আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
81 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম

আমার কাছ থেকে একজন বোন জানতে চেয়েছেন, উনার প্রায় ৪ মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় উনার চাচাতো ভাইয়ের সাথে। উনার চাচাতো ভাইয়ের পরিবারের সাথে বোনটির পরিবার কথা বলেছে বিয়ের সম্পর্কে। কাজী এবং পাত্র, বোনটির বাবা, মা ও প্রাপ্ত বয়স্ক ভাই বিয়ের দিনে উপস্থিত ছিলেন। বোনটির পরিবার বোনটিকে জোর করে বিয়েতে রাজি করায়। বিয়ের দিন বোনটিকে এক রুমে আর কাজী ও পাত্র উনাদের অন্য রুমে বসানো হয়। ওই বোন কাজীর কোনো কথা শুনেন নি। ছেলের কবুল বলাও শুনেন নি। ওই ফাকে বোনটি ওয়াশরুমে অজু করতে যায়। ওয়াশরুম থেকে এসে শুনে বিয়ে হয়ে গেছে উনাদের। বোনটির বাবা তখন বলেন যে উনি কবুল বলে দিছেন তাই বিয়ে হয়ে গেছে। বোনটি তখনই উনার বাবাকে বলেছেন এই বিয়ে কিভাবে হলো আমিতো কিছু শুনলামও না, কিছু বললামও না। এই বিয়ে হয়নি বলে বোন মতামত দেয়। এখনও প্রায় ৫ মাস চলে যাওয়ার পরও বোনটি সবসময় বলে এই বিয়ে শুদ্ধ হয়নি। উনি উনার স্বামীর প্রতি কোনো মায়া মোহাব্বত টান অনুভব করেন না। উনার স্বামীর সাথে থাকতেও চান না। উনার কাছে মনে হয় যে বিয়ে হয়নি কারণ উনি কাজীর কথা কিছুই শুনেন নি এবং উনিও কিছু বলেন নি। যা বলার উনার বাবা বলেছেন। কাবিন বা মোহরানা ধার্য করা হয়নি, রেজিষ্ট্রি হয়নি। শুধু আকদ হয়েছে বোনটি বললো। ওই বোনের পরিবার জোর করছে তার স্বামীর সাথে থাকার জন্য, কিন্তু এই বোনের মন কোনোভাবেই সায় দিচ্ছে না এবং সে সংসারে যাচ্ছে না। উনাদের বিয়ে কি শরিয়ত সম্মতভাবে হয়েছে?


আর যদি বোনটির সাথে তার বাবার এমন কথা না হয়ে থাকে যে সে তার বাবাকে প্রতিনিধিত্ব দিয়েছে কবুল বলার তাহলে বিয়ে হবে কিনা? আর যদি প্রতিনিধিত্ব দিয়ে থাকে তাহলেও এর পরিণাম কি শরীয়ত অনুসারে?

বি:দ্র: বোনটি তালাকপ্রাপ্তা, এইটা উনার দ্বিতীয় বিয়ে ছিলো।

1 Answer

0 votes
by (805,290 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
শরীয়তে যেসব ক্ষেত্রে লেনদেন বৈধ হওয়ার জন্য সাক্ষ্যকে শর্ত করা হয়েছে,সেক্ষেত্রে সাক্ষীগণের একসাথে সবার শোনা শর্ত।
আল্লামা হাসক্বফী রা বলেনঃ 
(وَ) شُرِطَ (حُضُورُ) شَاهِدَيْنِ(حُرَّيْنِ) أَوْ حُرٌّ وَحُرَّتَيْن (مُكَلَّفَيْنِ سَامِعَيْنِ قَوْلَهُمَا مَعًا)
 দুজন স্বাধীন পুরুষ অথবা একজন স্বাধীন পুরুষ ও দুজন স্বাধীন মহিলা সাক্ষী হিসেবে  উপস্থিত থাকতে হবে,যারা শরীয়তের বিধি-বিধান পালনে দায়বদ্ধ থাকবে,এবং একসাথে উভয় (স্বামী-স্ত্রী) র ইজাব-কবুল শ্রবণ করবে।(আদ্দুরুল মুখতার-৩/২২)

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে বর্ণিত আছে....
(ومنها) سماع الشاهدين كلامهما معا هكذا في فتح القدير فلا ينعقد بشهادة نائمين إذا لم يسمعا كلام العاقدين، 
দুনু সাক্ষীকে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ইজাব-কবুল শুনতে হবে,(ফাতহুল ক্বাদীর)সুতরাং না শুনার ধরুণ ঘুমন্ত ব্যক্তির সাক্ষ্য দ্বারা বিবাহ সংগঠিত হবে না।(১/২৬৮;)

যেমন ইবনে আবেদীন শামী রাহ এ সম্পর্কে বলেনঃ 
(قَوْلُهُ: وَشُرِطَ حُضُورُ شَاهِدَيْنِ) أَيْ يَشْهَدَانِ عَلَى الْعَقْدِ، أَمَّا الشَّهَادَةُ عَلَى التَّوْكِيلِ بِالنِّكَاحِ فَلَيْسَتْ بِشَرْطٍ لِصِحَّتِهِ كَمَا قَدَّمْنَاهُ عَنْ الْبَحْرِ،
দুজন সাক্ষী মজলিসে উপস্থিত থাকা শর্ত।
অর্থাৎ যারা মজলিসে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে সরাসরি প্রত্যক্ষ করবে।বিবাহের উকিল নিযুক্ত করণের সময় সাক্ষী উপস্থিত থাকা শর্ত নয়।(রদ্দুল মুহতার-৩/২১;) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/2679

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
কনে যদি কবুল না বলে, বরং কনের বাবার কনের অনুমতি ব্যতিত কবুল করে, তাহলে বিবাহ শুদ্ধ হবে না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...