আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
110 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (5 points)
আস্সালামুআলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বার-কাতুহ।
হুজুর কেমন আছেন।
হুজুর আমার কেনায়া তালাক এর ব্যাপারে কোনো ধারণা ছিলোনা। কেনায়া তালাকের ব্যাপারে জানার পর থেকে কয়েকটি বিষয় নিয়ে চিন্তিত আছি সেগুলো পরিস্থিতিসহ পয়েন্ট আকারে লিখতেছি।

১.আমার স্ত্রীর সাথে আমার মনোমালিন্য চলতেছিলো সে আমার শশুর বাড়িতেই ছিলো। তো একদিন ফোন কলে আমি তাকে উচ্চস্বরে রেগে বলেছিলাম "আল্লাহর কসম করে বলতেছি(কসম একাধিক বার কাটা হয়েছিল) আমি যদি কখনো বুঝি বা শুনি তোমার কোনো কথার দ্বারা তোমার পরিবারে আমার পরিবার অসম্মানিত হয়েছে তাহলে কিন্তু খুব খারাপ হয়ে যাবে।"
এখানে খুব খারাপ হয়ে যাবে বলতে আমি তাকে তালাক দিয়ে দিবো এই নিয়ত ছিলো। এর দ্বারা কি কোনো তালাক পতিত হয়েছে অথবা শর্তযুক্ত তালাক হবে?
২. একদিন ফোন কলে কথা হচ্ছিলো আমাদের। তো একটা সময় আমি যেভাবে চাচ্ছিলাম সেভাবে আমার স্ত্রীর কাছ থেকে পাচ্ছিলাম না অতঃপর আমি বলি " এখন থেকে আমি তোমাকে কিছু বলবোনা তুমি তোমার মতো করে চলো" এটা বলার পর মনে হয় একটু বিরতি নিয়ে বলেছিলাম কিন্তু কোনো ভুল যেন না হয়। সম্ভবত এভাবে বলেছিলাম।
এইখানে আমি রেগে কথাটা বলেছিলাম কিনা আমি শিউর না তবে আমি উচ্চস্বরে বলিনি। চেয়েছিলাম সে যেন আমার এই কথার দ্বারা বুঝুক আমি তার কাছে যেভাবে চাই সেভাবে যেন সে বুঝে।
তালাকের কোনো নিয়ত ছিলনা।
৩. আমাদের ফোন কলে কথা হচ্ছিলো।আমার স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে যেতে চাইছিলো কিন্তু আমার ইচ্ছে ছিলোনা মনে হয় তাকে রাগারাগি করে অনেক কথা বলছিলাম অতঃপর আমার ইচ্ছে ছিলোনা এরপরও তাকে বলেছিলাম "তুমি চাইলে তোমার বাবার বাড়ি চলে যেতে পারো (মনে হয় এক এর অধিক বার এভাবে বলেছিলাম) পরে একটু গ্যাপ দিয়ে বলেছি কিন্তু পরে আপসোস করিওনা"। এখানে শুরুতে আমার তালাকের নিয়ত ছিলোনা আমার মনে মনে ছিলো সে যদি যায় তাকে আমি এতো সহজে আনবোনা একটা সময় সে বুঝবে আমি কেন তাকে আনতেছিনা সে আসার জন্য চাইবে তারপর আবার আমার মনে তালাকের চিন্তাও এসেছিলো মানে তালাকের দিকেও যাবো এরকমন।
৪. একদিন ফোনে কথা হচ্ছিল আমি তাকে বলেছিলাম " আমি আমার জীবনটা জাহান্নাম করতে চাইনা তুমি অবসর হয়ে আমাকে কল দাও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো" মানে আমি তালাকের সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারটা মনে মনে ভাবছিলাম। পরিস্থিতি তখন রাগের ছিলো কিনা আমি সঠিক বলতে পারবো না তবে উচ্চস্বরে বলিনি এটা। আগের রাতে তার সাথে আমার কথাতে একটু ঝামেলা হইছিলো এছাড়াও তার সাথে আমার মনোমালিন্য যাচ্ছিলো সেগুলোর প্রেহ্মিতে সকালে আমি তাকে এটা বলেছিলাম।
৫. ফোন কলে কথা হচ্ছিলো আমাদের কোনো একটা বিষয় নিয়ে তাকে বলতে বলেছি এবং পরে বলেছি "এটা বলো এটার উপর ভিত্তি করে আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিবো" মানে তাকে তালাকের সিদ্ধান্ত নিবো এটা বুঝাইছি।
৬. সে গর্ভবতী তো তার ওষুধ লাগবে সে আমাকে জানায়নি। তার জন্য ওষুধ আমার শশুর এনেছিলো। কিন্তু যেহেতু সে আমার স্ত্রী তাহলে তার ওষুধ লাগবে সে দ্বায়িত্ব আমার। অতঃপর আমি তাকে বলেছিলাম "এখন থেকে তোমার বিষয় গুলো তুমি দেখবা" যেহেতু তখন আমি কেনায়া বাক্য সম্পর্কে অবগত ছিলাম তাই আমার মুখ দিয়ে যখন এটা বলতেছিলাম তখন মনের মধ্যে ভয় কাজ করছিলো এর দ্বারা কি আমার স্ত্রী তালাক হয়ে গেছে কিনা। কিন্তু তালাক দেয়ার ইচ্ছে আমার মনে ছিলো না তখন। সে পরিস্থিতিকে রাগের পরিস্থিতি বলা যায় কিনা আমি সঠিক বলতে পারবো না আমি উচ্চস্বরে বলিনি। মনে করেন যে স্ত্রীর উপর মন খারাপ করেই বলেছি তাহলে কি সেটা রাগ করে বলাটা গন্য হবে?
৭. আমার স্ত্রী ৩ মাসের উপরে আমার শশুর বাড়িতে। কিছু মনোমানিলন্য থাকার কারণে তাকে এখনো আনতে পারছিনা। তো অনেকদিন আগে ফোন কলে কথা হচ্ছিলো আমাদের আমি তাকে সম্ভবত এভাবে বলেছিলাম "তোমাকে আমি এতো সহজে আনবো না কয়েকজন মিলে বসবো তারপর যে রায় হয় সে অনুযায়ী হবে" কথাটা বলার শুরুতে আমার তালাকের বিষয় মাথায় আসেনি পরে মনে এটা চলে আসছে  যে যদি কয়েকজন মিলে বসে তালাকের ব্যাপারটা আসে তাহলে আমি তালাক দিয়ে দিবো।পরিস্থিতি তখন রাগান্বিত ছিলো কিনা বুঝতেছিনা তবে রাগের পরিস্থিতিও হতে পারে।এর দ্বারা কি তালাক পতিত হবে?
৮. এরপর অন্য একদিন অথবা ৭ নং পয়েন্টের বাক্যটি বলার আগে অথবা পরে হতে পারে। সঠিকভাবে মনে করতে পারছিনা কোন সময়টাতে।তবে বলেছিলাম "তুমি তোমার মতো থাকো আমিও আমার মতো থাকি" এই কথাটাও যখন বলতেছিলাম তখনও মনে মনে ভয় পাচ্ছিলাম যে এই কথা বলার দ্বারা আমার স্ত্রী তালাক হয়ে গেছে কিনা? কিন্তু তালাক দেয়ার ইচ্ছে আমার ছিলোনা তখন।

হুজুর উক্ত ঘটনাগুলোতে আমি সরাসরি তালাক বা ছেড়ে দিলাম শব্দগুলো ব্যবহার করিনি।
হুজুর আসলে আগের কথাতো তাই সুস্পষ্ট ভাবে আপনাকে বলতে পারিনি সেজন্য আমি দুঃখিত তবে চেষ্টা করেছি যতটুকু স্পষ্ট করা যায়।

অনুগ্রহ করে আমার ঘটনা গুলো নিয়ত ও পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে আমাকে উত্তর জানানোর জন্য অনুরোধ করছি।

জাযাকুমুল্লহু খইরন।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

ওয়াসওয়াসা হল এমন এক মানসিক রোগ যা একজন মুসলিমকে বিভ্রান্ত করার জন্য শয়তানের পক্ষ থেকে মনে আসা  কুমন্ত্রনার ফাঁদ। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখন কম নয়।  কিন্তু এই রোগ সম্পর্কে ধারনা বা ইলমে জ্ঞান না থাকার ফলে একজন সাধারন ব্যক্তি ধীরে ধীরে মানসিক রোগীতে পরিণত করতে পারে। কারণ শুরুতেই যদি এর চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি বাড়তে থাকে।

আমরা আমাদের বিগত সহস্রাধিক প্রশ্ন রিসার্চ করে দেখেছি যে ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি বিভিন্ন মাসলা মাসায়েল বা ফতোয়ার প্রশ্নের উত্তর ঘাটাঘাটি করে আরও বেশি ওয়াসওয়াসাতে আক্রান্ত হয়ে যায়। এবং প্রশ্নের উত্তর হল একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের রোগ বৃদ্ধির খোরাক। এবং একটা প্রশ্ন উত্তর পাওয়ার পর একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমাগত একই প্রশ্ন বারবার ঘুরিয়ে পেচিয়ে শতাধিকবার করতে থাকেন।  যেটা উনাকে বরং ক্রমাগত অধিকতরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। 

বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে নিচের দেওয়া বাধ্যতামূলক সুস্থ হওয়ার কোর্সটি কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়া হবে না । 

এবং আমরা আশা করছি এবং আল্লাহর উপরে ভরসা রেখে বলছি যারা নিচের এই কোর্সটি করবেন ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবেন। 

আর কোর্সের ভিতরে একটা অংশে আমাদের মুফতি সাহেবদের সাথে সরাসরি জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে প্রশ্ন-উত্তরের ব্যবস্থা থাকবে। 

আল্লাহ আমাদের সমস্ত শারীরিক ও মানসিক রোগ থেকে হেফাজত করুন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (5 points)
হুজুর আপনাদের কোর্সটা লিংকে ডুকে পাওয়া যাচ্ছে না।
অনুগ্রহ করে জানাবেন আমার ঘটনা গুলো নিয়ে কি তালাকের আশংকা আছে?
by (770,460 points)
কোর্স সংক্রান্ত জানতে আইওএম এর হট লাইনে ফোন দিতে পারেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...