আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
69 views
in সালাত(Prayer) by (34 points)
আসসালামু আলাইকুম,
ওস্তাদ,
১,  যেকোনো নামাজের প্রত্যেক উঠাবসায় তাকবীর বলা কি?
২, কেউ যদি নামাজে সেজদা থেকে ওঠার সময় আল্লাহু আকবার এর পরিবর্তে ভুলে আসসালামু আলাইকুম বলে ফেলে, কিংবা অন্য কিছু ভুলে বলে ফেলে; তাহলে কি নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে?
ওস্তাদ, অনুগ্রহ করে দলিল সহ একটু জানতে চাই।

1 Answer

0 votes
by (764,190 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
নামাজে শুরুর তাকবির তথা তাকবিরে তাহরিমা ফরজ। ইহা ব্যাতিত অন্যান্য তাকবির বলা সুন্নাত।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْكَعُ، ثُمَّ يَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لَمِنْ حَمِدَهُ. حِينَ يَرْفَعُ صُلْبَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ، ثُمَّ يَقُولُ وَهُوَ قَائِمٌ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ ـ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ {بْنُ صَالِحٍ عَنِ اللَّيْثِ} وَلَكَ الْحَمْدُ ـ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَهْوِي، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَسْجُدُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ، ثُمَّ يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي الصَّلاَةِ كُلِّهَا حَتَّى يَقْضِيَهَا، وَيُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ مِنَ الثِّنْتَيْنِ بَعْدَ الْجُلُوسِ.

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আরম্ভ করার সময় দাঁড়িয়ে তাকবির বলতেন। অতঃপর রুকূ‘তে যাওয়ার সময় তাকবির বলতেন, আবার যখন রুকূ‘ হতে পিঠ সোজা করে উঠতেন তখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে قَائِمٌ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলতেন। অতঃপর সাজদাহ্য় যাওয়ার সময় তাকবির বলতেন। এবং যখন মাথা উঠাতেন তখনও তাকবির বলতেন। আবার (দ্বিতীয়) সাজদাহ্য় যেতে তাকবির বলতেন এবং পুনরায় মাথা উঠাতেন তখনও তাকবির বলতেন। এভাবেই তিনি পুরো সালাত শেষ করতেন। আর দ্বিতীয় রাক‘আতের বৈঠক শেষে যখন (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাঁড়াতেন তখনও তাকবির বলতেন। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু সালিহ্ (রহ.) লাইস (রহ.) সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করতে وَلَكَ الْحَمْدُ  উল্লেখ করেছেন। (বুখারী শরীফ ৭৮৯.৭৮৫; মুসলিম ৪/১০, হাঃ ৩৯২, আহমাদ ৮২৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৩)

(০২)
কেউ যদি নামাজে সেজদা থেকে ওঠার সময় আল্লাহু আকবার এর পরিবর্তে ভুলে আসসালামু আলাইকুম বলে ফেলে,সালাম না ফিরিয়ে সাথে সাথে সংশোধন করে নেয়,সেক্ষেত্রে নামাজ হয়ে যাবে,তবে সুন্নাতের খেলাফ হবে।

আল্লাহু আকবার এর পরিবর্তে ভুলে সামিআল্লাহু লিমান হামিদা বললে এক্ষেত্রে নামাজের কোন সমস্যা হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
ওস্তাদ, নিচের উল্লেখিত ফতুয়া কি ঠিক আছে?

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা (কিছু ফকীহের মতে সুন্নত)। অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়, তবে ভুলে ছুটে গেলে নামাজ ভঙ্গ হয় না এবং সাহু সিজদাও ওয়াজিব হয় না।


উৎস: Sahih al-Bukhari: ৭৮৯ ও Sahih Muslim: ৩৯২


كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ كَبَّرَ، وَإِذَا رَكَعَ كَبَّرَ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، وَإِذَا سَجَدَ كَبَّرَ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ كَبَّرَ.


অর্থ:

রাসূল ﷺ যখন নামাজ শুরু করতেন তখন তাকবির বলতেন। রুকুতে যাওয়ার সময় তাকবির বলতেন, সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবির বলতেন এবং সিজদা থেকে উঠার সময়ও তাকবির বলতেন।


ফিকহের কিতাবের বক্তব্য

Al-Hidayah এবং Bada'i al-Sana'i-এ বলা হয়েছে:


وَالتَّكْبِيرَاتُ فِي الِانْتِقَالَاتِ سُنَّةٌ.

অর্থ:

নামাজের বিভিন্ন অবস্থায় (রুকু, সিজদা ইত্যাদিতে যাওয়ার সময়) যে তাকবিরগুলো বলা হয় সেগুলো সুন্নত।

by (764,190 points)
সবই ঠিক আছে।
তবে কিতাবে সুন্মাত লেখা আছে।

সুন্মাতে মুয়াক্কাদা কোথাও লেখা আছে বলে জানা নেই।
by
জ্বি ওস্তাদ বুঝতে পারছি আলহামদুলিল্লাহ। 
জাযাকাল্লাহ খইর। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 252 views
...