আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
64 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (10 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ!!
১. ইতিকাফ এর স্থান কি শুধু একটা রুম বা জায়গা কে নির্দিষ্ট করতে হবে??  আমার বাসা তেমন একটা বড় না, রুমের পাশেই ওয়াশরুম এবং রুম থেকে বের হয়ে ২কদম পা বাড়ালেই ডাইনিং রুম। বাকি অন্য রুমও আছে। আমি যদি ইতিকাফের স্থান হিসেবে রুম এবং ডাইনিং রুমের নিয়ত করি তাহলে কি ইতিকাফ হবে? খাবার আম্মু বা ভাই কখনো যদি এনে দিতে না পারে বা কোনো কিছু প্রয়োজন হলে যেমন পানি বা এক্সট্রা খাবার তাহলে কি আমি গিয়ে আনতে পারবো? কারণ আমার খাবারের পরিমাণ উনারা বুঝেন না!! আর পানিও ডাইনিং রুমে থাকে, প্রয়োজনে পানি কি আমি গিয়ে আনতে পারবো? আর ডাইনিং রুমে বেসিন থাকায় আমার জন্য ব্রাশ করা সুবিধা হবে, রুমে ব্রাশ করলে জানালা দিয়ে অন্যের জায়গায় ফেললে কি তার হক নষ্ট হবে না? জানালার পাশে অন্যের খোলা জায়গায়, চাষও করে ওখানে। আমার দাঁতে সমস্যা আছে, ডা দু'বার ব্রাশ করতে বলছে, নয়তো আমার ব্যাথা শুরু হয়!! তাই ডাইনিং রুমকেও আমার ইতিকাফের স্থান হিসেবে ধরলে আমার জন্য প্রয়োজনে রুম থেকে বের হওয়া সুবিধা হতো।
২. ইতিকাফে থাকলে আমি কি দ্বীনি বিষয়ক কাজে কোনো গ্রুপে দরকারী মেসেজ যেগুলো আমার দিতে হবে প্রত্যেকদিন একই সময়, এ কাজ টা কি আমি করতে পারবো?
৩. ইতিকাফ অবস্থায় রুমের মধ্যে কি হাঁটা চলা বা হাল্কা ব্যায়াম করার যাবে?
৪. ইতিকাফ অবস্থায় আমি কি চাইলে কিছু সময় ইসলামিক বই বা আইওএম এর পড়া পড়তে পারবো?

৫. আমার অনলাইন বিজনেস আছে, ইতিকাফ চলাকালীন সময়ে অর্ডার রেডি করা, প্যাকেট করা সব আমার হাসবেন্ড করবেন,, তবে তিনি প্রাইস এবং প্রোডাক্ট সম্পর্কে তেমন একটা জানেন না। আমি অর্ডার নিয়ে উনাকে বলে দিলে তবেই উনি পার্সেল রেডি করতে পারেন। আমি কি ইতিকাফের কিছু সময় বিজনেস রিলেটেড ২/৩টি পোস্ট এবং কাস্টমার যদি কোনো কিছু না বুঝেন বা প্রাইস রিলেটেড কোনো সমস্যা হয় তবে কি কাস্টমার এর সাথে মেসেজ এ কথা বলতে পারবো? এবং অর্ডার আসলে সেটি কি আমার হাসবেন্ডকে মেসেজের মাধ্যমে জানাতে পারবো? নাকি ইতিকাফ এর সময় এসব কিছু করা যাবে না!!

৬. ইতিকাফ অবস্থায় অজু বা ইন্তিন্জাহ করতে গিয়ে দ্রুত গোসল কতটুকু সময়ের মধ্যে করতে হবে?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ  
হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত,

ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﺯَﻭْﺝِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻌْﺘَﻜِﻒُ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮَ ﺍﻷَﻭَﺍﺧِﺮَ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﻮَﻓَّﺎﻩُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ، ﺛُﻢَّ ﺍﻋْﺘَﻜَﻒَ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟُﻪُ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻩِ

রাসূলুল্লাহ সাঃ ইহকাল ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত রমজানের শেষ দশে এ'তেক্বাফ করতেন।অতঃপর উনার বিবিগণ এ'তেক্বাফ করেন।
সহীহ বোখারী-২০২৬
সহীহ মুসলিম-১১৭২

মহিলারা ঘরের মসজিদে (নামাজ পড়ার স্থানে) বা একটি জায়গাকে নির্দিষ্ট করে এ'তেক্বাফে বসবে।তবে সাবধান! পরবর্তীতে আর স্থান পরিবর্তন করা যাবে না।মহিলাদের জন্য শর্ত হল,হায়েয নেফাস থেকে পবিত্র থাকা।এ'তেক্বাফের মধ্যখানে যদি হায়েয চলে আসে, তাহলে এ'তেক্বাফ ফাসিদ হয়ে যাবে।কেননা তখন তো উনি আর রোযা রাখতে পারবেন না। 

পরবর্তীতে কমপক্ষে একদিন রোযা সহ এ'তেক্বাফকে কাযা করে নেবেন।সম্ভব হলে অবশিষ্ট সকল দিনের এ'তেক্বাফকে রোযাসহ কাযা করে নিতেও পারেন।

স্বাভাবত মানুষের যে সমস্ত প্রয়োজন থাকে সেসব প্রয়োজনের স্বার্থে তিনি এ'তেক্বাফ থেকে বের হতে পারবেন।প্রস্রাব পায়খানা,ওজু ফরয গোসল ইত্যাদির জন্য।তবে শীতিলতা অর্জনের নিমিত্তে উনি গোসলে যেতে পারবেন না।

খানা পাকানোর জন্য উনি পাকঘরে যেতে পারবেন না।তবে প্রয়োজনে তিনি এ'তেক্বাফ স্থলে খানাকে রান্না করে নিতে পারবেন।(ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ-১০/২৫১)
,
বিস্তারিত জানুনঃ  

আরো জানুনঃ 
,
ইতেকাফরত অবস্থায় বান্দা নিজেকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য দুনিয়ার অন্যান্য সকল বিষয় থেকে আলাদা করে নেয়। ঐকান্তিকভাবে মশগুল হয়ে পড়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিরন্তর সাধনায়। এতেকাফ ঈমান বৃদ্ধির একটি মূখ্য সুযোগ। সকলের উচিত এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের ঈমানী চেতনাকে প্রাণিত করে তোলা ও উন্নতর পর্যায়ে পৌছেঁ দেয়ার চেষ্টা করা।
কুরআনুল কারিমে বিভিন্নভাবে ইতেকাফ সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, আমি ইবরাহীম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, এতেকাফকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো। (বাকারাহ-125)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, তোমরা মসজিদে এতেকাফ কালে স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা করো না। (বাকারাহ-187)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসংখ্য হাদীস এতেকাফ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্য হতে কিছু হাদীস নিচে উল্লেখ করা হল:
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশ দিন এতেকাফ করতেন। (বুখারি-2025)
রসুলুল্লাহ (সাঃ) রমজানের শেষের দশকে এতেকাফ করেছেন, ইন্তেকাল পর্যন্ত। এরপর তাঁর স্ত্রী গণ এতেকাফ করেছেন। (বুখারি-2026)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রমজানে দশ দিন এতেকাফ করতেন, তবে যে বছর তিনি পরলোকগত হন, সে বছর তিনি বিশ দিন এতেকাফে কাটান। (তিরমিযী-808)


উত্তম হল নফল ইবাদত বেশী বেশী করা। যেমন সলাত আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, তাসবীহ-তাহলীল তথা সুবহানাল্লাহ, আল-হামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, তাওবাহ-ইস্তেগফার, দু‘আ, দুরূদ ইত্যাদি ইবাদতে সর্বাধিক সময় মশগুল থাকা। 

তাছাড়া শরীয়া বিষয়ক ইলম চর্চা করা।
পার্থিব ব্যাপারে কথাবার্তা বলা, অনর্থক গল্পগুজব ও আলোচনা থেকে বিরত থাকা উচিত, তবে পারিবারিক কল্যাণর্থে বৈধ কোন বিষয়ে অল্পস্বল্প কথাবার্তা বলার মধ্যে কোন দোষ নেই।

ইতিকাফ যে সকল কারণে ভঙ্গ হয়ে যায় তা হলো :
১. স্বেচ্ছায় বিনা প্রয়োজনে মাসজিদ থেকে বের হলে।
২. কোন শিরক বা কুফরী কাজ করলে।
৩. পাগল বা বেঁহুশ হয়ে গেলে।
৪. নারীদের হায়েয-নিফাস শুরু হয়ে গেলে।
৫. স্ত্রীসহবাস বা যে কোন প্রকার যৌনসম্ভোগ করলে।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

الفتاوى الهندية:

"(ومنها الجماع ودواعيه) فيحرم على المعتكف الجماع ودواعيه نحو المباشرة والتقبيل واللمس والمعانقة والجماع فيما دون الفرج والليل والنهار في ذلك سواء، والجماع عامدًا أو ناسيًا ليلًا أو نهارًا يفسد الاعتكاف أنزل أو لم ينزل، وما سواه يفسد إذا أنزل وإن لم ينزل لايفسد، هكذا في البدائع." (1/ 213ط:دار الفكر)
সারমর্মঃ-
ইতেকাফ কারীর উপর হারাম হলো সহবাস বা সহবাসের প্রতি উদ্ভুদ্ধ করে এমন যেকোনো কাজ। যেমন সংস্পর্শে থাকা,চুম্বন দেয়া,স্পর্শ করা,কোলাকুলি করা,সহবাস করা লজ্জাস্থান ব্যাতিত অন্য স্থানে,,,

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
ইতিকাফ এর স্থান শুধু একটা রুম কে নির্দিষ্ট করতে হবে।

আপনি যদি ইতিকাফের স্থান হিসেবে রুম এবং ডাইনিং রুমের নিয়ত করেন, তাহলে  হবেনা। যেকোনো একটি স্থান নির্দিষ্ট করবেন।

কেউ খাবার এনে না দিলে এক্ষেত্রে শুধু প্রয়োজনীয় খাবার আপনি আনতে পারবেন।

কেউ পানি এনে না দিলে প্রয়োজনে আপনি গিয়ে আনতে পারবেন।

রুমে ব্রাশ করে ইস্তিঞ্জায় যাওয়ার সময়  আপনি মুখ পরিস্কার করবেন। 

এক্ষেত্রে শুধু ডাইনিং রুমকেই আপনি ইতেকাফার স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করতে পারবেন।

২. হ্যাঁ, ইতিকাফের রুমে থেকে পারবেন।

৩. ইতিকাফ অবস্থায় সেই রুমের মধ্যে হাঁটা চলা বা হাল্কা ব্যায়াম করার যাবে।

৪. ইতিকাফ অবস্থায় আপনি চাইলে কিছু সময় ইসলামিক বই বা আইওএম এর পড়া পড়তে পারবেন।

৫. হ্যাঁ, ইতিকাফের রুমে থেকে পারবেন।

৬. ইতেকাফ অবস্থায় ফরজ গোসল ব্যাতিত সাধারণ গোসল করা এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে আবশ্যকীয় প্রয়োজনের মাঝে শামিল নয়।

তাই এই গোসলের জন্য ইতেকাফের স্থান থেকে বের হওয়া যাবে না। যদি কেউ বের হয়, তাহলে তার ইতিকাফ ভেঙ্গে যাবে।

হ্যাঁ, মুফতীয়ানে কেরাম একটি সূরত বলেছেন, সেটি হল এই যে, গোসল খানায় আগে থেকে কাউকে দিয়ে পানি ভরে রাখবে, তারপর ইস্তিঞ্জার জন্য বের হবে, ইস্তিঞ্জা শেষ করে অজু করার সময় দ্রুত গায়ে কিছু পানি ঢেলে চলে আসবে। এতে করে ইতিকাফ ভাঙ্গবে না। তবে গোসল করতে গিয়ে দেরী করবে না।

এক্ষেত্রে দ্রুত গোসল বলতে শরীরে বেশি পানি ঢালবেন না, বেশি সময় সেখানে ব্যয় করবেন না, অতিরিক্ত কোন কাজই করবেন না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...