আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
74 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (4 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম
আমার কাছ থেকে একজন বোন জানতে চেয়েছেন, উনার প্রায় ৪ মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় উনার চাচাতো ভাইয়ের সাথে। উনার চাচাতো ভাইয়ের পরিবারের সাথে বোনটির পরিবার কথা বলেছে বিয়ের সম্পর্কে। কাজী এবং পাত্র, বোনটির বাবা, মা ও প্রাপ্ত বয়স্ক ভাই বিয়ের দিনে উপস্থিত ছিলেন। বোনটির পরিবার বোনটিকে জোর করে বিয়েতে রাজি করায়। বিয়ের দিন বোনটিকে এক রুমে আর কাজী ও পাত্র উনাদের অন্য রুমে বসানো হয়। ওই বোন কাজীর কোনো কথা শুনেন নি। ছেলের কবুল বলাও শুনেন নি। ওই ফাকে বোনটি ওয়াশরুমে অজু করতে যায়। ওয়াশরুম থেকে এসে শুনে বিয়ে হয়ে গেছে উনাদের। বোনটির বাবা তখন বলেন যে উনি কবুল বলে দিছেন তাই বিয়ে হয়ে গেছে। বোনটি তখনই উনার বাবাকে বলেছেন এই বিয়ে কিভাবে হলো আমিতো কিছু শুনলামও না, কিছু বললামও না। এই বিয়ে হয়নি বলে বোন মতামত দেয়। এখনও প্রায় ৫ মাস চলে যাওয়ার পরও বোনটি সবসময় বলে এই বিয়ে শুদ্ধ হয়নি। উনি উনার স্বামীর প্রতি কোনো মায়া মোহাব্বত টান অনুভব করেন না। উনার স্বামীর সাথে থাকতেও চান না। উনার কাছে মনে হয় যে বিয়ে হয়নি কারণ উনি কাজীর কথা কিছুই শুনেন নি এবং উনিও কিছু বলেন নি। যা বলার উনার বাবা বলেছেন। কাবিন বা মোহরানা ধার্য করা হয়নি, রেজিষ্ট্রি হয়নি। শুধু আকদ হয়েছে বোনটি বললো। ওই বোনের পরিবার জোর করছে তার স্বামীর সাথে থাকার জন্য, কিন্তু এই বোনের মন কোনোভাবেই সায় দিচ্ছে না এবং সে সংসারে যাচ্ছে না। উনাদের বিয়ে কি শরিয়ত সম্মতভাবে হয়েছে?

 আর যদি বোনটির সাথে তার বাবার এমন কথা না হয়ে থাকে যে সে তার বাবাকে প্রতিনিধিত্ব দিয়েছে কবুল বলার তাহলে বিয়ে হবে কিনা? আর যদি প্রতিনিধিত্ব দিয়ে থাকে তাহলেও এর পরিণাম কি শরীয়ত অনুসারে?

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হবার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যথা-
বর ও কনেকে কিংবা তাদের প্রতিনিধিকে ইজাব তথা প্রস্তাবনা ও কবুল বলতে হয়।

উক্ত ইজাব ও কবুলটি বলতে হয় দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক মসলিম পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার সামনে।

قوله صلى الله عليه وسلم : ( لا نكاح إلا بولي وشاهدي عدل ) رواه البيهقي من حديث عمران وعائشة ، وصححه الألباني في صحيح الجامع (7557) 
বিয়ের আকদের সময় সাক্ষী রাখতে হবে। রাসুলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “অভিভাবক ও দুইজন সাক্ষী ছাড়া কোন বিবাহ নেই।” [তাবারানী কর্তৃক সংকলিত, সহীহ জামে (৭৫৫৮)]।

 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী- “তোমরা বিয়ের বিষয়টি ঘোষণা কর।”[মুসনাদে আহমাদ এবং সহীহ জামে গ্রন্থে হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলা হয়েছে (১০৭২)]
۔
ইজাব ও কবুলটি উভয় সাক্ষ্যি স্বকর্ণে শুনতে হবে।

উক্ত তিনটির কোন একটি শর্ত না পাওয়া গেলে ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হয় না।

উপরোক্ত তিনটি শর্ত  পাওয়া গেলে বিবাহ হবে,অন্যথায় বিবাহ হবেনা।
,
★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,    
বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হল দু’জন আযাদ প্রাপ্ত বয়স্ক বিবেকবান দুই জন মুসলিম স্বাক্ষের সামনে পাত্র/পাত্রি প্রস্তাব দিবে আর অপরপক্ষে পাত্র/পাত্রি তা কবুল করবে। আর সাক্ষিগণ উভয়ের কথা সুষ্পষ্টভাবে শুনবে। 

আরো জানুনঃ  

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নের বিবরণ মতে বোনটি থেকে জোরপূর্বক বিবাহের সম্মতি নেওয়া হয়, পাশাপাশি বোনটিকে বিবাহের জন্যই  বসানো হয়, এমতাবস্থায় তার বাবা যদি ওই বোনটির পক্ষ থেকে পাত্রকে বিবাহের প্রস্তাব পেশ করে, আর পাত্র যদি দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সাক্ষীকে সামনে কবুল করে থাকে সেক্ষেত্রে উক্ত বিবাহ হয়ে যাবে।

এটি নিয়ে সন্দেহ করার সুযোগ নেই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...