জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
কুরআনের অন্য যেসব ১৪টি আয়াতে সাজদা তিলাওয়াত করা হয়, সেগুলোকে সাজদার আয়াত হিসেবে নির্ধারণ করার মূল উসূল হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ এর আমল।
যেমন হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ عَلَيْنَا السُّورَةَ فِيهَا السَّجْدَةُ، فَيَسْجُدُ وَنَسْجُدُ، حَتَّى مَا يَجِدُ أَحَدُنَا مَوْضِعَ جَبْهَتِهِ.
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাদের সামনে এমন এক সূরাহ্ তিলাওয়াত করলেন, যাতে সাজদাহর আয়াত রয়েছে। তাই তিনি সাজদাহ্ করলেন এবং আমরাও সাজদাহ্ করলাম। ফলে অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, আমাদের কেউ কেউ কপাল রাখার জায়গা পাচ্ছিলেন না।
(বুখারী ১০৭৫,১০৭৬, ১০৭৯; মুসলিম ৫/২০, হাঃ ৫৭৫, আহমাদ ৪৬৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১৪)
অনেক ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামগণ বর্ণনা করেছেন যে কোথায় কোথায় সেজদা করতে হবে সে ভিত্তিতেও সেজদার আয়াত নির্ণয় করা হয়।
পাশাপাশি উম্মতের ধারাবাহিক আমলও সেজদার আয়াত হিসেবে নির্ণয় করার উসুল হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
আর এ মতবিরোধটি মূলত শুরু থেকেই আসছে।
(০২)
এখানে হানাফী ইসলামী স্কলার গণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে এখানে সেজদায়ে তেলাওয়াতের নির্দেশ নয় বরং এটি সাধারণ নামাজ আদায়ের নির্দেশ।
অর্থাৎ এখানে রুকু এবং সেজদাহ করার কথা একসাথে এসেছে, যদি এর দ্বারা তেলাওয়াতে সেজদা উদ্দেশ্য হতো সে ক্ষেত্রে রুকুর কথা এখানে আসলো কিভাবে?
সুতরাং বুঝা গেলো যে এটি মূলত নামাজ কায়েমের নির্দেশ বা নামাজ আদায়ের নির্দেশ। তাই এটি তেলাওয়াতের সময় আলাদা সেজদাহ করার আয়াত নয়।
(০৩)
যদি সে মা'যুর হয়ে থাকে বসে, মাটিতে বসে সেজদা দিতে না পারে, সেক্ষেত্রে সে চেয়ারে বসে মাথা ঝুঁকিয়ে সেজদাহ দিতে পারবে।