আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
71 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (7 points)
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

গিবত থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি। কিন্তু কোনো না কোনো ভাবে হয়তো আমি বলে ফেলি, কিংবা শুনে তাল মিলিয়ে ফেলে, বা শুনি। আজকে কলেজে গিয়েছিলাম, এক ফ্রেন্ডকে অন্য আরেক ফ্রেন্ডের ব্যাপারে জিগ্যেস করতে সে বললো, তার বিয়ে হয়ে গেছে আবার ডিভোর্স ও হয়ে গেছে। আমি হটাৎ বলে ফেলি, ছোট থাকতে আমরা ওর সাথে যেইইই ঝগড়া করতাম,, ওয় ও করতো যদিও।
এখন আমার মাঝে খারাপ লাগছে যে, এটা কি গীবত হয়ে গেলো নাকি!! গীবত থেকে বেঁচে থাকার কি কোনো দোয়া আছে? থাকলে জানাবেন। আর এটা থেকে বেঁচে থাকার উপায় কি!
২) আমি একটা সময় কয়েক দিন যাবৎ তাহাজ্জুদ পড়তাম। যদিও দেড়ি করে ঘুমাতাম, তাও উঠতাম। কিন্তু এখন আর উঠতে পারি না। এখন আমার কি করণীয়!
৩) যদি কেই এক পাপ বার বার করে ফেলে, আর বার বার তওবা করে, তাহলে কি সেই তাওবা কবুল হয় না???একটা পাপ করে ফেলেছিলাম। অনেক বার তাওবা করেছি। ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু কোনো না কোনো ভাবে আবার সেই একই পাপ হয়ে যায়।
৪) আমার আগে কয়েকজন ছেলে বন্ধু ছিলো, কিন্তু এখন আমি যথেষ্ট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু মাঝে মাঝে তাও কথা হয়ে যায়। মেসেজ দিতে না করেছি, কিন্তু এক্সাম বা কোনো দরকারে যদি মেসেজ দেয় আমি কি রিপ্লাই দিতে পারবো? একজন সালাম দিয়ে রেখেছে আমি উত্তর দেই নি৷ বুজতে পারছি না কি করবো, আগে ওরা আমায় অনেক সাহায্য করতো কিন্তু এখন আমার কি করা উচিত ।
৫) দ্বীনে ফেরার আগে কেমন ছিলাম, তা পরিবার সহ আত্মীয় স্বজন,, আশে পাশের সবাই জানে। কিন্তু যখন বুজলাম এসব ঠিক না,, সব কিছু থেকে একটু একটু সরে আসার চেষ্টা করি। কিন্তু আমার আগের বের্পদা ছবি,, অনেকের ফোনেই থাকতে পারে হয়তোবা। এখন কি করতে পারি, সবাই বলা সম্ভব না।  আমার সামনাসামনি যদিও কেউ বলতে পারে না কিন্তু মানুষ কি বলে না বলে এসব ভেবে অনেক অসস্থি লাগে। (পর্দা নিয়ে মূলত) কি করা উচিত আমার। হারাম সম্পর্ক ছিলো আগে,, কিন্তু এখন নেই। কিন্তু এখন যে পর্দা করি, এ নিয়ে খারাপ ভাবে,, অনেক খারাপ লাগে নিজের মাঝে,, কি করা উচিত।
৬) আমার অজান্তেই যদি রিয়া কাজ করে তাহলে কি করা উচিত।

 ৭) আমাদের প্রেকটিকাল খাতা দিয়েছে কলেজ থেকে এর জন্য ২০০ টাকা নিয়েছে। এখন আমার একটা ফ্রেন্ড, অন্য একটা মেয়ের থেকে পিক তুলে নিয়েছে সেই খাতা থেকে। এখন আমি তাকে বলেছিলম যে ' সেই পিক গুলো আমাকে ও দিতে ' কিন্তু এর আগে যেই মেয়ের থেকে পিক তুলেছে, তার থেকে অনুমতি নিয়ে তারপর আমাকে পিক দিতে৷ নয়তো এতে যদি পাপ হয়। আমার এ কথা টা ঠিক হয়েছে??? এতে কি পাপ হবে যদি সে তার কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে আমাকে পিক গুলো দেয়?
এটা বলায় সে আমাকে কিছু টা এভাবে বলে ( আল্লাহ কি এতো আজাইরা বসে আছে যে এতো ছোট খাটো বিষয়ে ও পাপ দিবো)
আমি বুজতেছি না কি বলবো তখন, তারপর আমি আর এ ব্যাপরে এতো কথা না বাড়িয়ে বলেছিলাম আচ্ছা পিক গুলা দিতে। কিন্তু আমি আর সেখান থেকে লিখি নি। এ কথা গুলো যে বললো,, তাতে আমার মনে হয় পাপ হয়েছে,, আল্লাহ ভালো জানেন। কিন্তু আমি তখন তাকে আর উল্টে প্রতিবাদ করতে পারি নি এমন ভাবে বললো কেন! এখন কি আমার কিছু করার আছে এ বিষয় টা নিয়ে!!! তাওবা করতে হবে খাস দিলে!

1 Answer

0 votes
by (770,280 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
গীবতের গুনাহ খুবই মারাত্মক, তাই আমাদের জানতে হবে যে  গীবত কি?

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الْغِيبَةُ؟» قَالُوا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ» قِيلَ أَفَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ؟ قَالَ: «إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ، فَقَدِ اغْتَبْتَهُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ فَقَدْ بَهَتَّهُ»

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম বলেছেনঃ তোমরা কি জান, গীবত কি? তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ গীবত হল তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে। প্রশ্ন করা হলঃ আমি যা বলেছি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থেকে থাকে, তাহলে আপনি কি বলেন? তিনি বললেনঃ তুমি তার সম্পর্কে যা বলেছ তা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহলেই তুমি তার গীবত করলে। আর যদি তা তার মধ্যে না থাকে, তাহলে তো তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৫৮৯, ৭০, সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-১১৪৫৪, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৭৫৮, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬২৯৩, মুজামে ইবনে আসাকীর, হাদীস নং-১৪১৭, সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-২১১৬৩}

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ [٤٩:١٢] 

মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। {সূরা হুজুরাত-১২}

وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ [١٠٤:١] 

প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ, {সূরা হুমাজা-১}

عَنْ أَبِي سَعْدٍ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا “، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ وَكَيْفَ الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا؟ قَالَ: ” إِنَّ الرَّجُلَ لَيَزْنِي فَيَتُوبُ فَيَتُوبُ اللهُ عَلَيْهِ “وَفِي رِوَايَةِ حَمْزَةَ ” فَيَتُوبُ فَيَغْفِرُ لَهُ، وَإِنَّ صَاحِبَ الْغِيبَةِ لَا يُغْفَرُ لَهُ حَتَّى يَغْفِرَهَا لَهُ صَاحِبُهُ  

হযরত আবু সাঈস এবং জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। উভয়ে বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ গীবত করা ব্যভিচার করার চেয়েও জঘন্য। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! গীবত করা ব্যভিচারের চেয়ে জঘন্য হয় কি করে? রাসূল সাঃ বললেনঃ নিশ্চয় ব্যভিচারকারী ব্যভিচার করে তওবা করে থাকে, ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, কিন্তু গীবতকারীকে ক্ষমা করা হয় না, যতক্ষণ না যার গীবত করেছে সে তাকে ক্ষমা করে। {শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬৩১৫, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৫৯০}

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে গীবত হবে। গীবত থেকে বাঁচতে করণীয় হলো নিজে গীবত করা যাবে না অন্য কেউ গীবত করলে তাকে বারণ করতে হবে। তারপরও সে গীবত করলে সেই স্থান পরিত্যাগ করতে হবে।

(০২)
এশার নামাজের পর দুনিয়াবি কোন কাজ না করে দ্রুত ঘুমিয়ে যাবেন। প্রতিদিন দুপুরের দিকে একটু ঘুমানোর চেষ্টা করবেন।

রাত্রে ঘুমানোর আগে তাহাজ্জুদের এলার্ম দিবেন। 

এলার্ম দেওয়া মোবাইলটি নিজের কাছে না রেখে এতটা দূরে রাখবেন, যাতে এলার্ম বন্ধ করার জন্য খাট থেকে নেমে হেটে আসতে হয়।

(০৩)
খালেস দিলে, অনুতপ্ত হৃদয়ে তওবা করলে এবং ভবিষ্যতে সেই গুনাহ পুনরায় না করার ওয়াদা বদ্ধ হলে সেক্ষেত্রে সে তওবা কবুল হবে।

অন্যথায় নয়।

(০৪)
রিপ্লাই দিবেন না।

(০৫)
যাদের ফোনে আপনার ছবি আছে, তাদেরকে বুঝিয়ে সে ছবিগুলো ডিলিট করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে খালেছ দিলে তওবা করতে হবে।

(০৬)
নিয়ত পরিশুদ্ধ করে নিতে হবে।

(০৭)
অন্যের খাতা থেকে সাহায্য নিয়ে এভাবে প্রাকটিক্যাল খাতা পূরণ করা ঠিক হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...