আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
36 views
in সালাত(Prayer) by (19 points)
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি ফজরের পর ইশরাক সালাত আদায় করতাম এরপর ওয়াক্ত হলে চাশতের সালাত আদায় করতাম মাঝে মাঝে ১০ টার দিকে ইশরাক এবং চাশত এর সালাত এক সাথে দুই রাকাত দুই রাকাত করে আদায় করতাম যদি সকালে কোন কারণে আদায় করতে না পারতাম এরপর জোহরের আগে জাওয়ালের ৪ রাকাত এবং মাগরিবের পর ২ রাকাত আওয়াবীনের সালাত আদায় করতাম কিন্তু আজকে উস্তাদ Naseel Shahrukh এর ইশরাক,চাশত সালাত নিয়ে ভিডিও দেখে আমি কনফিউজড হয়ে গেছি উস্তাদ বলেছেন ইশরাক চাশত একই সালাত যদি ফজরের সূর্যাস্তের আদায় করা  হয় তাহলে তা ইশরাক এরপরে আদায় করলে তা চাশত আবার বললেন মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করলে ১২:২০ থেকে ১২:৪৫ এর সময়ে তা আওয়াবীন সালাত কিন্তু আওয়াবীন সালাত তো মাগরীবের পর আদায় করে সেটাই জানতাম আবার বললেন দিনের শুরুতে ৪ রাকাত সালাতের ফজিলত কিন্তু এই ৪ রাকাত সালাত কি জাওয়ালের সালাতের কথা বুঝালেন নাকি সকালে ফজরের পর ৪ রাকাত আদায় করতে বললেন সময়টা বুঝতে পারচ্ছি না। উস্তাদ ভিডিও লিঙ্ক: https://youtu.be/tVS_LK58S-8?si=q6tfb7qGgYJ459_5
আমার প্রশ্ন হচ্ছে: ১.যদি ইশরাক এবং চাশত একই সালাত হয় শুধু সময়ের ভিন্নতা কারণে নাম ভিন্ন তাহলে কেউ যদি সকালে ইশরাক আদায় করে তার কি আর চাশত আদায় করার প্রয়োজন নেই ৯/১০ টার দিকে ?

২. যদি কেউ সকালে ইশরাক আদায় না করে তাহলে ৯/১০ টার দিকে সে কি শুধু চাশতের সালাতের নিয়তে ২ রাকাত আদায় কলবে তার কি ইশরাক আদায় করার প্রয়োজন নেই আর?

৩. উস্তাদ যে দিনের শুরুতে ৪ রাকাত সালাতের কথ বললেন সেটা কি জাওয়ালের সালাত?

৪. যদি উস্তাদের উল্লিখিত সালাতটি জাওয়ালের সালাত না হয় তবে উক্ত ৪ রাকাত সালাত কখন আদায় করতে হবে?

৫. উস্তাদ বললেন ১২:২০-১২:৪৫ আওয়াবীনের সালাত উক্ত সময়ে জোহরের আগে কি জাওয়ালের সালাতের নিয়তে সালাত আদায় করবো নাকি আওয়ামী?

৬. জাওয়ালের সালাতের শেষ সময় কতক্ষণ থাকে? জোহরের শেষ সময় পর্যন্ত নাকি এর আগেই শেষ হয়ে যায়?

৭. মাগরিবের পর কি আওয়াবীনের সালাতের নিয়তেই সালাত আদায় করবো?

৮. তারাবীর সালাতে অনেকে বলে তারাবীর দুআ আছে তারাবীর মোনাজাত আছে সেগুলো পাঠ করতে হয় এগুলো কি সহিহ? নাকি নরমাল নফল সালাতের মতো তারাবীর সুন্নত সালাত এই নিয়তে সালাত আদায় করবো?

৯. আমার দ্বারা যাদের হক নষ্ট হয়েছে, যাদের মনে আমি কষ্ট দিয়েছি, যাদের নামে গীবত করেছি তাদের জন্য যদি সদাকা করি তাদের কথা মনে করে বিনা সওয়াবে যেন এই সদাকার উসিলায় হাশরের ময়দানে তারা আমাকে ক্ষমা করে দেন এটা কি সহিহ হবে? আমি জিকির আজকার করেও তাদের কে এইভাবে ঈসালে সওয়াব করি এটাই কি সঠিক হচ্ছে?

1 Answer

0 votes
by (766,410 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
ইশরাক ও দোহা তথা চাশতের সালাত ভিন্ন,এ মতটাই আমাদের নিকটে অধিক গ্রহনযোগ্য।   
কেননা উভয় নামাজকে নিয়ে স্বয়ংসম্পুর্ন হাদীস এসেছে।
,
ইশরাক নামাজের হাদীসঃ
হাদিস শরিফে এসেছে   

হযরত আনাস রাযি থেকে বর্ণিত,
عن أنس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من صلى الغداة في جماعة ثم قعد يذكر الله حتى تطلع الشمس، ثم صلى ركعتين كانت له كأجر حجة وعمرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: تامة تامة تامة.(هذا حديث حسن غريب)

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের নামায পড়বে,অতঃপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত থাকবে,তারপর দু'রাকাত নামায পড়বে,তাহলে সে একটি হজ্ব ও একটি উমরার সওয়াব পাবে।এরপর তিনি তাকিদ করে বলেন,হ্যা পূর্ণ হজ্ব ও উমরার সওয়াব সে পাবে।(সুনানু তিরমিযি-৫৮৬)

অন্যত্রে এসেছে

عن نعیم بن عمارۃ رضي اللّٰہ عنہ قال: سمعت رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم یقول: یقول اللّٰہ عزوجل یا ابن اٰدم لا تعجزني من أربع رکعات في أول نہارک أکفاک أخرہ۔ (سنن أبي داؤد ۱؍۱۸۳)

যার সারমর্ম হলো দিনের শুরুতে ৪ রাকাত নামাজ পড়তে তুমি যেনো অপারগ না হও,,,

দোহার নামাজ সংক্রান্ত হাদীস শরীফে আলাদা ভাবে ইরশাদ হয়েছেঃ

হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি থেকে বর্ণিত,
عن أنس بن مالك، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من صلى الضحى ثنتي عشرة ركعة بنى الله له قصرا من ذهب في الجنة.
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,যে ব্যক্তি চাশতের ১২রা'কাত নামায পড়বে,আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে স্বর্ণের একটি প্রসাদ নির্মাণ করে দেবেন।(সুনানু তিরমিযি-৪৭৩)
,
★তবে যেহেতু এখানে ইসলামী স্কলারগন মতবিরোধ করেছেন,সুতরাং তাদের মতানুসারী গন সেই মত অনুযায়ী আমল করতে পারবেন। 
কোনো সমস্যা নেই।              

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ইশরাকের নামাজ আদায়ের পাশাপাশি সময় সুযোগ পেলে চাশতের নামাজও আদায় করার পরামর্শ থাকবে। 

(০২)
এক্ষেত্রে চাশতের নামাজ আদায় হবে। ইশরাকের নামাজ নয়।

(৩-৪)
সম্ভবত এর দ্বারা তিনি যাওয়াল বা চাশতের নামাজ উদ্দেশ্য নিয়েছেন।

(০৫)
এক্ষেত্রে যাওয়ালের নামাজ আদায় করতে পারবেন।

(০৬)
এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 
মাগরিবের ফরজ ও সুন্নাত আদায়ের পর আওয়াবীনের সালাতের নিয়তে কমপক্ষে ৬ রাকাত সালাত আদায় করবেন।

(০৮)
এই দোয়া গুলি পাঠ করা আবশ্যক নয়। 
দোয়াগুলির সাথে তারাবিহ নামাজের সংশ্লিষ্টতা নেই।

দোয়া পাঠ না করলেও তারাবিহ নামাজ আদায় হয়ে যাবে।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

তারাবিহ নামাজে দোয়া পড়ার বিধান জানুনঃ- 

(০৯)
এক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো তাদের থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। 

যদি তাদের থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া অসম্ভব হয়, তাহলে আল্লাহর কাছে নিজের জন্য ও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 223 views
...