আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
48 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম। আমার মা মানসিক ভাবে অসুস্থ,চিকিৎসা চলছে উনার।।উনাকে দেখাশোনা আমিই করে থাকি।আমার বাবা মারা গেছেন ১৫ বছর আগে।।আমরা ভাইয়ের বাসায় থাকি।এখন তার মেইন সমস্যা দুইটি,

১)আম্মু সারাদিন ভাবীকে নিয়ে কথা বলতে থাকে,গীবত ও করে,নামাজ পড়তে পারেনা একদম ই মনোযোগ দিয়ে।।ভাবীর কিছু সমস্যা আসলেই আছে কিন্তু সেগুলো আমাদের দেখে কোন লাভ নাই।কারন ভাবীকে আমরা কিছু বলতে পারবোনা,ভাইয়াও সহ্য করে,আমরা আসলে উনার সাথে পারবোনা।।আমি তাই নিজের ঘরে থাকি, কাজের সময় কাজ করি,উনার কিচ্ছু দেখতে যাইনা,কিন্তু আম্মু সারাদিন নজরে নজরে রাখে এবং আমাকে সকল তথ্য এসে জানায় কিভাবে কি করছে,এগুলো আমাকে অনেক কষ্ট দেয়,এখন আম্মু যখন কথা বলবে তখন আমি যদি ইয়ারফোন লাগিয়ে রাখি উনার কথা না শোনার জন্য এটা কি গুনাহ হবে??আমি আসলে আর পারছিনা,নিজেরও বিয়ে হচ্ছেনা, আবার মায়ের জন্য বাইরে চাকরি না করে ঘরে থাকি যেহেতু উনাকে দেখার আর কেউ নেই।আমি যদি বলি আম্মু আমি শুনতে চাচ্ছিনা,শুনতে চাচ্ছিনা এভাবে কয়েকবার বলে যদি তাকে থামিয়ে দেই গুনাহগার হবো?

২)উনার আগে পুরোনো জিনিসপত্র, কাপড় জমানোর স্বভাব ছিলো।এখন সারাদিন মিনিংলেস কথা বলতে থাকে,এগুলা কি করলাম,কাপড় কেন জমাইলাম,ফেলতে পারিনা,এখানে এত ময়লা, ওইখানে এত ময়লা,মানুষ দেখলে কি বলবে,,আমাকে ও(আমার ভাবী) পুলিশে ধরায় দিবে,সাংবাদিক নিয়ে এসে সব দেখাবে,সবাই আমারে খারাপ বলবে,এখানে সিসি ক্যামেরা লাগায় রাখছে,সবাইরে দেখাইতেছে আমি কি করি।। ওর(আমার ভাবী) ভাইরা অনেক বড় জায়গায় আছে,,আমার কী হবে।।আমার ছেলেমেয়েদের কোন সুখ নাই,আমার মেয়েরা সারাদিন কাজ করে etc etc.উনি সারা রাত ও কথা বলতে থাকে,তাই ঘুমানোর আগে আমার বলতে হয় আম্মু তুমি থামো আমি ঘুমাতে চাই।

আমার বড় ভাইবোন সবার বিয়ে হয়ে গেছে।সবাই আম্মুকে অনেক বুঝাই,একটুও লাভ হয়নি, একটুও না,তিনি মাথায় আমাদের কথা প্রোসেস ও করেনা,উনি শুধু নিজের মিনিংলেস কথা বলেই যায়,আমরা যতই বুঝাই লাভ নেই।।এখন যদি এমন অবস্থায় আমি আমার মায়ের যতটুকু সম্ভব যত্ন নেই এবং তার কথার জবাব না দেই,মনোযোগ দিয়ে না শুনি তাতে কি গুনাহগার হবো?? আমরা কথা শোনা না শোনাতে কিছু যায় আসে না উনি উনার মত বলতেই থাকে।।আমি তার প্রশ্নের জবাব দিলাম কিন্তু এসকল কথা যে আমাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে,মানুষ আমাকে দেখলে কি বলবে, আমি বাতিল হয়ে গেছি এসব কথার যদি জবাব না দেই গুনাহ হবে? আমি আগে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করতাম কিন্তু উনি এগুলো বলতেই থাকে।আমি আগে জবাব দিতাম কারন মাকে যেরকম সম্মান দিতে বলা হয়েছে তার কথার জবাব না দেওয়া,তার দিকে না তাকানো এগুলো অসম্মানের লক্ষন।।

৩)আর আমি এমন অবস্থায় যদি উঁচা গলায় বুঝাই, থামতে বলি তাহলে কি গুনাহগার হবো?? কারন হয়তো অনেক জোরে কথা বললে উনি কথা শুনতেও পারে।।

৪)আরেকটা বিষয়, আম্মুর কথার জবাব দিতে গিয়ে অনেক সময় আমাদের গীবত এবং অহংকার প্রকাশ হয়ে যায়।।যেমন ভাবীর বিষয়ে যে উনি তোমার কি করতে পারবে, তোমার ছেলেমেয়েরাও যথেষ্ট ক্যাপাবেল।। এগুলো আরো ভয় লাগে কারন এমনিতে ভাবীকে নিয়ে আমরা কোন কথা বলছিনা কিন্তু আম্মু সারাদিন এই এক বিষয় নিয়ে কথা বলতে থাকে তাকে বুঝাতে গেলে মাঝে মাঝে এমন হয়ে যায়।

এমন অবস্থায় তাকে জোরে জোরে থামতে বলে যদি থামিয়ে দেই গুনাহগার হবো?

1 Answer

0 votes
by (763,650 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ [٤٩:١٢] 

মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। {সূরা হুজুরাত-১২}

وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ [١٠٤:١] 

প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ, {সূরা হুমাজা-১}

عَنْ أَبِي سَعْدٍ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا “، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ وَكَيْفَ الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا؟ قَالَ: ” إِنَّ الرَّجُلَ لَيَزْنِي فَيَتُوبُ فَيَتُوبُ اللهُ عَلَيْهِ “وَفِي رِوَايَةِ حَمْزَةَ ” فَيَتُوبُ فَيَغْفِرُ لَهُ، وَإِنَّ صَاحِبَ الْغِيبَةِ لَا يُغْفَرُ لَهُ حَتَّى يَغْفِرَهَا لَهُ صَاحِبُهُ  

হযরত আবু সাঈস এবং জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। উভয়ে বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ গীবত করা ব্যভিচার করার চেয়েও জঘন্য। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! গীবত করা ব্যভিচারের চেয়ে জঘন্য হয় কি করে? রাসূল সাঃ বললেনঃ নিশ্চয় ব্যভিচারকারী ব্যভিচার করে তওবা করে থাকে, ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, কিন্তু গীবতকারীকে ক্ষমা করা হয় না, যতক্ষণ না যার গীবত করেছে সে তাকে ক্ষমা করে। {শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬৩১৫, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৫৯০}

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
গীবত করাও গুনাহ, গীবত শ্রবণ করাও গুনাহ।

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার কাজ ঠিক আছে,এতে আপনার গুনাহ হবেনা।

(০২)
না,গুনাহ হবেনা।

(০৩)
আপনি থামতে বললে গুনাহ হবে না।
তবে উঁচু গলায় কথা না বলার পরামর্শ থাকবে।

(০৪)
এভাবে উঁচু গলায় তার সাথে কথা বলা যাবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...