারা শরীরই সতর। (রদ্দুল মুহতার ১/৪০৪)

সুতরাং নামাজের সময় মহিলাদের জন্য পরপুরুষ দেখার সম্ভাবনা না থাকলে মুখমণ্ডল, দু হাতের কব্জি ও পায়ের পাতা খোলা রাখা আবশ্যক নয়।

★মহিলারা নামাজে টাখনুর নিচে পায়ের পাতা ছাড়া পুরো অংশ ডাকবে।
টাখনুর নিচ পর্যন্ত ঢাকা ফরজ।
সতর্কতামূলক গোড়ালি পর্যন্ত ঢাকা উচিত।

উল্লেখিত কিতাবে পায়ের নলা বলতে টাখনুর পিছনের সাইটের পুরো রগ উদ্দেশ্য। 
এখানে গোড়ালি পর্যন্ত ঢাকার কথা বুঝা যায়।

★মহিলাদের জন্য হাতের ক্ষেত্রে শুধু কনুই ঢাকলে হবেনা,
হাতের কব্জি পর্যন্ত ঢাকা ফরজ।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যদি নামাজে আপনার শরীরের সতরের কোনো অংশ প্রকাশ না পায়,এবং গায়রে মাহরাম পুরুষ যদি আপনাকে না দেখতে পায়,সেক্ষেত্রে এভাবে নামাজ পড়া যাবে।

তবে কোনোক্রমেই এটি নামাজের জন্য তাকওয়াপূর্ণ পোষাক নয়।

(০২)
এক্ষেত্রে অযু না করেও দোয়াটা পড়া যাবে।
তবে অযু করে দোয়া পড়া ভালো হবে।

(০৩)
নামাজ শেষে জায়নামাজে কিছুক্ষণ বসে থাকলে সওয়াব হবে, এ ধরনের কোন কথা কোথাও নেই।

তবে আপনি যদি অন্য নামাজের অপেক্ষায় বসে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনার নামাজের ন্যায় সওয়াব হবে।

উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি আসরের নামাজের পর হতে নিয়ে মাগরিব পর্যন্ত মাগরিবের অপেক্ষায় বসে থাকেন, অথবা মাগরিবের পর হতে নিয়ে এশা পর্যন্ত এশার নামাজের অপেক্ষায় বসে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনার নামাজ আদায়ের ন্যায় ছওয়াব হবে।

(০৪)
সতরের অংশ দৃশ্যমান হলে এতে নামাজ হবেনা।

(০৫)
এতে রোযা ভেঙ্গে যাবেনা। 
তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ধুলা নাকে নেয়া যাবেনা।

আপনি যে নাক মুখ ঢেকে ঝাড়ু দেন।এটা ঠিক আছে।

(০৬)
এক্ষেত্রে অজু করে এসে পুনরায় রুকু করবেন। সেজদার ক্ষেত্রে পুনরায় সেজদাহ  করবেন।

(০৭)
এক্ষেত্রে যে কয় মাসের আপনি বিল দিবেন না, সেই কয় মাসে ওয়াইফাই সংযোগ হতে আপনি যা কিছু ডাউনলোড করেছেন, যা ব্যবহার করেছেন, এগুলো সবই নাজায়েজ বলে বিবেচিত হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...