আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
59 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (6 points)
আসসালামু আলাইকুম। আমি বিগত ৫/৬ বছর ধরে ইস্তিহাযার সমস্যায় ভুগছি। তিন চার বছর হল লাগাতার ব্লিডিং হয়।কখনো কম, কখনো বেশি।আমি আসলে বুঝতে পারি নাহ কোনটা হায়েজ আর কোনটা ইস্তিহাযা। যখন থেকে এই সমস্যা শুরু হলো তখন থেকেই একেক সময় একেক ব্যপ্তিতে হতো যেমন- কখনো সাত দিন, কখনো দশ দিন, কখনো পনের দিন, কখনো এক মাস, কখনো দুই মাস, কখনো তিন মাস এমনকি ছয় মাস।তাই লাষ্ট অভ্যাস আমার মনে নেই । আর এখন তো লাগাতার ব্লিডিং হতেই থাকে। তো আমি সাধারণত  প্রতিমাসের ১ তারিখ থেকে নিজ থেকে ১০ দিন ছুটি নিই।জানুরারি মাসে আমি ছুটি নিতে ভুলে গিয়েছিলাম। তাছাড়া হাসপাতালে রোগীর সাথে এটেনডেন্ট হিসেবে ছিলাম আর তখনই হঠাৎ মনে পড়ে যে এই মাসে ছুটি নেওয়া হয় নি,পরে সুবিধা হবে ভেবে  হাসপাতালে থাকাকালীন ১০ দিন সময়  ছুটি নিয়ে নিয়েছিলাম যেটা জানুয়ারি মাসের মাঝের দশ দিন ছিল। এইভাবে ছুটি নেওয়া টা কি ঠিক হয়েছে? আর এখন রোজার মাসে আমি কখন ছুটি নিব বুঝতে পারছিনা।রমাদানের শুরুতে ছুটি নেইনি  ভেবেছিলাম রোজার মাসে ছুটিই নিব না কেননা দশ দিন চলে গেলে কোরআন খতম দেওয়া কষ্ট হয়ে যাবে । কিন্তু এটাও কি ঠিক হবে? আমি আসলে অনেক কনফিউশনে থাকি।বলে রাখা ভালো যে আমার সিহরের সমস্যা আছে যেটা থেকে ইস্তিহাযার জন্ম। জীবনের প্রথম দিকে যখন হায়েজ নিয়মিত ছিল, তখন ৫ দিন হতো এই টুকু মনে আছে। আর এইভাবে ১০ দিন ছুটি নেওয়া টা কি মাসয়ালা অনুযায়ী সঠিক হয়েছে?

1 Answer

0 votes
by (770,280 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
  
عَنْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «طَلَبُ كَسْبِ الْحَلَالِ فَرِيضَةٌ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ». 

 ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অন্যান্য ফরয কাজ আদায়ের সাথে হালাল রুযী-রোজগারের ব্যবস্থা গ্রহণ করাও একটি ফরয। 
(শু‘আবুল ঈমান ৮৩৬৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১১৬৯৫,মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭৮১)
,
শরীয়তের বিধান মতে ছুটির দিন গুলো কাজের দিনের হুকুমেই।
তাই সেই দিন গুলোর বেতন গ্রহন নাজায়েজ নয়। 
তবে অসুস্থতা এবং এবং নিজ প্রয়োজনীয় ছুটির দিন গুলোর বেতনের বিষয় টি উক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়মের উপর নির্ভর করবে।
যদি উক্ত প্রতিষ্ঠানের এই জাতীয় কোনো নিয়ম না থাকে,তাহলে সমাজে,অন্যান্য জায়গায় এটা কিভাবে হয় বলে প্রসিদ্ধ আছে,সেই অনুযায়ী আমল হবে।
অন্যান্য জায়গায় যদি বেতন দেওয়া প্রসিদ্ধ হয়,তাহলে বেতন দিবে,অন্যথায় নয়।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়্যাহ ৬/৩৫১)
,
জামিয়া বিন নুরি পাকিস্তানের 143908200686 নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছে যে মালিক যদি খুশি মনে ইহসান করে তাকে বেতন দেয়,তাহলে তা নেওয়া জায়েয আছে। 
,
قال العلامۃ ابن نجیم المصریؒ: ومنھا البطالۃ فی المدارس کایّام الاعیاد ویوم عاشوراء وشھر رمضان فی درس الفقہ لم ارھا صریحۃ فی کلامہم والمسئلۃ فیہ علٰی وجہین فان کانت مشروطۃ لم یسقط من المعلوم شیٔ والاَّ فینغی ان یلحق ببطالۃ القاضی و قد احتذو فی اخذا القاضی مارتب من بیت المال فی یوم بطالتہ۔ (الاشباہ والنظائر:ص؍۹۵)
সারমর্মঃ এই দিন গুলোর বেতন যদি শর্ত যুক্ত হয়,তাহলে তাহা দিতে হবে। 

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
এভাবে প্রতি মাসে ১০ দিন করে ছুটি নেওয়ার ব্যাপারে বিষয়টি যদি উক্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত বিধান হয়ে থাকে এবং এতে যদি তাদের পক্ষ থেকে সম্মতি থাকে, তাহলে এভাবে ছুটি নেওয়া যাবে।

নতুবা এভাবে মাসের এক তৃতীয়াংশ ছুটি নেওয়া ঠিক হবে না।

মাসের প্রথম দশ দিনের ছুটি নিতে পারেননি,বিধায় তার পর ১০ দিন বিনা ওযরে ছুটি নিতে হবে,এটি মেনে নেয়ার মতো কথা নয়।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...