আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
73 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম হুজুর আশা করি ভালো আছেন। আমার স্বামী বিকাশের লেনদেন করে তার একটা দোকান রয়েছে। সে সেখানে প্রায় এক বছর ধরে ব্যবসা করছে। শুরু থেকে ব্যবসাতে আল্লাহ তায়ালা বরকত দিলেও হঠাৎ করে প্রায় দুমাস ধরে তার ব্যবসায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। আগে তার ব্যবসায় প্রত্যেক দিনের হিসাবে সবকিছু লাভ ঠিক থাকলেও গত দু মাস ধরে প্রায় প্রত্যেক দিনই তার ব্যবসায় কিছু টাকা করে শট পাচ্ছি। প্রথমদিকে সে ভেবেছিল হয়তোবা ঘরের কেউ নিয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে সেই টাকা খুব যত্নে রাখার পরও দেখতে পায় তার কাঙ্খিত টাকা থেকে কিছু টাকা করে কম পাওয়া যাচ্ছে। সে ভেবেছিল হয়তোবা সে লেনদেনে ভুল করছে বা তার ভুলের কারণে টাকা শর্ট হচ্ছে। এরপর থেকে সে প্রত্যেকটা লেনদেনের সময় টাকাগুলো দুই থকে তিনবার গুনে দিত এবং গুনে টাকা নিতো। কিন্তু তারপরও প্রত্যেকদিনের টাকা থেকে প্রায় ২০০ ৩০০ ৫০০ এমনকি কোনদিন গিয়েছে যে সে 1000 টাকাও ইনকাম করেনি কিন্তু এক হাজার টাকাই শর্ট পায়। সে প্রত্যেকদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে না পারলেও চার ওয়াক্ত পড়ার চেষ্টা করে এবং সে প্রত্যেকদিন দোকান খোলার পর দোয়া-দুরুদ পড়ে দোকানে ফু দেয় এবং দোয়া পড়ে লেনদেন শুরু করে সে আল্লাহর কাছে নামাজ পড়ে দোয়া করে কিন্তু এই সমস্যাটা কোনভাবে সমাধান হচ্ছে না। এখন হুজুর এটা কি কোন ধরনের বদনজর বা কারো রিজেক্ট নষ্টের জাদু হতে পারে? সে এইসব বিষয় নিয়ে মারাত্মক লেভেলের টেনশন এ আছে কারণ মাস শেষে তাকে পরিবারে টাকা দিতে হয় এবং তার কিছু ঋন ও দিতে হয়  এভাবে ব্যবসায় প্রত্যেকদিন টাকা শর্ট হতে থাকলে তো সে কোনভাবেই তার প্রয়োজনগুলো পূরণ করতে পারবে না ।সে এখন অনেক বেশি হতাশায় আছে। আমার এখন ভয় হচ্ছে যে সে এই হতাশায় থাকতে থাকতে কোন খারাপ কাজ না করে ফেলে হারাম কিছু না করে ফেলে। এখন হুজুর আমার এই ক্ষেত্রে কি করা উচিত এই সমস্যাটা থেকে কিভাবে সমাধান পাওয়া যায় অনুগ্রহ করে প্লিজ জানাবেন। বিষয়টা খুবই ইমারজেন্সি হুজুর অবশ্যই জানাবেন। কথা বার্তায় কোন ধরনের ভুল থাকলে ক্ষমা করে দিবেন। আসসালামু আলাইকুম হুজুর

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

তাবিজে কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, দুআয়ে মাসুরা বা শিরকমুক্ত অর্থবোধক থাকলে তা  জায়িজ।  কেননা এসব তাবিজের ক্ষেত্রে মুয়াসসার বিজজাত তথা আরোগ্যের ক্ষমতা আল্লাহ তাআলাকেই মনে করা হয়। যেমন ডাক্তার প্রদত্ত ঔষধের ক্ষেত্রে মুয়াসসার বিজজাত আল্লাহকে মনে করার কারণে তা নাজায়িজ নয়। যদি মুয়াসসার বিজজাত ঐ ঔষধকে মনে করলে ঔষধ সেবনও হারাম হবে।
.
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعَلِّمُهُمْ مِنَ الْفَزَعِ كَلِمَاتٍ: «أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ» وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يُعَلِّمُهُنَّ مَنْ عَقَلَ مِنْ بَنِيهِ، وَمَنْ لَمْ يَعْقِلْ كَتَبَهُ فَأَعْلَقَهُ عَلَيْهِ

আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা ও তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে,রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেন,তোমাদের কেউ যখন ঘুম অবস্থায় ঘাবড়িয়ে উঠে,সে যেন  أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ দো’আটি পাঠ করে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর তাঁর উপযুক্ত সন্তানদের তা শিক্ষা দিতেন এবং ছোটদের গলায় তা লিখে লটকিয়ে দিতেন।{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৮৯৫}

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
https://ifatwa.info/20919/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছে, 
কুরআন সুন্নাহের আলোকে শরীর বা ঘর বন্ধ করার নিয়ম হল, চার কুল ও সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত এবং সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়ে শরীর বা ঘরের দরজাসমূহে ফু দেওয়া। বিশেষ করে সূলা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে ফু দেওয়া। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا الْمُفَضَّلُ بْنُ فَضَالَةَ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ ثُمَّ نَفَثَ فِيْهِمَا فَقَرَأَ فِيْهِمَا(قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ)وَ (قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ) وَ (قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ) ثُمَّ يَمْسَحُ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ يَبْدَأُ بِهِمَا عَلَى رَأْسِهِ وَوَجْهِهِ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, প্রতি রাতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানায় যাওয়ার প্রাক্কালে সূরাহ ইখ্লাস, সূরাহ ফালাক ও সূরাহ নাস পাঠ করে দু’হাত একত্র করে হাতে ফুঁক দিয়ে যতদূর সম্ভব সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন। মাথা ও মুখ থেকে আরম্ভ করে তাঁর দেহের সম্মুখ ভাগের উপর হাত বুলাতেন এবং তিনবার এরূপ করতেন। 
[বুখারী শরীফ ৫০১৭.৫৭৪৮, ৬৩১৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৪৮)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
ব্যবসার উপর জাদু করা হলে আপনার স্বামী ব্যাবসার পন্যের উপর এবং দোকানের দরজার উপর উপরোক্ত আমলগুলি করে ফু দিতে পারেন। 

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার স্বামীর প্রতি পরামর্শ থাকবে, তার কথাও ভুল হচ্ছে ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করে সে ভুল শুধরে নিবেন। প্রতিটা লেনদেন সঙ্গে সঙ্গে লিখে রাখবেন। ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট আলাদা খাতায় পরিষ্কারভাবে লিখবেন। অনেক সময় ভিড়ের মধ্যে তাড়াহুড়া করতে গিয়ে ১০০০ টাকা কে ৫০০ টাকা ভেবে দেয় বা ৫০০ টাকা কে ১০০০ টাকা ধরে নেয়, সুতরাং এরকম ভুল যেন না হয় তাই তাড়াহুড়া পরিহার করতে হবে।

তিনি প্রাথমিকভাবে বেশ কিছুদিন পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিটা লেনদেন লিখে রাখতে পারেন।

সম্ভব হলে কাউকে একদিন বসিয়ে তার পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করাতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে তিনি চাইলে তার দোকানে সিসিটিভি লাগাতে পারেন।

হিসাব সফটওয়্যার বা আলাদা ক্যাশ বক্স ব্যবহার করতে পারেন।

দোকানে অপ্রয়োজনীয় কাউকে বসতে দিবেন না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
আসসালামু আলইকুম হুজুর। সে অনেক আগে থেকেই খাতায় হিসাব লিখে রাখে আপনি যেভাবে বললেন সেভাবে। সেখান থেকে সারাদিনের হিসাব করে এবং অ্যাপের মাধ্যমে যেসব লেনদেন হয় সেগুলোও পরবর্তীতে প্রত্যেকদিন একটা স্ক্রিনশট নিয়ে রাখে। আপনি যেভাবে বললেন তার দোকানে কি এইসব কোরআনের আয়াত লিখে টানিয়ে রাখবো জানাবেন হুজুর
by (766,140 points)
হ্যাঁ পারবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...