আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
56 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (4 points)
২০২৩ সালে আমার বয়স ছিলো ১৮। তখন আমার এক পরিচিত ভাই আমাকে প্রায় ম্যাসেজ করত, তো আমি একদিন তাকে বলি আমি এভাবে ম্যাসেজ করাকে সমর্থন করিনা। ভাই আপনি যদি আর ম্যাসেজ না দেন ভালো হয়। তখন ওনি বলেন আচ্ছা আমি আপনাকে জাস্ট একটা মেইল দিবো আপনি সেটা পরে আমাকে হ্যা না উত্তর জানালে আমি আর আপনাকে বিরক্ত করবোনা ইন শা আল্লাহ।

তারপর তিনি দুদিন পর মেইল দিলে দেখি তিনি বলেছেন আমি আপনার বাসায় প্রস্তাব দিতে চাই, যদি আপনি পারমিশন দেন আমি এক বছর শুধু মাত্র আপনার মাঝে মাঝে খোঁজ নিবো তারপর প্রস্তাব দিবো। আর এই একবছরের মধ্যে আমি আমার পরিবার পরিস্থিতি সব গুছাব। আপনি কি রাজি আছেন?

তো আমি কোনো রিপ্লাই দেইনি শুরুতে এরপর ওনি অনবরত নক করতে থাকেন। আমি নিজের দোষ স্বীকার করছি, আমার কাছে তখন মনে হয়েছিল প্রেম তো করতে চায়নি বিয়ের প্রস্তাব দিবে, তারপর হলে হবে নাহলে নাই৷ কিন্তু মনের ভেতর একটা খটকা ছিলো কিন্তু ওনি এত চাপ দিচ্ছিল বাধ্য হয়ে তাই হ্যাবলি। আর এটাই ছিলো আমার সবচেয়ে বড় ভুল। এরপর ওনি মাসে একবার কথা বলতে চাইলেন কিন্তু তা না করে প্রতি দিন ম্যাসেজ দিতেন যেহেতু আমিও নফসের ধোঁকায় পড়েছিলাম আমিও রিপ্লাই দিতাম কিন্তু আমি সব সময় বিষয়টা নিয়ে বিরাট একটা গিলটি ফিল করতাম এবং আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করতাম। কারণ আমি অনুভব করছিলাম এটা হারাম পর্যায়ে চলে গেছে। এরপর আমি তার সাথে কথা বলে এই সম্পর্কটাকে শেষ করতে চাই কিন্তু সে কোনো ভাবেই ছাড়বেনা। বরং সে বলছিলো আমাদের সম্পর্ক অনেক গভীরে ভালোবাসায় হয়ে গেছে তাই এটা শেষ করা যাবেনা। চলেন বিয়ে করি। কিন্তু আল্লাহ কসম তখনও তার সাথে ঠিকমতো একটা বার সামনাসামনি বসে কথাও হয়নি। শুধু মাঝে মাঝে দেখা হতো। আমি অনেক চেষ্টা পরও তাকে বুঝাতে পারিনি তারপর সে এক প্রকার ব্লাকমেইল করা শুরু করে। তোমাকে না পেলে আমি সুইসাইড করবো ইত্যাদি। আমি এক প্রকার বাধ্য হয়ে এবং নিজের গাফলতির কারণে তার এই ফাঁদে পা দেই। এরপর তিনমাস আমার কাছে সব কিছু ঠিক ঠাক লাগছিলো কিন্তু এরপর থেকে আমি লক্ষ্য করি সে তার পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী নয় একই সাথে ক্যারিয়ারের বিষয়েও সে এক্টিভ নয়। সেসারাদিন ঘুমায় আর খায় এমন টাইপ। আমি তাকে দুইটা বছর বুঝিয়েছি। তাকে দ্বীনের ব্যপারে বললে সে উদাসীনতা দেখায়, আমাকে সব সময় বলত আমি নাকি বেশি বুঝি, তারপরও আমি তাকে বুঝাতে থাকি কিন্তু সে আমাকে বার বার এটা ওটা বলে বকা বানিয়েছে। এরপর আমি টোটালি হতাশ হয়ে পাগলের মতো হয়ে যাই। আমি বুঝতে পারি যে আমি কি ভুল করেছি! আমি ইস্তেখারা করে তাকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু তখনও সরাসরি বলার সাহস পাইনি কারণ কষ্ট হলেও সংসারটা করতে চাচ্ছিলাম যেন, আল্লাহ নারাজ না হন । কিন্তু পরবর্তীতে আমি এ সিদ্ধান্ত জানালে সে কোনো ভাবেই ছাড়বেনা। তার কথা এভাবেই ছাড়া কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। তার কথা আমি তোমার বাসায় প্রস্তাব দেই এরপর বিয়ে হলে তারপর যদি আমি ভালো না হয় তখন আমাকে ছেড় একন না। আমি বললাম সেটা সম্ভব নয় তখন সে আমার কাছে চার মাস সময় চাইলো এবং বলল এই চার মাসে সে নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে পরিশুদ্ধ করবে এবং অন্তত দশ পারা হিফজ করবে, তার পরিবারকে ম্যানেজ করবে, পড়াশোনা শুরু করবে এবং বিজনেস করবে। এরপর সে আমার সামনে আসবে তারপর যদি আমার পছন্দ না হয়, সে এক বাক্যে ছেড়ে দিবে।তো আমিও আল্লাহর জন্য তাকে সুযোগ দিলাম এবং প্রায় সময়ই ইস্তেখারা করতাম। এবং নিজেকে বুঝাতাম যে ছাড়াছাড়ি ভালো জিনিস না কিন্তু আমার অন্তরে কোনো ভাবেই তাকে একসেপ্ট করতে পারছিলোনা।

যেদিন আমি তার সাথে চার মাস পর দেখা করার জন্য যাবো তার আগেও চিন্তা করছিলাম সে যদি সব শর্ত পূরণ করে আনে তাহলে তো আমার না বলার কোনো সুযোগ নেই। কারণ সে যেহেতু আমাকে ভালোবাসে। কিন্তু যখনই আমি তার সাথে দেখা করতে গেলাম তখন সে আমাকে বলল, আমার উপর আমার আব্বু আম্মুই ব্লাকম্যাজিক করেছিলো না বুঝে অনেক ছোট্ট বেলায়। এবং আমার বাসা থেকে অনেক তাবিজ পাওয়া গেছে। আমার আব্বু আম্মু অনেক আগেই তওবাহ করেছেন। আর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি আর পড়াশোনা করবোইনা। আমি হয়তো কোথাও আলিম কোর্স করবো আর হিফজ করার চেষ্টা করবো। তারপর আমি বললাম তোমার হিফজের কি খবর? বলল ওটা শুরু করেছিলাম কিন্তু কন্টিনিউ করা হয়নি। আমাদের বিয়েটা পারিবারিক ভাবে হলে তারপর যদি আমি ভালো না হয় তখন ছেড়ে দিও।

আমি বললাম তুমি একটা সর্তও ঠিক মতো পালন করোনি আমি কিভাবে তোমাকে আবারও সুযোগ দেই? তখন বলল আমি তোমাকে তালাক না দিলে তোমারো আর যাওয়ার কোনো রাস্তা নাই।

এখন আপু এই তিন বছরে সে আমার সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করছে, আবার কেয়ারিং ও করেছে কিন্তু তার দ্বীনের ব্যপারে উদাসীনতা আর আচরণআমাকে ধীরে ধীরে তার থেকে সরিয়ে দিয়েছে। আমি তাকে কোনো ভাবেই মন থেকে মানছিনা। আর একটা আল্লাহর রহমত এখানে আছে সেটা হলো আমাদের মাঝে শারিরীক সম্পর্ক হয়নি, এটা আল্লাহর হেফাজতের কারনেই। সে আমাকে অনেক বার তার সাথে সাক্ষাৎ এ ডেকেছিলো কিন্তু কখনো তার সাথে কোতাও যাইনি। মাঝে মাঝে বার বার ডাকত বাধ্য হয়ে দেখা করেছিলাম কিন্তু বেশি সময় দিতাম না। হাত ধরাধরি ছাড়া এর বেশি কিছু করার সুযোগ পায়নি কারণ আমি এ সকল বিষয়ে সর্তক ছিলাম।

বিয়ের সময় সেখানে কোনো অভিভবক ছিলোনা। শুধু মাত্র তিন জন ছেলে আর বর আর কনে ছিলো। কোনো কাজি ছিলোনা। মৌখিক ভাবে বিয়ে পড়ানো হয়েছে৷

এখন বিষয়টা পারিবারিক ভাবে আলোচনা হলেও ছেলেটা কোনো ভাবেই তালাক দিতে চাচ্ছে না এক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি? বা খোলা তালাক ভিডিও কলে নিতে পারবো কি? কিভাবে খোলা তালাক নেয়? কোর্টের মধ্যমে সম্ভব নয় কারণ মৌখিক বিয়ে হয়েছে।

1 Answer

0 votes
by (806,640 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
তালাক প্রদান করা সম্পূর্ণ স্বামীর অধীকার।হ্যা শরীয়ত কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্ত্রীকে নিজের উপর তালাক প্রদানের অনুমোদন দিয়েছে।যেমন,স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক প্রদানের অনুমতি প্রদান করলে,স্ত্রী নিজেকে তালাক দিতে পারবে।তাছাড়া স্বামী খোরপোষ না দিলে,স্ত্রী কাযী সাহেবের নিকট অভিযোগ দায়ের করতে পারবে।কিংবা স্বামী নিখোঁজ হলে বা ধ্বজভঙ্গ হলে কোর্ট বিবাহ ভঙ্গের রায় দিতে পারবে।

স্বামীর খোঁজখবর না থাকলে স্ত্রী চার বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।চার বছর অপেক্ষার পরও যদি স্বামীর কোনো খোঁজখবর না মিলে,কোর্ট স্বামীর পক্ষ্য থেকে বিবাহ ভঙ্গ করে দিবে।স্ত্রী তালাক দিতে পারবে না।তালাক দেয়ার অধীকার স্ত্রীর নেই। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/4506


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনারা যদি শরয়ী সাক্ষীর সামনে ইজাব কবুল করে থাকেন, তাহলে মৌখিক ইজাব কবুলের দ্বারা বিবাহ সংগঠিত হয়ে গেছে। এখন তালাক গ্রহণের মাধ্যম হল, হয়তো স্বামী তালাক দিবে অথবা স্ত্রী খুলা তালাকের আবেদন করবে অথবা পারিবারিক ভাবে নিষ্পত্তি হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...