আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
60 views
in পবিত্রতা (Purity) by (10 points)

আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ। ইমার্জেন্সি প্লিজ।
আমার পিরিয়ড সাধারণত ৭-৯ দিন থাকে।এই মাসে গতকাল ৭দিন হওয়ার পর রাতে সাহরির আগে চেক করে দেখি কোনো রং নাই,ক্লিয়ার সাদাস্রাব।এরপর সাহরি খেয়ে রোজা রাখি।কিন্তু সতর্কতার জন্য তখন পবিত্র না হয়ে দুপুরের কিছুক্ষণ আগ অব্দি কোনো স্রাব দেখতে না পাওয়াই গোসল করে ফজরের কাজা, তারপর যোহর আদায় করি,১ পারার মতো কোরআন তিলাওয়াত করি।সারাদিন কোনো স্রাব যায়নি।কিন্তু ইফতারের পর আবার বাদামি স্রাব দেখি।আজকে ৮ম দিন।
(১)আমার কি আজকের রোযা হয়নি?
(২)রমাদানের শুরু থেকেই কোরআন খতম দেওয়ার নিয়তে পড়ছিলাম।আজকে যে এক পারা পড়লাম,এটা কি আবার পড়া লাগবে আমার?
সারাদিন তো আমি পবিত্র ছিলাম,পিরিয়ডের কোনো লক্ষন ছিল না।

(৩)মাঝে মাঝেই পিরিয়ডের ৭ম-৮ম দিনে স্পষ্ট সাদাস্রাব দেখা যায়,তারপর গোসল করে নামায পড়ে ফেলার পর অনেকসময় আবার ১২-১৪ ঘন্টা পর সাদাস্রাবে কিছুটা হলদেটে ভাব থাকে,যেটা প্যাড বা কাপড়ে দেখা যায় না,শুধু সাদা টিস্যু নিয়ে জরায়ুর ভিতরের দিকে চাপ দিলেই দৃৃশ্যমান হয়।এই অবস্থায় নামায শুরু নিয়ে খুব দ্বিধায় থাকি।এটা শুধু ১-২ টা বিন্দুর মতো হলদে স্পট থাকে।

এটা যেহেতু পিরিয়ডের স্বাভাবিক স্রাবের মতো যায় না।শুধু অনেক ঘন্টা পর সাদাস্রাবের মাঝে হাল্কা হলুদ স্পট দেখা যায়,এটাকে কি পবিত্রতা হিসেবেই ধরে নিব আমি?

 

এমনিতেও সারা মাসের সাদাস্রাবে হঠাৎ হঠাৎ হাল্কা হলদে ভাব দেখা যায়।

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(১-২)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে সাদা স্রাব ব্যাতিত বাদামি বা অন্য যেকোনো কালারের স্রাব বা ব্লাড যদি ১০ দিন পরেও আপনার আসে, সেক্ষেত্রে আপনার আজকে রোজা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
এক্ষেত্রে আজকে যে এক পারা পড়লেন,এটা  আবার পড়া লাগবেনা।

অন্যথায় স্রাব যদি আর না আসে বা ১০ দিনের আগেই যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আপনার আজকের রোজা হয়নি। 
এক্ষেত্রে আজকে যে এক পারা পড়লেন,এটা  আবার পড়া লাগবে।

(০৩)
এটা যদি লজ্জাস্থানের বাইরে না আসে,সেক্ষেত্রে এটিকে হায়েজ ধরবেননা।

তবে যদি লজ্জাস্থানের বাইরে আসে,সেক্ষেত্রে এটিকে হায়েজ ধরবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...