আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
64 views
in পবিত্রতা (Purity) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম। আমি গত ১৫ দিন আগে ডাক্তার দেখানোর মাধ্যমে আমি ৭ সপ্তাহের গর্ভবতী বলে জানতে পারি।তবে আমার মাসিকের ডেইট অনুযায়ী সেটা সাড়ে ৪ সপ্তাহের হওয়ার কথা।এখন গত কয়েকদিন যাবৎ আমার হালকা ব্লাড যাচ্ছিল।আনুমানিক গত ৫ দিন আগে একবার লাল খুবই অল্প স্রাব দেখতে পাই, যেটা প্যান্টির সাথে লেগে ছিল।পরে গর্ভকালীন সময়ে ব্লাড আসা খুবই সাধারণ ঘটনা ভেবে এভোয়েড করলাম।এবং তারপরে আবার ১ দিন বন্ধ ছিল।তারপরে আবারও অল্প দেখতে পাই।এবং আবার তার পরের দিন সকাল বেলায় এমনই লাল স্রাব এবং রাতে ক্লিয়ার কিছুটা ভালো পরিমান তরল রক্ত দেখতে পাই।

তো গতকাল  ৩ মার্চ পর্যন্ত  আমি রোজা ছিলাম এবং যোহর পর্যন্ত নামাজও পড়েছি।পরে ডাক্তারের কাছে গেলে সে ইমিডিয়েট রোজা ভেঙে পানি খেতে বলে ইমিডিয়েট আল্ট্রা করতে হয়।আমিও তাই করি।সেখানে বলা হয় আমার বাচ্চার থলি আছে কিন্তু ভিতরে যা ছিল বের হয়ে গিয়েছে আমাকে ইমিডিয়েট ঢাকায় পাঠায়।তো আমি ৩ মার্চ আজকেও রোজা রাখিনি গর্ভপাত ভেবে।তো আজকে আবার ঢাকায় যখন আল্ট্রা করলাম তখন ডাক্তার বললো ভীতরে এখনও বাচ্চার থলে বা স্যাক আছে তবে তার বয়স ৩/৪ সপ্তাহ।

তো যেহেতু এখনো হালকা করে ব্লিডিং হচ্ছে তাই ডাক্তার বললো ভীতরে যেটা আছে যদি ব্লাডের সাথে বের হয়ে যায় তো যাবে নাহয় দুই সপ্তাহ পর আবার টেস্ট করে এর যদি উন্নতি দেখা যায় তখন ওই অনুযায়ী ঔষধ দিবে আর যদি দুই সপ্তাহ পরেও যদি এমন থাকে মানে ব্লাডের সাথে বেরও হয়নি আর কোনো উন্নতিও হয়নি তখন উনারা এটা মেডিসিন দিয়ে বের করে ফেলবে।।

আমার প্রশ্ন হলো এটা গর্ভপাত কিনা সেটাও ডাক্তার বলে আবার নরমাল ব্লাডও বলেনি।এখন কি রোজা রাখতে পারবো না?নামাজ পড়তে পারবো না?নাকি পরতে পারবো?এক্ষেত্রে বিধান কেমন হবে?আর আমিতো নরমাল ব্লাড ভেবে নামাজ রোজা সব করেছিলাম তো ওই রোজাগুলে কাযা রাখতে হলে কয়টা রাখবো?

এতোবড় প্রশ্ন করার জন্য দুঃখিত

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

https://ifatwa.info/1570/ ফতোয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে,
যদি চার মাস বা তার চেয়ে বেশী সময়ের পর গর্ভপাত হয় তাহলে গর্ভপাত পরবর্তী নেফাস হিসেবে গণ্য হবে।আর চার মাসের পূর্বে গর্ভপাত হলে সে রক্তকে হায়েয গণ্য করা হবে যদি তা তিনদিন বা তার চেয়ে বেশী সময় অতিবাহিত হয়। আর তিনদিনের কম বা দশদিনের বেশী সময় অতিবাহিত হলে সে রক্তকে ইস্তেহাযার রক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
আহসানুল ফাতাওয়া-২/৭১

যদি চার মাস বা তার চেয়ে বেশী সময়ের পর গর্ভপাত হয় তাহলে গর্ভপাত পরবর্তী নেফাস হিসেবে গণ্য হবে।
ঐ সময়ে নামায রোযা আদায় করবেনা।

আর যদি চার মাসের আগেই গর্ভপাত হয়, তাহলে তিন দিন বা তার চেয়ে বেশি দিন অতিবাহিত হলে হায়েজ ধরে নামাজ রোযা আদায় করবেনা।
যদি তিন দিনের কম হয়,বা দশদিনের বেশিহয়,তাহলে সেটি ইস্তেহাজা তথা অসুস্থতা।
এক্ষেত্রে নামাজ রোযা আদায় করতে হবে। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
  
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ أَبُو بَدْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ أَبِي سَهْلٍ، عَنْ مُسَّةَ الأَزْدِيَّةِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كَانَتِ النُّفَسَاءُ تَجْلِسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعِينَ يَوْمًا فَكُنَّا نَطْلِي وُجُوهَنَا بِالْوَرْسِ مِنَ الْكَلَفِ

নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী (রহঃ) .... উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে নেফাস বিশিষ্ট মহিলাগণ চল্লিশ দিন সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকতেন। চেহার ফ্যাকাশে হয়ে কৃষ্ণাভ হয়ে যেত বলে আমরা তখন চেহারায় হলুদ বর্ণের ওয়ারস পত্রের প্রলেপ ব্যবহার করতাম। - ইবনু মাজাহ ৬৪৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
তিরমিজি ১৩৯)

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ الْعَطَّارُ ، أَنَا وَكِيعٌ ، ح : وَحَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، نَا الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ - جَمِيعًا - عَنِ الْأَعْمَشِ ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ ، عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - ، فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلَا أَطْهُرُ ، أَفَأَدَعُ الصَّلَاةَ ؟ فَقَالَ : " دَعِي الصَّلَاةَ أَيَّامَ أَقْرَائِكِ ، ثُمَّ اغْتَسِلِي وَصَلِّي ، وَإِنْ قَطَرَ الدَّمُ عَلَى الْحَصِيرِ "

আল-হুসাইন ইবনে ইসমাঈল (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতেমা বিনতে আবু হুবায়েশ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি রক্তপ্রদরের রোগিনী, কখনও পাক হই না, আমি কি নামায ছেড়ে দিবো? তিনি বলেন, তোমার মাসিক ঋতুর কয়দিন তুমি নামায ছেড়ে দিবে, অতঃপর গোসল করবে এবং নামায পড়বে, পাটির উপর রক্তের ফোটা পতিত হলেও। অন্যান্য রাবী ওয়াকী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন, “এবং তুমি প্রতি ওয়াক্ত নামাযের জন্য উযু করবে”।
(সুনানে দারা কুতনি ৭৯৮)

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনার এখন যদি রক্ত আসছে, সেটি নেফাস নয়।

এই রক্ত যেহেতু ৩ দিন অতিক্রম করেছে,সুতরাং এটিকে হায়েয বলে গণ্য করা হবে।

হায়েজের এ দিন গুলিতে নামাজ রোযা আদায় করা যাবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...