আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
79 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (4 points)
edited by
আসসালামুয়ালাইকুম।মেয়ে ও ছেলে দীর্ঘ ১০বছরের মতো হারাম সম্পর্কে ছিলো।খুব ই ছোট বয়স থেকে।মেয়ে ১১/১২আনুমানিক এবং ছেলে  ১৫/১৬ বছর বয়স থেকে। মেয়ে বা ছেলে কারোর পরিবার ই তেমন প্র্যাকটিসিং না।তবে উভয় পরিবার ই নামাজ পড়ে ও রোজাও রাখে।মেয়ে বা ছেলে কারোর ই তেমন দ্বীনের বিষয়ে বোঝ ছিলো না। যিনাহ যে এত বড় গুনাহ এটা শুরুতে বোঝেনি ।জানতোও না। তারা প্রায় দীর্ঘ ৮বছর সরাসরি গভীর যিনাহ তে লিপ্ত ছিলো। সপ্তাহে ১রাত একসাথে থাকা হতো অন্তত।এরকম ছিলো ব্যাপারটা।শতশত রাত একসাথে থাকা হয়েছে।মেয়ে একবার কনসিভ ও করেছিলো। ছেলে বিষয়টি মেয়ের ইচ্ছের উপর ছেড়ে দিয়েছিলো ।তবে মেয়ে রাখেনি মান সম্মানের বিষয় চিন্তা করে। পরবর্তী তে মেয়ে ধীরে ধীরে হাদিস কুরআন পড়ে ও ইসলামিক লেকচার এসব শোনে  ধীরে ধীরে বুঝতে পারে এটা ভয়ঙ্কর গুনাহ। ধীরে ধীরে দ্বীনের বিষয়ে বোঝ জ্ঞান বাড়তে থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার দরুন সে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে পরবর্তী অন্য কাউকে বিয়ে করতে হবে আর সেও এ ব্যাপারে বুঝতে পারবে আরো ঝামেলা হবে এইসব বিষয় ভেবে সম্পর্ক থেকে বের হতে পারেনি। সম্পর্কের মায়াও ছেলে বা মেয়ে কেউ কাটাতে পারেনি। বারবার ছেড়ে দিবে শারীরিক সম্পর্ক বাদ দিবে উভয়েই বললেও দেওয়া হয়নি। মেয়ের বাবা-মা একবার জানতে পেরেছিলো যখন সম্পর্কের ৪/৫বছর। মেয়ে জানিয়েছিলো সে এই ছেলেকে ভুলতে পারবেনা।তবে তাদের ছেলের পরিবার কে পছন্দ নয়। ছেলের পরিবার যে একেবারে অস্বচ্ছল তা নয়।আর মেয়ের পরিবার ও যে সবসময় স্বচ্ছল ছিলো বা আছে তাও নয়। পারিবারিক অবস্থা অনেকটাই কাছাকাছি। একই গ্রামের একই পাড়ায় বসবাস। মূলত অহংকার বশত তখন মেয়ের বাবা মা মানতে চান নি। মেয়ের মায়ের কথা ছিলো তাদের উপর থুতু ফেলতেও ঘৃণা হবে। অথচ এমন কোনো খারাপ বিষয় নেই তাদের। মেয়ের বাবা-মা মূলত মেয়েকে পড়ালেখা করিয়ে চাকরি করাতে ইচ্ছুক । সহশিক্ষা বা সুদী ব্যাংকে চাকুরী হারাম উনারা এগুলোও বোঝেন না।বোঝলেও  তেমন পাত্তা দেন না ।মেয়ে চাকরি করতে না চাইলে বরং উনারা মন খারাপ করেন। মেয়ের বয়স ২১পূর্ণ হয়েছে। মেয়ের বিয়ের বিষয়েও উনারা খুব একটা তৎপর নন।সমন্ধ আসলে দেখেন এইটুকুই।

 তবে ছেলের পরিবারের সবাই সম্পর্কে রাজি।সম্পর্ক ২০১৬সালে শুরু হয় অতঃপর ২০২৫সালের শেষের দিকে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ৩জন পুরুষ সাক্ষী ও ২জন মেয়ে সাক্ষী ও কাজীর উপস্থিতিতে ছেলে ও মেয়ের বিবাহ হয়। বিয়ে পড়ানো হয়, দোয়া করা হয় , আইনগত ভাবেও সব সম্পন্ন হয় ও দেনমোহর ও মেয়ের ইচ্ছে অনুযায়ী ধার্য করা হয় বেশ ভালো পরিমাণেই।

এখন স্বামীর ইচ্ছে স্ত্রী তার বাড়িতে জানাক ও তার সাথে এসে সংসার করুক। স্বামী এই ব্যাপারে বেশ রাগারাগিও করে। স্বামী ইন্টারের পর আর পড়াশোনা করেনি। তবে বর্তমানে ১০-১২হাজার বা আরো কিছুটা বেশি ইনকাম করে। তবে ২/৩লক্ষ টাকার মতো তার ঋণ রয়েছে।মেয়ে অনার্সে ১ম বর্ষে ঢাকার এক মহিলা কলেজে মাহরাম আত্মীয়ের বাসায় থেকে পড়াশুনা করে। মেয়ে চাচ্ছে ঋণগুলো মোটামুটি শোধ হলে কলেজে একটা হলের ব্যবস্থা হলে পরিবারে সম্পর্কের বিষয়টি জানাতে ও যেভাবে হোক মানিয়ে আবার বিয়ে করতে।তবে পরিবার সম্ভবত শুরুতে মানবেনা ,বাসা থেকে বের করে দিবে।তবে মেয়ে কোনো চাকরি বাকরি করলে মেয়ের কথায় গুরুত্ব দিতে হয়তো।বা সমস্যা করলেও হয়তো মেনে নিতো। কিন্তু মেয়ে চাকরি করতে তেমন ইচ্ছুক নয়। পরিপূর্ণ হালাল জব ব্যতীত তবে সেটা পেতেও অনেক সময়। আর ছেলেও মেয়েকে এইবছর সময় দিয়েছে বাড়িতে জানানোর জন্য।এরপরে আর সময় দিবে না।এখন সবমিলিয়ে করণীয় কি ? বিয়েটা কি শুদ্ধ হয়েছে?

কুফু: মেয়ে বা ছেলের নিজস্ব তেমন কোনো সম্পদ নেই। সৌন্দর্য কাছাকাছি।ছেলে একটু কম দ্বীনদার তবে উচ্ছৃঙ্খল নয় ।রোজা করে ও নামাজ ও পড়ে তবে নিয়মিত নয় অনেকসময়।মেয়েও অনেকসময় নামাজ পড়েনা।তবে চেষ্টায় আছে সব ঠিক করার।ছেলে মেয়ে উভয়েই দান সাদাকা করে । পর্দার বিষয়ে মোটামুটি সচেতন উভয়েই।হারাম হালালের বিষয়েও।তবে ছেলের দ্বীনী জ্ঞান কম মেয়ের চেয়ে। ছেলের পরিবার ও কম দ্বীনদ্বার মেয়ের পরিবারের চেয়ে। তবে উনিশ বিশ। মেয়ের বাবার জমি বেশি ছেলের বাবার চেয়ে। মেয়ে বাড়িতে টিনশেড ঘর ও ছেলের বাড়িতে মেঝে পাকা ঘর। অবস্থা খুব বেশি ফারাক নয় আবার সমান ও নয়। আর ছেলে ইন্টার পর্যন্ত পড়েছে।এরপর গ্যাপ।আবার ডিগ্রিতে হয়তো ভর্তি হবে।মেয়ে অনার্স ১ম বর্ষে। আর বংশ মর্যাদাও একই। মাযহাব ও একই। এখানে কি কুফু ঠিক আছে?
এখন এই বিয়ে পরবর্তীতে পিতা মেনে না নিলে কি হবে? সবমিলিয়ে করণীয় কি?

যদি পিতা -মাতা মেনে না নেয় , মেয়ের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেলো এবং আরো অনেক ভালো ঘরে বিবাহ দিতে পারতেন, এসব আরো অনেক কিছু ভেবে বাবা-মা যদি এই কষ্ট ধরে রাখেন অন্তরে ,মেয়ে যদি দীর্ঘদিনের যিনাহ ও পরবর্তীতে বিবাহ সবমিলিয়ে মেয়ে যদি সংসার করতে চলে যায় তবে কি সে বাবা-মায়ের অবাধ্যকারী সন্তান হিসেবে গণ্য হবে ? অন্য সব দিকে সে বাবা-মায়ের বাধ্য ও চেষ্টা করে তাদের হক আদায় করতে।

আর ছেলে মেয়ে এখনোও মেয়ের বাড়িতে রাতে গোপনে দেখা করে।এটাও কি জায়েজ হবে?

1 Answer

0 votes
by (809,370 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
পূর্বে অনেক ফাতাওয়াতে আমরা উল্লেখ করেছি যে,মাতাপিতার সম্মতি ব্যতীত কখনো কোনো মুসলমান যুবক যুবতীর জন্য কোর্ট মেরেজ করা সমীচীন হবে না,মঙ্গলজনক হবে না।মাতাপিতাকে না জানিয়ে বালিগ ছেলে মেয়ের বিবাহ নিয়ে উলামাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।উনেক উলামায়ে কেরাম অভিভাবকহীন বিয়েকে বাতিল বলে মনে করেন।হানাফি মাযহাব মতে কু'ফু হিসেবে ছেলেটি মেয়ের সমকক্ষ বা বেশী মর্যাদার অধীকারী হলেই কেবল বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে।নতুবা মেয়ের অভিভাবকের অনুমতির উপর বিয়ে মওকুফ থাকবে।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/408, কুফু সম্পর্কে জানতে https://www.ifatwa.info/780
চার মাযহাবের অবস্থান দলীল সহ বিস্তারিত জানুন-এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1525

প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যেহেতু বিয়ের সময় দুয়ের অধিক পুরুষ সাক্ষী তাই বিয়েটি বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। এবং যেহেতু বিয়ে হয়েই গেছে, তাই উক্ত ছেলে মেয়ের উচিত পরিবারকে জানানো। এবং সংসার শুরু করা ও অতীতের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
কুফুর বিষয়ে কিছু বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কি কুফু ঠিক আছে?
পরবর্তীতে পিতা-মাতা মেনে না নিলে করণীয় কি?
অর্থাৎ অবস্থা এমন যে , প্রথমে কিছুতেই মানবেন না।তবে সংসার শুরু করলে ধীরে ধীরে হয়তো মেনে নিবেন।আর মেয়ে জীবনভর যথাসাধ্য চেষ্টার পরেও পিতা-মাতার অন্তরে  যদি এই কষ্ট থেকে যায় তবে করণীয় কি? সেক্ষেত্রে কি সন্তান কিয়ামতের দিন অবাধ্যকারী সন্তান হিসেবে পরিগণিত হবে? অবস্থা যদি এমন হয় বিয়ে ভেঙ্গে দিলে উনারা খুশি তাহলে কি এই বিয়ে ভেঙ্গে দিতে হবে?
by (809,370 points)
প্রথমে অভিভাবক ব্যতিত বিয়ে অতঃপর মানানোর চেষ্টা। এরকম পরিস্থিতি তৈরী করা কখনো কোনো মুসলিম যুবক যুবতীর জন্য কাম্য হতে পারে না। সর্বদা এই রকম পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে হবে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

–9 votes
1 answer 358 views
...