আসসালামুয়ালাইকুম।মেয়ে ও ছেলে দীর্ঘ ১০বছরের মতো হারাম সম্পর্কে ছিলো।খুব ই ছোট বয়স থেকে।মেয়ে ১১/১২আনুমানিক এবং ছেলে ১৫/১৬ বছর বয়স থেকে। মেয়ে বা ছেলে কারোর পরিবার ই তেমন প্র্যাকটিসিং না।তবে উভয় পরিবার ই নামাজ পড়ে ও রোজাও রাখে।মেয়ে বা ছেলে কারোর ই তেমন দ্বীনের বিষয়ে বোঝ ছিলো না। যিনাহ যে এত বড় গুনাহ এটা শুরুতে বোঝেনি ।জানতোও না। তারা প্রায় দীর্ঘ ৮বছর সরাসরি গভীর যিনাহ তে লিপ্ত ছিলো। সপ্তাহে ১রাত একসাথে থাকা হতো অন্তত।এরকম ছিলো ব্যাপারটা।শতশত রাত একসাথে থাকা হয়েছে।মেয়ে একবার কনসিভ ও করেছিলো। ছেলে বিষয়টি মেয়ের ইচ্ছের উপর ছেড়ে দিয়েছিলো ।তবে মেয়ে রাখেনি মান সম্মানের বিষয় চিন্তা করে। পরবর্তী তে মেয়ে ধীরে ধীরে হাদিস কুরআন পড়ে ও ইসলামিক লেকচার এসব শোনে ধীরে ধীরে বুঝতে পারে এটা ভয়ঙ্কর গুনাহ। ধীরে ধীরে দ্বীনের বিষয়ে বোঝ জ্ঞান বাড়তে থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার দরুন সে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে পরবর্তী অন্য কাউকে বিয়ে করতে হবে আর সেও এ ব্যাপারে বুঝতে পারবে আরো ঝামেলা হবে এইসব বিষয় ভেবে সম্পর্ক থেকে বের হতে পারেনি। সম্পর্কের মায়াও ছেলে বা মেয়ে কেউ কাটাতে পারেনি। বারবার ছেড়ে দিবে শারীরিক সম্পর্ক বাদ দিবে উভয়েই বললেও দেওয়া হয়নি। মেয়ের বাবা-মা একবার জানতে পেরেছিলো যখন সম্পর্কের ৪/৫বছর। মেয়ে জানিয়েছিলো সে এই ছেলেকে ভুলতে পারবেনা।তবে তাদের ছেলের পরিবার কে পছন্দ নয়। ছেলের পরিবার যে একেবারে অস্বচ্ছল তা নয়।আর মেয়ের পরিবার ও যে সবসময় স্বচ্ছল ছিলো বা আছে তাও নয়। পারিবারিক অবস্থা অনেকটাই কাছাকাছি। একই গ্রামের একই পাড়ায় বসবাস। মূলত অহংকার বশত তখন মেয়ের বাবা মা মানতে চান নি। মেয়ের মায়ের কথা ছিলো তাদের উপর থুতু ফেলতেও ঘৃণা হবে। অথচ এমন কোনো খারাপ বিষয় নেই তাদের। মেয়ের বাবা-মা মূলত মেয়েকে পড়ালেখা করিয়ে চাকরি করাতে ইচ্ছুক । সহশিক্ষা বা সুদী ব্যাংকে চাকুরী হারাম উনারা এগুলোও বোঝেন না।বোঝলেও তেমন পাত্তা দেন না ।মেয়ে চাকরি করতে না চাইলে বরং উনারা মন খারাপ করেন। মেয়ের বয়স ২১পূর্ণ হয়েছে। মেয়ের বিয়ের বিষয়েও উনারা খুব একটা তৎপর নন।সমন্ধ আসলে দেখেন এইটুকুই।
তবে ছেলের পরিবারের সবাই সম্পর্কে রাজি।সম্পর্ক ২০১৬সালে শুরু হয় অতঃপর ২০২৫সালের শেষের দিকে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ৩জন পুরুষ সাক্ষী ও ২জন মেয়ে সাক্ষী ও কাজীর উপস্থিতিতে ছেলে ও মেয়ের বিবাহ হয়। বিয়ে পড়ানো হয়, দোয়া করা হয় , আইনগত ভাবেও সব সম্পন্ন হয় ও দেনমোহর ও মেয়ের ইচ্ছে অনুযায়ী ধার্য করা হয় বেশ ভালো পরিমাণেই।
এখন স্বামীর ইচ্ছে স্ত্রী তার বাড়িতে জানাক ও তার সাথে এসে সংসার করুক। স্বামী এই ব্যাপারে বেশ রাগারাগিও করে। স্বামী ইন্টারের পর আর পড়াশোনা করেনি। তবে বর্তমানে ১০-১২হাজার বা আরো কিছুটা বেশি ইনকাম করে। তবে ২/৩লক্ষ টাকার মতো তার ঋণ রয়েছে।মেয়ে অনার্সে ১ম বর্ষে ঢাকার এক মহিলা কলেজে মাহরাম আত্মীয়ের বাসায় থেকে পড়াশুনা করে। মেয়ে চাচ্ছে ঋণগুলো মোটামুটি শোধ হলে কলেজে একটা হলের ব্যবস্থা হলে পরিবারে সম্পর্কের বিষয়টি জানাতে ও যেভাবে হোক মানিয়ে আবার বিয়ে করতে।তবে পরিবার সম্ভবত শুরুতে মানবেনা ,বাসা থেকে বের করে দিবে।তবে মেয়ে কোনো চাকরি বাকরি করলে মেয়ের কথায় গুরুত্ব দিতে হয়তো।বা সমস্যা করলেও হয়তো মেনে নিতো। কিন্তু মেয়ে চাকরি করতে তেমন ইচ্ছুক নয়। পরিপূর্ণ হালাল জব ব্যতীত তবে সেটা পেতেও অনেক সময়। আর ছেলেও মেয়েকে এইবছর সময় দিয়েছে বাড়িতে জানানোর জন্য।এরপরে আর সময় দিবে না।এখন সবমিলিয়ে করণীয় কি ? বিয়েটা কি শুদ্ধ হয়েছে?
কুফু: মেয়ে বা ছেলের নিজস্ব তেমন কোনো সম্পদ নেই। সৌন্দর্য কাছাকাছি।ছেলে একটু কম দ্বীনদার তবে উচ্ছৃঙ্খল নয় ।রোজা করে ও নামাজ ও পড়ে তবে নিয়মিত নয় অনেকসময়।মেয়েও অনেকসময় নামাজ পড়েনা।তবে চেষ্টায় আছে সব ঠিক করার।ছেলে মেয়ে উভয়েই দান সাদাকা করে । পর্দার বিষয়ে মোটামুটি সচেতন উভয়েই।হারাম হালালের বিষয়েও।তবে ছেলের দ্বীনী জ্ঞান কম মেয়ের চেয়ে। ছেলের পরিবার ও কম দ্বীনদ্বার মেয়ের পরিবারের চেয়ে। তবে উনিশ বিশ। মেয়ের বাবার জমি বেশি ছেলের বাবার চেয়ে। মেয়ে বাড়িতে টিনশেড ঘর ও ছেলের বাড়িতে মেঝে পাকা ঘর। অবস্থা খুব বেশি ফারাক নয় আবার সমান ও নয়। আর ছেলে ইন্টার পর্যন্ত পড়েছে।এরপর গ্যাপ।আবার ডিগ্রিতে হয়তো ভর্তি হবে।মেয়ে অনার্স ১ম বর্ষে। আর বংশ মর্যাদাও একই। মাযহাব ও একই। এখানে কি কুফু ঠিক আছে?
এখন এই বিয়ে পরবর্তীতে পিতা মেনে না নিলে কি হবে? সবমিলিয়ে করণীয় কি?
যদি পিতা -মাতা মেনে না নেয় , মেয়ের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেলো এবং আরো অনেক ভালো ঘরে বিবাহ দিতে পারতেন, এসব আরো অনেক কিছু ভেবে বাবা-মা যদি এই কষ্ট ধরে রাখেন অন্তরে ,মেয়ে যদি দীর্ঘদিনের যিনাহ ও পরবর্তীতে বিবাহ সবমিলিয়ে মেয়ে যদি সংসার করতে চলে যায় তবে কি সে বাবা-মায়ের অবাধ্যকারী সন্তান হিসেবে গণ্য হবে ? অন্য সব দিকে সে বাবা-মায়ের বাধ্য ও চেষ্টা করে তাদের হক আদায় করতে।
আর ছেলে মেয়ে এখনোও মেয়ের বাড়িতে রাতে গোপনে দেখা করে।এটাও কি জায়েজ হবে?