আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
40 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (17 points)
মুহতারাম মুফতি সাহেব,
আসসালামু আলাইকুম ।
আমার কাছে কিছু ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ আছে ।
দোকানে কেনার সময়ে বিক্রেতা রিসিটে ক্যারেটের পরিমাণ লিখে সেই ক্যারেট অনুযায়ী টাকা নিয়েছিল ।
পরবর্তীতে আমাদের জেলায় অলংকার হলমার্ক করার সিস্টেম চালু হলে হলমার্কিং এর দোকানে টেস্ট করে দেখা যায় যে, ১৮ ক্যারেটের জায়গায় ১৫.৫ ক্যারেট, ১৬ ক্যারেট এরকম রয়েছে ।
অনুরূপভাবে, ২১ ক্যারেটের স্থানে ২০ ক্যারেট বা আরেকটু কম রয়েছে ।
এখন এ পরিস্থিতিতে আমার কিছু প্রশ্ন রয়েছে:

১)
যেহেতু, অফিসিয়ালি বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি ১৫.৫, ১৬, ২০ ক্যারেটের মূল্য প্রকাশ করে না, সেহেতু যাকাত এর জন্য এসব অনিয়মিত ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য হিসাব করব কীভাবে? ঐকিক নিয়মে বের করা যাবে না কী অন্য কোন পদ্ধতি আছে?


২)
দোকানে বিক্রি করতে গেলে রিসিটের ক্যারেটের হিসেবেই বিক্রয় করতে হবে না কী যেহেতু হলমার্কিং -এর পরে প্রকৃত ক্যারেট জানা গিয়েছে সেই নতুন ক্যারেটের হিসেবেই বিক্রয় করতে হবে?


৩)
ধরুন, ১৮ ক্যারেটের ২ ভরি স্বর্ণালংকারের দাম এসেছে সাড়ে চার লাখ টাকা ।  আমি স্বর্ণের দোকানে এই গয়নাগুলো দিয়ে সাড়ে চার লাখ টাকার মধ্যে যতটুকু ২২ ক্যারেটের স্বর্ণালংকার পাওয়া যায় ততটুকু এক্সচেঞ্জ নিতে চাই ।
এজন্য কী ১৮ ক্যারেটের গয়নাগুলো বিক্রি করে হাতে নগদ টাকা নিয়ে তারপরে সেই টাকা দিয়ে আবার ২২ ক্যারেটের গয়না কিনতে হবে?
না কী ক্যালকুলেটরের হিসেবে ১৮ ক্যারেটের গয়নার যে দাম আসে নগদ টাকায় রূপান্তর ব্যতীতই সেই দামের মধ্যে ২২ ক্যারেটের গয়না কিনতে পারব?
যেমন- আমার হাতে ২ ভরি ১৮ ক্যারেটের মূল্য সাড়ে চার লাখ টাকা নগদ না দিয়ে দোকানি ২২ ক্যারেটের ১.৫ ভরি স্বর্ণালংকার হিসেব করে এক্সচেঞ্জ বুঝিয়ে দিল ।
২য় পদ্ধতিটি শরীয়তসম্মত হবে কী না?


৪)

যাকাতের স্বর্ণের হিসাব করার ক্ষেত্রে দুটি দারুল ইফতার মধ্যে একটিতে ১৫%  ও অন্যটিতে ১৭% বাদ দিয়ে হিসেব করতে বলা হয়েছে । আবার, অনেক স্থানে / রিসিটে ২০% - বাদ দেওয়ার কথাও লেখা থাকে ।
যেহেতু হিসাবের ভিন্নতা দেখা দিচ্ছে , আমাদেরকে কত পার্সেন্ট বাদ দিয়ে হিসেব করতে হবে?

৫)
বাজারের মিনিকেট চাল দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে কত কেজি চালের মূল্য প্রদান করতে হবে?

1 Answer

0 votes
by (766,740 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

https://ifatwa.info/9598/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
যাকাত সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿خُذۡ مِنۡ أَمۡوَٰلِهِمۡ صَدَقَةٗ تُطَهِّرُهُمۡ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيۡهِمۡۖ إِنَّ صَلَوٰتَكَ سَكَنٞ لَّهُمۡۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ١٠٣﴾ [التوبة: 103]
“তাদের সম্পদ থেকে সদকা নাও, এর মাধ্যমে তাদেরকে তুমি পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে এবং তাদের জন্য দো‘আ কর, নিশ্চয় তোমার দো‘আ তাদের জন্য প্রশান্তিদায়ক”। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৩]

অপর আয়াতে তিনি বলেন:
﴿وَٱلَّذِينَ يَكۡنِزُونَ ٱلذَّهَبَ وَٱلۡفِضَّةَ وَلَا يُنفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ فَبَشِّرۡهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٖ ٣٤﴾ [التوبة:34]
“যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তুমি তাদেরকে বেদনাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও”। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৩৪]

অপর আয়াতে তিনি বলেন:
﴿وَلَا يَحۡسَبَنَّ ٱلَّذِينَ يَبۡخَلُونَ بِمَآ ءَاتَىٰهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦ هُوَ خَيۡرٗا لَّهُمۖ بَلۡ هُوَ شَرّٞ لَّهُمۡۖ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُواْ بِهِۦ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۗ ١٨٠﴾ [آل عمران:180]

“আল্লাহ যাদেরকে তার অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তা নিয়ে যারা কৃপণতা করে তারা যেন ধারণা না করে যে, তা তাদের জন্য কল্যাণকর, বরং তা তাদের জন্য অকল্যাণকর, যা নিয়ে তারা কৃপণতা করেছিল, কিয়ামত দিবসে তা দিয়ে তাদের বেড়ি পরানো হবে”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮]
,

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী স্বর্ণের যাকাত যখন আদায় করবেন, তখনকার বাজারদর অনুযায়ী যাকাত আদায় করতে হবে। সুতরাং যাকাত বর্তমান বাজার মূল্য হিসাবেই আদায় করতে হবে। 

কেননা যাকাত ওয়াজিব হচ্ছে স্বর্ণের উপর। আপনার কাছে যে স্বর্ণ আছে তার ২.৫% যাকাত দিতে হবে। সুতরাং যাকাত আদায়ের সময় স্বর্ণ দিবেন বা তখন স্বর্ণের যে মূল্য হয় তা আদায় করবেন।
(আলজামেউস সগীর পৃ. ১৫; বাদায়েউস সানায়ে ২/১১১; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৬৭; রদ্দুল মুহতার ২/২৮৬)


যাকাত দেওয়ার নিয়ম: ব্যক্তির মালিকানায় যে ক্যারেট স্বর্ণ রয়েছে সেই ক্যারেটের একগ্রাম স্বর্ণের বাজার দর জানবে প্রথম। যদি একাধিক ক্যারেটের স্বর্ণ থাকে, যে ক্যারেট স্বর্ণ বেশি আছে তার বাজার দর জানবে, অতঃপর একগ্রাম স্বর্ণের মূল্যকে তার নিকট যে ক’গ্রাম স্বর্ণ রয়েছে তার সংখ্যা দিয়ে পূরণ দিবে। এভাবে স্বর্ণের গ্রামকে মুদ্রায় পরিণত করবে, অতঃপর ক্যালকুলেটর দিয়ে মোট মূল্য থেকে ২.৫% বের করবে, যে অংক আসবে তাই স্বর্ণের যাকাত।

উদাহরণ: কেউ ২১ ক্যারেট ১০০ গ্রাম স্বর্ণের মালিক, সে তার যাকাত বের করার জন্য প্রথম ২১ ক্যারেট স্বর্ণের বাজার দর জানবে, যদি একগ্রাম স্বর্ণের দাম হয় ১০,০০০ টাকা, যাকাতের হিসেব হবে নিম্নরূপ: ১০০ (গ্রাম-স্বর্ণ)* ১০,০০০ (টাকা, যা একগ্রাম স্বর্ণের মূল্য)* ২.৫% (যাকাত) অর্থাৎ ১০০* ১০,০০০* ২.৫%=২৫০০০ টাকা।
,

 وتعتبر القيمة يوم الوجوب وقال: يوم الأداء (الدر المختار مع رد المحتار، زكريا-3\211، كرتاشى-2\276، فتح القدير، كتاب الزكاة، فى العروض-2\219، مصرى)
সারমর্মঃ-
যাকাত ওয়াজিব হওয়ার দিনের মূল্য গ্রহনযোগ্য হবে। কেহ কেহ বলেছেন যাকাত আদায়ের দিনের মূল্য গ্রহনযোগ্য হবে। 
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(১-২)
প্রশ্নে উল্লেখিত সমস্যার বিষয়টি কোন স্বর্ণের দোকানদারকে জানিয়ে আপনি তাদের থেকে জেনে নিতে পারেন যে আপনার কাছে থাকা স্বর্ণগুলি বর্তমানে বিক্রয় করতে চাইলে কেমন দাম আসতে পারে!

সে দাম হিসেব করে তার শতকরা আড়াই শতাংশ যাকাত দিবেন।

(০৩)
এজন্য ১৮ ক্যারেটের গয়নাগুলো বিক্রি করে হাতে নগদ টাকা নিয়ে তারপরে সেই টাকা দিয়ে আবার ২২ ক্যারেটের গয়না কিনতে হবে।

(০৪)
সবচেয়ে ভালো হবে,
আপনি আপনার এলাকার কোন স্বর্ণের দোকানদারের কাছে যাবেন, গিয়ে জেনে নিতে পারেন যে আপনার কাছে থাকা স্বর্ণগুলি বর্তমানে বিক্রয় করতে চাইলে কেমন দাম আসতে পারে!

সে দাম হিসেব করে তার শতকরা আড়াই শতাংশ যাকাত দিবেন।

(০৫)
আপনি চাইলে চাল দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন। অবশ্য হাদিসে বর্ণিত বস্তুগুলোর দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করলে আর কোন মতানৈক্য বাকি থাকে না। যদি চাল দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করতে চান, তাহলে অর্ধ সা গম বা এক সা খেজুর, যব, কিশমিশ বা পনিরের মূল্যের সমপরিমাণ চাল দিতে হবে। এর কম হলে সদকাতুল ফিতর আদায় হবে না।

(পরিমাণঃ)

গম হলে আধা সা' (১.৬৫০গ্রাম)

যব বা খেজুর হলে এক সা' (৩.৩০০গ্রাম)

★আপনি চাল দিয়ে সদকায়ে ফিতর আদায় করলে ১.৬৫০গ্রাম গমের মূল্য কত আসে,বা ৩.৩০০গ্রাম খেজুরের মূল্য কত আসে,সেই মূল্য সমপরিমাণ টাকার চাল ক্রয় করে দিতে পারেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...