আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
66 views
in সালাত(Prayer) by (19 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আমি সাজদায়ে সাহুর উসুল সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী কুরআনে মোট ১৪টি সাজদা তিলাওয়াত রয়েছে। কিন্তু সূরা হজ্জের ৭৭ নম্বর আয়াতে ॥ وَاسْجُدُوا ॥ শব্দ থাকা সত্ত্বেও সেখানে সাজদা তিলাওয়াত করা হয় না, অপরদিকে সূরা হজ্জের ১৮ নম্বর আয়াতকে সাজদার আয়াত ধরা হয়।

আমার প্রশ্নগুলো হলো:

১. কুরআনের অন্য যেসব ১৪টি আয়াতে সাজদা তিলাওয়াত করা হয়, সেগুলোকে সাজদার আয়াত হিসেবে নির্ধারণ করার মূল উসূল বা দলিল কী?

২. সূরা হজ্জ ৭৭ নম্বর আয়াতে ॥ وَاسْجُدُوا ॥ স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও হানাফি ফিকহে কেন এটিকে সাজদা তিলাওয়াতের আয়াত গণ্য করা হয় না?

৩. চেয়ারে বসে কোরআন পড়া অবস্থায় সাজদার আয়াত আসলে কি চেয়ারে বসে সাজদা দেওয়া যাবে (মাযুর ব্যক্তিরা যেভাবে চেয়ারে বসে সাজদা দেন) না দাড়িয়ে তারপর সাজদা দিতে হবে?

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
কুরআনের অন্য যেসব ১৪টি আয়াতে সাজদা তিলাওয়াত করা হয়, সেগুলোকে সাজদার আয়াত হিসেবে নির্ধারণ করার মূল উসূল হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ এর আমল।

যেমন হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ عَلَيْنَا السُّورَةَ فِيهَا السَّجْدَةُ، فَيَسْجُدُ وَنَسْجُدُ، حَتَّى مَا يَجِدُ أَحَدُنَا مَوْضِعَ جَبْهَتِهِ.

ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাদের সামনে এমন এক সূরাহ্ তিলাওয়াত করলেন, যাতে সাজদাহর আয়াত রয়েছে। তাই তিনি সাজদাহ্ করলেন এবং আমরাও সাজদাহ্ করলাম। ফলে অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, আমাদের কেউ কেউ কপাল রাখার জায়গা পাচ্ছিলেন না। 
(বুখারী ১০৭৫,১০৭৬, ১০৭৯; মুসলিম ৫/২০, হাঃ ৫৭৫, আহমাদ ৪৬৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১৪)

অনেক ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামগণ বর্ণনা করেছেন যে কোথায় কোথায় সেজদা করতে হবে সে ভিত্তিতেও সেজদার আয়াত নির্ণয় করা হয়।

পাশাপাশি উম্মতের ধারাবাহিক আমলও সেজদার আয়াত হিসেবে নির্ণয় করার উসুল হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

আর এ মতবিরোধটি মূলত শুরু থেকেই আসছে। 

(০২)
এখানে হানাফী ইসলামী স্কলার গণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে এখানে সেজদায়ে তেলাওয়াতের নির্দেশ নয় বরং এটি সাধারণ নামাজ আদায়ের নির্দেশ।

অর্থাৎ এখানে রুকু এবং সেজদাহ করার কথা একসাথে এসেছে, যদি এর দ্বারা তেলাওয়াতে সেজদা উদ্দেশ্য হতো সে ক্ষেত্রে রুকুর কথা এখানে আসলো কিভাবে?

সুতরাং বুঝা গেলো যে এটি মূলত নামাজ কায়েমের নির্দেশ বা নামাজ আদায়ের নির্দেশ।  তাই এটি তেলাওয়াতের সময় আলাদা সেজদাহ করার আয়াত নয়।

(০৩)
যদি সে মা'যুর হয়ে থাকে বসে, মাটিতে বসে সেজদা দিতে না পারে, সেক্ষেত্রে সে চেয়ারে বসে মাথা ঝুঁকিয়ে সেজদাহ দিতে পারবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...