আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
42 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

২০২২ সালে একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার জন্য আমি আমার খালাতো ভাইয়ের স্ত্রীর কাছ থেকে একটি রূপার সেট (তাদের ভাষ্যমতে প্রায় ৫ ভরি) ধার নিয়েছিলাম। সেটটি আমি ব্যবহার করিনি, যেভাবে নিয়েছিলাম সেভাবেই প্যাকেট করা অবস্থায় ছিল। পরবর্তীতে বাসা পরিবর্তনের কারণে বিষয়টি আমার মনে ছিল না, তাই তখন সেটটি ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি।

২০২৪ সালে বিষয়টি মনে পড়লে আমি আমার স্বামীর মাধ্যমে সেটটি ফেরত পাঠাই। আমার স্বামী তাদের বাসার নিচে গিয়ে সরাসরি আমার খালাতো ভাইয়ের হাতেই সেটটি দিয়ে আসেন। কিন্তু কিছুদিন আগে আমার খালাতো ভাই ফোন করে জানতে চান কেন এখনো তাদের সেটটি ফেরত দেওয়া হয়নি এবং দ্রুত সেটটি ফেরত দিতে বলেন। তখন আমার স্বামী তাকে জানান যে, তিনি ইতোমধ্যে সেটটি তার হাতেই দিয়ে এসেছেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে তার কাছে কোনো সেট দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে তারা বিভিন্ন জায়গায়—রাস্তা-ঘাটে, আত্মীয়-স্বজনের বাসায় গিয়ে এবং ফোন করে—আমাকে ও আমার স্বামীকে অপমান ও অপদস্থ করছেন। আমি পর্দা করি, তাই আমাকে কটূক্তি করে বলা হচ্ছে যে, ঘরে বসে হুজুর সেজে চুরি করলে হবে না, রাস্তায় নেমে চুরি করতে। এতে আমি মানসিকভাবে খুব কষ্ট পাচ্ছি।

এদিকে বর্তমানে আমার আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। এই মুহূর্তে নতুন করে সেই রূপার সেট বা তার বর্তমান মূল্য পরিশোধ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, সেটটি তারা ২০০৫ সালে কিনেছিলেন, তখন রুপার দাম অনেক কম ছিল; কিন্তু বর্তমানে এর মূল্য অনেক বেশি।

প্রশ্ন: এমন পরিস্থিতিতে শরীয়তের দৃষ্টিতে আমার করণীয় কী?

1 Answer

0 votes
by (763,590 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

আল্লাহ তা'আলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى فَاكْتُبُوهُ ۚ وَلْيَكْتُب بَّيْنَكُمْ كَاتِبٌ بِالْعَدْلِ ۚ وَلَا يَأْبَ كَاتِبٌ أَن يَكْتُبَ كَمَا عَلَّمَهُ اللَّهُ ۚ فَلْيَكْتُبْ وَلْيُمْلِلِ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ وَلْيَتَّقِ اللَّهَ رَبَّهُ وَلَا يَبْخَسْ مِنْهُ شَيْئًا ۚ فَإِن كَانَ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ سَفِيهًا أَوْ ضَعِيفًا أَوْ لَا يَسْتَطِيعُ أَن يُمِلَّ هُوَ فَلْيُمْلِلْ وَلِيُّهُ بِالْعَدْلِ ۚ وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِن رِّجَالِكُمْ ۖ فَإِن لَّمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّن تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ أَن تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَىٰ ۚ وَلَا يَأْبَ الشُّهَدَاءُ إِذَا مَا دُعُوا ۚ وَلَا تَسْأَمُوا أَن تَكْتُبُوهُ صَغِيرًا أَوْ كَبِيرًا إِلَىٰ أَجَلِهِ ۚ ذَٰلِكُمْ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ وَأَقْوَمُ لِلشَّهَادَةِ وَأَدْنَىٰ أَلَّا تَرْتَابُوا ۖ إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً حَاضِرَةً تُدِيرُونَهَا بَيْنَكُمْ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَلَّا تَكْتُبُوهَا ۗ وَأَشْهِدُوا إِذَا تَبَايَعْتُمْ ۚ وَلَا يُضَارَّ كَاتِبٌ وَلَا شَهِيدٌ ۚ وَإِن تَفْعَلُوا فَإِنَّهُ فُسُوقٌ بِكُمْ ۗ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ وَيُعَلِّمُكُمُ اللَّهُ ۗ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ঋনের আদান-প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও এবং তোমাদের মধ্যে কোন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে তা লিখে দেবে; লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। আল্লাহ তাকে যেমন শিক্ষা দিয়েছেন, তার উচিত তা লিখে দেয়া। এবং ঋন গ্রহীতা যেন লেখার বিষয় বলে দেয় এবং সে যেন স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করে এবং লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্রও বেশ কম না করে। অতঃপর ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ হয় কিংবা দূর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখাবে। দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন ডাকা হয়, তখন সাক্ষীদের অস্বীকার করা উচিত নয়। তোমরা এটা লিখতে অলসতা করোনা, তা ছোট হোক কিংবা বড়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এ লিপিবদ্ধ করণ আল্লাহর কাছে সুবিচারকে অধিক কায়েম রাখে, সাক্ষ্যকে অধিক সুসংহত রাখে এবং তোমাদের সন্দেহে পতিত না হওয়ার পক্ষে অধিক উপযুক্ত। কিন্তু যদি কারবার নগদ হয়, পরস্পর হাতে হাতে আদান-প্রদান কর, তবে তা না লিখলে তোমাদের প্রতি কোন অভিযোগ নেই। তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সাক্ষী রাখ। কোন লেখক ও সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করো না। যদি তোমরা এরূপ কর, তবে তা তোমাদের পক্ষে পাপের বিষয়। আল্লাহকে ভয় কর তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। আল্লাহ সব কিছু জানেন।(সূরায়ে বাকারা-২৮২)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন,
ইসলামের নীতিমালা হলো ঋণ আদান প্রদানের সময় লিখে রাখা উচিত, যাতে পরবর্তীতে কে অস্বীকার করতে না পারে,বা অন্য কোনো সমস্যা না হয়।

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনারা ইসলামের সেই নীতিমালার উপর আমল করেননি বরং কাউকে সাক্ষী না রেখে বা কোনরুপ লিখিত কাগজ এ উভয়পক্ষের স্বাক্ষর ছাড়াই সে গহনাটি ফেরত দিয়েছেন।

বর্ণিত অবস্থায় আপনাদের জন্য পুনরায় সে গহনা ফেরত দেওয়া আবশ্যক নয়।

এমতাবস্থায় তারা আরও সমস্যা সৃষ্টি করলে পারিবারিক মুরব্বিদের মাধ্যমে সেটি সমাধান করার চেষ্টা করবেন। তাতেও সমাধান না হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...